হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীরা ক্রমাগত উন্মুক্ত বা ওপেন-সোর্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, বড় এআই প্লাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা বলয় এড়িয়ে অপরাধীরা ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এসব মডেল চালিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, অপরাধীরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির মতো অপরাধ করছে। খবর রয়টার্স।
অপব্যবহারের ঝুঁকি
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সেন্টিনেল-ওয়ান ও সেনসিসের একটি যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, হ্যাকাররা সহজেই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) চালিত কম্পিউটারগুলোকে নিশানা করতে পারছে। একবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তারা এআই ব্যবহার করে স্প্যাম মেইল, ফিশিং ইমেইল ও ভুয়া খবর প্রচার সংক্রান্ত কার্মকাণ্ড চালাচ্ছে। গবেষকরা ২৯৩ দিন ধরে এ পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখেছেন, হাজার হাজার উন্মুক্ত এআই মডেল হ্যাকিং, হয়রানি ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহারের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
‘আইসবার্গ’ বা হিমশৈল ঝুঁকি
সেন্টিনেল-ওয়ান-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক হুয়ান আন্দ্রেস গেরেরো-সাদে এ পরিস্থিতিকে একটি ‘আইসবার্গ’ বা হিমশৈলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি খাত বর্তমানে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এর গভীরে থাকা বিশাল একটি অংশ অপরাধীরা ব্যবহার করছে, যা আমাদের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকে এসব এআই মডেলের সুরক্ষাকবচ বা ‘গার্ডরেল’ ইচ্ছা করেই সরিয়ে ফেলেছেন, যাতে সেগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।
বৈশ্বিক প্রভাব ও উদ্বেগ
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, পর্যবেক্ষণ করা এআই মডেলগুলোর মধ্যে অন্তত সাত দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হওয়ার মতো অবস্থায় ছিল। এসব ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেমের প্রায় ৩০ শতাংশ চীনে এবং ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেটার ‘লামা’ বা গুগলের ‘জেমা’-র মতো জনপ্রিয় মডেলগুলো যখন উন্মুক্ত করা হয়, তখন সেগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হবে তার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্মিলিত দায়বদ্ধতা
গ্লোবাল সেন্টার অন এআই গভর্ন্যান্সের প্রধান নির্বাহী রাচেল অ্যাডামস জানান, এআই ল্যাবগুলোর উচিত সম্ভাব্য ক্ষতিগুলো আগে থেকে আঁচ করা এবং ঝুঁকি কমানোর হাতিয়ার তৈরি করা। এ বিষয়ে মেটা জানিয়েছে, তারা ডেভেলপারদের জন্য ‘রেসপন্সিবল ইউজ গাইড’ বা দায়িত্বশীল ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করে। মাইক্রোসফটও জানিয়েছে, তারা জনসমক্ষে কোনো মডেল ছাড়ার আগে নিরাপত্তা যাচাই করে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই প্রযুক্তি যেন বৈশ্বিক অপরাধের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে জন্য আরো কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।










