সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের আসক্তি তৈরি এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগে নজিরবিহীন এক বিচারের মুখোমুখি হয়েছে প্রযুক্তি বিশ্বের দুই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান মেটা ও ইউটিউব। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে সম্প্রতি এ ঐতিহাসিক আইনি লড়াই শুরু হয়। প্রথমবারের মতো কোনো জুরি বা সাধারণ বিচারক প্যানেলের সামনে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে এই টেক জায়ান্টরা। খবর সিএনএন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৯ বছর বয়সী তরুণী কেজিএম (ছদ্মনাম) এবং তার মা কারেন গ্লেন এ মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, মেটার ইনস্টাগ্রাম ও গুগলের ইউটিউব জেনেশুনে এমন সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যা শিশুদের মগজকে আসক্ত করে ফেলে। কেজিএম জানান, মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে এসব অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি আজ চরম বিষণ্নতা, অনিদ্রা ও আত্মঘাতী চিন্তার শিকার। তার শৈশব ও কৈশোর কেড়ে নিয়েছে এই ‘ডিজিটাল আসক্তি’।
শুরুতে এ মামলায় টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটও অভিযুক্ত ছিল। তবে বিচার শুরুর আগমুহূর্তে প্রতিষ্ঠান দুটি বাদীর সঙ্গে আদালতের বাইরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এখন মেটা ও ইউটিউবকে এ আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। মামলার তদারকি করছেন লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ক্যারোলিন কুল। বিচারিক প্রক্রিয়াটি আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ বা বিরতিহীন ভিডিও দেখার সুযোগ এবং বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর মতো বিষয়গুলো শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তৈরি। এর ফলে শিশুরা দীর্ঘসময় স্ক্রিনে আটকে থাকে, যা তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। শুধু তা-ই নয়, ক্ষতিকর কনটেন্ট বা ভিডিওর কারণে অনেক কিশোর-কিশোরী হীনম্মন্যতায় ভুগছে।
তবে মেটা ও ইউটিউব এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিশোরদের সুরক্ষায় ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ এবং ‘প্যারেন্টাল টুলস’ ব্যবস্থা চালু করেছে তারা। ইউটিউব জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে কাজ করছে। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে মানসিক ক্ষতির কোনো সরাসরি যোগসূত্র বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত নয়।
আইনি বিশেষজ্ঞরা এ মামলার রায় প্রযুক্তি বিশ্বের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এ ধরনের প্রায় দেড় হাজার মামলা ঝুলে আছে। যদি জুরিরা কোম্পানিগুলোকে দোষী সাব্যস্ত করেন, তবে তাদের বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে। অনেক অধিকারকর্মী এ বিচারকে তামাক কোম্পানিগুলোর ঐতিহাসিক বিচারের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছিল।










