বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ, কাজ, বিনোদন—সবকিছুতেই আমরা ফোনের ওপর নির্ভরশীল। তবে এ সুবিধার পাশাপাশি স্মার্টফোন আমাদের অবস্থান, অ্যাপ ব্যবহারের ধরন, ইন্টারনেট ব্রাউজিংসহ নানা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্য অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে যায়। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম পকেট-লিন্টে প্রকাশিত একটি ফিচার প্রবন্ধে একজন ব্যবহারকারী দেখিয়েছেন, কীভাবে ফোনের কাজ নষ্ট না করেই অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কমানো যায়। এখানে সেই পদ্ধতিগুলো তুলে ধরা হলো —
গুগলের সঙ্গে তথ্য শেয়ার কমানো
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের কিছু সেটিংস ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার নামে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ‘ইউজেস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস’ উল্লেখযোগ্য। এই সেটিংস চালু থাকলে কোন অ্যাপ কতবার ব্যবহার করা হচ্ছে বা নেটওয়ার্কের মান কেমন—এসব তথ্য গুগলের সঙ্গে শেয়ার হয়। ব্যবহারকারীরা চাইলে Settings > Google > All Services > Usage and diagnostics থেকে এ অপশন বন্ধ করতে পারেন। এতে ফোনের স্বাভাবিক কাজকর্মে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না।
পার্সোনালাইজড ডাটা ব্যবহার বন্ধ করা
গুগল ম্যাপস, জিমেইল, ডিভাইস কনট্যাক্টসসহ বিভিন্ন সেবা থেকে তথ্য নিয়ে তা বিজ্ঞাপন বা তৃতীয় পক্ষের কাজে ব্যবহার করে। ‘Personalize using shared data’ নামের সেটিংসটি বন্ধ করলে এ ধরনের তথ্য ব্যবহার কমানো যায়। এর জন্য Settings > Google > Personalize using shared data অপশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলোর টিক চিহ্ন তুলে দিতে হবে।
অ্যাপের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ
অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে। এক্ষেত্রে ‘নেটগার্ড’ নামের একটি বিনা মূল্যের বা ওপেন সোর্স অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাপটি ফোনে একটি লোকাল ভিপিএন তৈরি করে এবং ব্যবহারকারী ঠিক করতে পারেন, কোন অ্যাপ মোবাইল ডাটা বা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করবে। এতে অপ্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান কমে যায়।
প্রাইভেসি-ভিত্তিক ব্রাউজার ব্যবহার
ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময়ও প্রচুর তথ্য সংগ্রহ হয়। গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহারকারীর সার্চ হিস্ট্রি, ব্রাউজিং অভ্যাস ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। বিকল্প হিসেবে ডাকডাকগো ও ব্রেভ ব্রাউজার ব্যবহার করা যেতে পারে। ডাকডাকগো ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা বা প্রোফাইল সংরক্ষণ করে না এবং থার্ড-পার্টি ট্র্যাকার ব্লক করে। ব্রেভ ব্রাউজারে বিল্ট-ইন অ্যাড ব্লকার ও ট্র্যাকিং সুরক্ষা সুবিধা রয়েছে।
লোকেশন ট্র্যাকিং বন্ধ রাখা
নেভিগেশন অ্যাপ ছাড়া অধিকাংশ অ্যাপের জন্য লোকেশন প্রয়োজন হয় না। তাই প্রয়োজন না হলে লোকেশন বন্ধ রাখা ভালো। কুইক সেটিংস প্যানেল থেকে সহজেই লোকেশন অন বা অফ করা যায়। এছাড়া Settings > Apps থেকে নির্দিষ্ট অ্যাপের লোকেশন পারমিশন ‘Only while using’ বা ‘Don’t allow’ করে দেয়া যায়।
লোকেশন অ্যাকিউরেসি কমানো
অ্যান্ড্রয়েড ফোন ওয়াই-ফাই, মোবাইল টাওয়ার ও সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করে লোকেশন আরো নির্ভুল করে। এটি বন্ধ করতে Settings > Location > Location services > Location Accuracy অপশনে গিয়ে ‘Improve Location Accuracy’ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ওয়াই-ফাই স্ক্যানিং বন্ধ রাখলে লোকেশন ট্র্যাকিং আরো কমে যায়।
সামান্য কিছু সেটিংস পরিবর্তন ও সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব। এতে ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয় না, আবার নজরদারিও ঠেকানো সম্ভব হয়।










