আধুনিক বিশ্বের পথপ্রদর্শক প্রযুক্তি গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএসের অন্যতম নেপথ্য কারিগর ও প্রখ্যাত গণিতবিদ ড. গ্ল্যাডিস ওয়েস্ট মারা গেছেন। গত ১৭ জানুয়ারি ভার্জিনিয়ায় নিজ বাসভবনে ৯৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে নিভৃতে কাজ করা এ নারী গণিতবিদের গাণিতিক মডেলগুলোই আজকের আধুনিক জিপিএস ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। বর্তমানে বিমান চলাচল, জরুরি সেবা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে জিপিএস যে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে, তার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। খবর এনগ্যাজেট

গ্ল্যাডিস ওয়েস্ট ১৯৩০ সালে আমেরিকার ভার্জিনিয়ার এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সময়ে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর চলা বর্ণবৈষম্য ও কঠোর আইনের মধ্যেও তিনি দমে যাননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে তিনি ভার্জিনিয়া স্টেট কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ডালগ্রেনে অবস্থিত নৌবাহিনীর নেভাল সারফেস ওয়ারফেয়ার সেন্টারে গণিতবিদ হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী কর্মী। চার দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জন্য বিজ্ঞানের দুনিয়ায় পথ তৈরি করে গেছেন।

সত্তরের ও আশির দশকে তার মূল কাজ ছিল স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পৃথিবীর আকৃতির একটি নির্ভুল গাণিতিক মডেল তৈরি করা। তার তৈরি এ মডেলগুলোই পরবর্তীতে জিপিএস প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৯৮ সালে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৪২ বছর এই গবেষণা কেন্দ্রে কাজ করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার এই বিশাল অবদানের কথা বিশ্ববাসীর অজানা ছিল।

২০১৮ সালে আলফা কাপা আলফা সোররিটির একটি অনুষ্ঠানে স্বল্প জীবনী জমা দেয়ার পর তার কাজের কৃতিত্বের কথা প্রকাশ্যে আসে। এরপরই তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি ও সম্মান পেতে শুরু করেন। ওই বছরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী স্পেস ও মিসাইলস পায়োনিয়ার্স হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন এবং কৃষ্ণাঙ্গদের ঐতিহাসিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো (এইচবিসিইউএস) থেকে ‘ফিমেল অ্যালামনা অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে সম্মানিত হন।

মজার বিষয় হলো, পুরো বিশ্বকে পথ দেখানোর প্রযুক্তি তৈরিতে সাহায্য করলেও ড. ওয়েস্ট ব্যক্তিগত জীবনে কাগজের ম্যাপ ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করতেন। ২০২০ সালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রযুক্তির চেয়ে তিনি নিজের চোখের দেখা ম্যাপের ওপর বেশি আস্থা রাখতেন।