২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি পরিষেবা এবং সফটওয়্যার খাতে ব্যয়ের পরিমাণ সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে ম্যানেজড (বিশেষজ্ঞ কোম্পানি দিয়ে আইটি কাজ পরিচালনা) ও ক্লাউড-ভিত্তিক পরিষেবার জন্য ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের আউটসোর্সিং চুক্তি করেছে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। এ বাবদ প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ব্যয় করেছে রেকর্ড ৩ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার। এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন সার্ভিসেস গ্রুপের (আইএসজি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, প্রযুক্তি পরিষেবা ও সফটওয়্যার হলো কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ক্লাউড ব্যবহার করে ব্যবসা বা কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও প্রোগ্রাম।
আইএসজির বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি এখন পুরোপুরি এআই-কেন্দ্রিক প্রযুক্তি বিপ্লবের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আগামী বছরগুলোয় এ খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে বেশির ভাগ প্রবৃদ্ধি এসেছে ক্লাউড-ভিত্তিক সফটওয়্যার ও সেবা খাত থেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোম্পানিগুলো এখন নিজস্ব আইটি পরিকাঠামো তৈরির বদলে ক্লাউড ও এআই অবকাঠামোর পেছনে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। এ প্রবণতাই প্রযুক্তি বাজারের প্রবৃদ্ধিকে সচল রেখেছে।
ইনফরমেশন সার্ভিসেস গ্রুপ চিফ এআই অফিসার স্টিভ হল বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিসেবা ও সফটওয়্যার বাজারে সম্প্রতি যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে, এর মূলে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যাপক চাহিদা। কোম্পানিগুলো এখন এআই প্রযুক্তিকে ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে, যা সামগ্রিক প্রযুক্তি বাজারকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’
তিনি জানান, প্রথাগত শ্রমনির্ভর সেবাগুলো গত বছর বেশ চাপের মুখে ছিল। যেসব কাজে মানুষের সরাসরি শ্রম বেশি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রগুলোয় ব্যয় না বাড়িয়ে কোম্পানিগুলো বরং প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশনের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। সামনের দিনে এ প্রবণতা আরো বাড়বে।
সব ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির চিত্র সমান নয়। ক্লাউড ও এআই বাজারের রেকর্ড প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ‘পরিচালিত সেবা’ বা ম্যানেজড সার্ভিসেসের বাজারে কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে খাতটির আয় ছিল ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ কম।
শিল্পভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন, খুচরা বিক্রয় ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তি ব্যয় বাড়লেও ব্যাংক ও আর্থিক সেবা (৫ শতাংশ), উৎপাদন (৪২ শতাংশ) এবং টেলিযোগাযোগের (৩০ শতাংশ) মতো বড় সেক্টরগুলো ব্যয়ের ক্ষেত্রে গত বছর বেশ রক্ষণশীল ছিল।
চলতি বছরের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি বাজারের একটি পূর্বাভাস দিয়েছে গবেষণা সংস্থা আইএসজি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামনের দিনে প্রযুক্তির মূল ধারা হবে ক্লাউড ও এআই। ক্লাউড-ভিত্তিক সফটওয়্যার ও সেবা খাতে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মূলত এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই কোম্পানিগুলো এ খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে। এছাড়া প্রথাগত পরিচালিত সেবা খাতে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে আইএসজি।










