ইউটিউবে মোট ভিডিওর সংখ্যা ২৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৯০০ কোটি অতিক্রম করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ছোট ভিডিওর জনপ্রিয়তা এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।
ওমডিয়ার সিনিয়র অ্যানালিস্ট দাউদ জ্যাকসন জানিয়েছেন, ইউটিউব বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও পরিষেবা। ২০২৬ সালের শুরুতেই প্লাটফর্মটি ৩০ বিলিয়ন বা তিন হাজার কোটি ভিডিওর মাইলফলক স্পর্শ করার পথে রয়েছে।
তবে এ বিশালসংখ্যক ভিডিওর আড়ালে একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে ওমডিয়া। ইউটিউবের মোট ভিডিওর মধ্যে ৯৯ শতাংশ ভিডিওই মানুষ খুব একটা দেখে না। এ বিশাল অংশের ভিডিওগুলো মোট ‘ভিউয়িং টাইমের’ মাত্র ৯ শতাংশ দখল করে আছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইউটিউবে এখন পর্যন্ত যত ভিডিও আপলোড হয়েছে, সব একটানা দেখলে সময় লাগবে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার বছর।
বিশ্লেষক দাউদ জ্যাকসন বলছেন, ‘ইউটিউবের বিশাল ভিডিও ভাণ্ডার এখন গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জেমিনির ভিডিও প্রশিক্ষণের ডেটা হিসেবে কাজ করছে। অর্থাৎ প্লাটফর্মে আপলোড করা ভিডিও বিশ্লেষণ করেই গুগলের এআইকে আরো উন্নত ও বুদ্ধিমান করে তোলা হচ্ছে।’
অনেকের মতে, ২০২৬ সালে এসে ইউটিউব এখন কেবল আর শখের ভিডিও শেয়ারিং সাইট নেই; এটি পেশাদার কনটেন্ট, মিউজিক ভিডিও, সংবাদ ও পডকাস্টের একটি শক্তিশালী প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
ওমডিয়া বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের গতি খুব দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে যত ইউটিউব ভিডিও আপলোড হয়েছে, তার ২৫ শতাংশই বছরের প্রথম ১০ মাসের। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও বা শর্টের কথা উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। এখন ইউটিউবে আপলোড হওয়া ৯০ শতাংশের বেশি ভিডিওই শর্টস।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের শর্ট ভিডিও জনপ্রিয়তার কারণে ইউটিউবের দর্শক কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তবে সে শঙ্কার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্লাটফর্মগুলোর প্রভাব বাড়লেও ইউটিউব তার দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গুগলের এ ভিডিও শেয়ারিং পরিষেবায় ১১ কোটির বেশি চ্যানেল রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭০ হাজার কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১০ লাখের ঊর্ধ্বে।










