বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বাড়তি চাহিদার কারণে রেকর্ড মুনাফা করেছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির মুনাফা ৩৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে আরো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে টিএসএমসি জানায়, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে টিএসএমসির শেয়ারদরও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে টিএসএমসির আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কোম্পানিটি।
উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ তৈরিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে টিএসএমসি। এসব চিপ এআই, স্মার্টফোন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে এনভিডিয়া ও অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা। টিএসএমসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সি সি ওয়েই জানান, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার একটি ‘এআই মেগা ট্রেন্ড’ তৈরি করেছে, যা কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
এআই প্রযুক্তির এ উত্থানের ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে টিএসএমসির বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে টিএসএমসি। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এর আগে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তিনটি কারখানা স্থাপনের জন্য ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় টিএসএমসি, যার একটি এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে সি সি ওয়েই জানান, অ্যারিজোনায় চতুর্থ কারখানা ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম উন্নত চিপ প্যাকেজিং প্লান্ট নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সেখানে অতিরিক্ত জমিও কেনা হয়েছে। একাধিক বড় কারখানার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘গিগাফ্যাব’ ক্লাস্টার উৎপাদন খরচ কমাতে এবং গ্রাহকদের আরো ভালোভাবে সেবা দিতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
তবে বড় অংকের বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে টিএসএমসি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরে মূলধনি ব্যয় ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। এআই খাতে সম্ভাব্য অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন সি সি ওয়েই। তিনি জানান, বিনিয়োগে ভুল হলে তা কোম্পানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তাই হিসাব করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।










