বৈশ্বিক চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর খাতের বার্ষিক আয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ লাখ কোটি (১ ট্রিলিয়ন) ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অভাবনীয় চাহিদাই এ খাতের আয় বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওমডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় আগের বছরের তুলনায় বাড়বে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে এ প্রবৃদ্ধির হার আরো বেড়ে ৩০ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছবে। মূলত মেমরি ও লজিক চিপের রেকর্ড বিক্রির ওপর ভর করেই এ মাইলফলক অর্জন হতে যাচ্ছে।
ওমডিয়ার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অ্যানালিস্ট ম্যাসন রোবলস-ব্রুস বলেন, ‘২০২৬ সালে চিপ খাতের এ প্রবৃদ্ধি মূলত এআই-কেন্দ্রিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে। এখানে সাধারণ ক্রেতাদের আচরণ বা শিল্প খাতের পুরনো ধারার প্রভাব খুব কম। মেমোরি ও লজিক আইসির অবদান বাদ দিলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৮ শতাংশে নেমে আসত। এআই যে বর্তমানে পুরো বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে, এ পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’
ওমডিয়ার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কম্পিউটিং ও ডাটা স্টোরেজ বিভাগ প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে। ২০২৬ সালে এ খাতের আয় ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত ডাটা সেন্টার সার্ভার ও এআইযুক্ত ল্যাপটপের চাহিদা বাড়ার কারণে এমনটা হচ্ছে। এছাড়া শীর্ষ চারটি হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে তাদের মূলধনি ব্যয়ের প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার এআই অবকাঠামো ও মডেল তৈরির পেছনে ব্যয় করছে।
অন্যদিকে কনজিউমার ইলেকট্রনিকস বা ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত ডিভাইসের বাজারেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পরের প্রজন্মের ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন স্মার্টফোন এবং অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব ফোনে ব্যবহৃত উন্নত এআই ফটোগ্রাফি এবং নতুন প্রযুক্তির কারণে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার বাড়বে। এছাড়া স্মার্ট ওয়াচ ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) হেডসেটের মতো পরিধানযোগ্য ডিভাইসের বাজারও বেশ চাঙ্গা হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
সম্ভাবনাময় এ পূর্বাভাসের মাঝে কিছু ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে ওমডিয়া। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা এখনো রয়ে গেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শ্রম ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ চেইনের সংকট প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া এআই খাতে বড় আকারের বিনিয়োগের ফলে বাজারে কাঁচামালের স্বল্পতা বা দামের অস্থিরতা তৈরি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রযুক্তির বিবর্তনে ২০২৬ সাল চিপ খাতের জন্য একটি স্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে।










