সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা ভিডিও গেম খেললে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ে না বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও বিষণ্নতা বা উদ্বেগের ঝুঁকি তৈরি হয় না বলে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তিন বছর ধরে ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। গবেষণাটি এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন বিভিন্ন দেশ কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে।
গবেষণায় ১১-১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ কর্মদিবসে শিক্ষার্থীরা টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটে কতক্ষণ সময় দেয়, সে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের মেজাজ, অনুভূতি ও সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা ঘন ঘন গেম খেলার কারণে পরবর্তী এক বছর তাদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ বা বিষণ্নতার লক্ষণ বাড়েনি।
অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের তথ্য আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ছেলে বা মেয়ে কারোর ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির এ ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।
গবেষণার প্রধান লেখক কিকি চেং জানিয়েছেন, অনেক পরিবার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল সময় কাটানোর কারণে মানসিক সমস্যা তৈরি হয় না। তার মতে, বিষয়টি সাধারণ ধারণার চেয়ে বেশি জটিল। গবেষণাটি জার্নাল অব পাবলিক হেলথে প্রকাশ হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের অনলাইন আচরণের ধরনও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে চ্যাট করা বা কেবল ছবি ও ভিডিও স্ক্রল করার সঙ্গে মানসিক সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, অনলাইন জগৎ সবসময় নিরাপদ নয়। তারা জানান, অনলাইনে আসা কোনো আপত্তিকর বার্তা বা উগ্র বিষয়বস্তু মানসিক শান্তির ক্ষতি করতে পারে। তাই শুধু স্ক্রিন টাইম কমানোর দিকে জোর দেয়া যথেষ্ট নয়।
গবেষণার সহলেখক নীল হামফ্রে বলেছেন, ‘তরুণদের মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তাদের অনলাইন পছন্দ বদলে যেতে পারে। তবে প্রযুক্তি নিজে থেকে সমস্যা সৃষ্টি করে না। প্রযুক্তিকে দোষারোপ না করে তরুণরা অনলাইনে কী করছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং বাস্তবে কতটা সহায়তা পাচ্ছে, সেদিকে নজর দেয়া প্রয়োজন।’










