বাংলাদেশের কৃষি খাত জাতীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তি এবং খাদ্যনিরাপত্তার মূল ভিত্তি। স্বাধীনতার পর কৃষি উৎপাদনে অর্জিত সাফল্যের আড়ালে রয়েছে আরেক বাস্তবতা—রাসায়নিক উপকরণনির্ভর কৃষি, মাটির উর্বরতা হ্রাস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। ফলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার অনিবার্যতা এখন সময়ের দাবি।
জাতীয় কৃষি নীতি ২০১৮, জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০ ও জাতীয় জৈব কৃষি নীতি ২০১৬—এ তিনটি নীতির লক্ষ্য ও কাঠামো কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। তবে এর মধ্যে লক্ষ্যগত দ্বৈততা ও বাস্তবায়নের অমিল কৃষি খাতের রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করছে। উৎপাদনশীলতা ও রফতানিমুখী কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিবেশসম্মত ও পুষ্টিনির্ভর কৃষির ধারণা প্রায়ই উপেক্ষিত হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে এগ্রোইকোলজিক্যাল বা পরিবেশসম্মত কৃষির ধারণা যে কেবল বিকল্প নয়, বরং ভবিষ্যৎ কৃষির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে, এ পথরেখা তৈরির লক্ষ্যে এগ্রোইকোলজি কোয়ালিশন বাংলাদেশ, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জার্মানিভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে ও বণিক বার্তার উদ্যোগে ৬ নভেম্বর ২০২৫ বণিক বার্তার প্রধান কার্যালয়ে ‘জাতীয় কৃষি নীতির বিভিন্ন দিক এবং কৃষি খাদ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ’ শীর্ষক একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে; যেখানে দেশের নীতিনির্ধারক, কৃষিবিদ, কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক, কৃষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান
সচিব
কৃষি মন্ত্রণালয়
আমার সবাই যার যার জায়গায় কাজ করছি। আমাদের আছে সম্পদ, চিন্তা ও উদ্যোগ, তবে তা একক বা ক্ষুদ্র আকারে। তাই সার্বিক ফলাফল পেতে হলে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। আমি মনে করি, কৃষি খাত হচ্ছে একমাত্র ক্ষেত্র যেটা দিয়ে আমরা দেশের পুরো অর্থনীতিকে পরিচালনা করতে পারি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বা রফতানি বাড়াতে চাইলে আমাদের কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে স্থানীয় দক্ষতার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিকেও গ্রহণ করতে হবে। কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে রয়েছে দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা। ফলে গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটলেও সেটাকে মাঠে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। আমরা বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের আলোকে এ দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা দূর করার পাশাপাশি মূল্যায়নের মাধ্যমে কিছু প্রকল্প স্থগিত বা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে, যা মানুষসহ সব প্রাণীর নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করবে। এ চাহিদা নির্ধারণে ১৩টি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পদ পরিকল্পনা, শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, স্থিতিশীল অর্থায়ন, উত্তম কৃষি অনুশীলন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, চাহিদা ও সরবরাহ সমন্বয়, যুব ও নারীকেন্দ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভ্যালুচেইন শক্তিশালীকরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি। পার্বত্য এলাকায় কৃষি ও পর্যটনকে কীভাবে একত্রে এগিয়ে নেয়া যায় সেটি নিয়ে মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে। ফসল সংগ্রহের সময় শস্যের ১০-১৫ শতাংশ নষ্ট হয়; যা হ্রাস করা আমাদের অগ্রাধিকার। কৃষি খাতের বাজেটের ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে যায়, যার ৮০ শতাংশই রাসায়নিক সার ও কীটনাশকে ব্যয় হয়। এই নির্ভরতা কমানো জরুরি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে জৈব কৃষির উপকারিতা ও রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব প্রচার করতে হবে।

ফজলুল কাদের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)
দেশের কৃষি খাত থেকে মাত্র ৬ শতাংশ রিটার্ন অব ইন্টারেস্ট আসে, যা অন্য কোনো খাতের তুলনায় কম। কৃষক চান না তাদের সন্তানরা এ পেশায় আসুক, কারণ উৎপাদন বাড়লেও মুনাফা আগের মতো বাড়েনি। আমরা জৈব কৃষি নয়, এগ্রোইকোলজি ব্যবস্থার পক্ষে। এজন্য শিক্ষিত কৃষক প্রয়োজন। প্রায় একশ বছর আগে আমরা সাড়ে চারশ ধরনের উদ্ভিজ্জ খাবার খেতাম, এখন বৈচিত্র্য কমে গেছে। জমিতে রাসায়নিক সারের মাত্রা হঠাৎ কমানো সম্ভব নয়, তবে কয়েক বছরের চেষ্টায় এ আসক্তি নিরাময় করা যায়। অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের কারণে নানা রোগ বাড়ছে; দেশের ক্যান্সার আক্রান্তের ৩৬ শতাংশ কৃষক। আগে নিরাপদ খাদ্যের ওপর জোর ছিল, এখন পুষ্টিনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। শ্রমজীবীর প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষিকাজে যুক্ত, কিন্তু জিডিপিতে কৃষির অবদান মাত্র ১৪ শতাংশ। জাতীয় গড় আয়ের মাত্র সাড়ে তিন ভাগ তাদের আয়। কৃষিতে পলিসি আছে, কিন্তু সঠিক বাস্তবায়ন নেই। তাই খাদ্য গ্রহণের ধরন ও কৃষির আয়ের কাঠামো পরিবর্তন জরুরি।

এস এম সোহরাব উদ্দিন
মহাপরিচালক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
অর্গ্যানিক ফার্মিং প্রয়োজন বলে আমরা প্রায়ই বলি, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। জনসংখ্যা বেশি ও খাদ্য চাহিদা বেশি হওয়ায় পুরোপুরি অর্গ্যানিক ফার্মিং ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা, সরকারি দপ্তরগুলো একসময় মানুষকে উৎসাহিত করে বলেছি, ‘পোকা ফসল খাচ্ছে, ফসলে বিষ দাও।’ এর পরই বিষ দেয়া শুরু হয়েছে। এটা একটা প্রজন্মের শেখা আচরণ। বাজার ও ভোক্তার আচরণ না বদলালে এককভাবে অর্গ্যানিক কৃষি টিকে থাকবে না। বর্তমানে অনেক কীটনাশক নিষিদ্ধ হয়েছে এবং কম রেসিডুয়াল ইফেক্টযুক্ত বালাইনাশক ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কীটনাশক সম্পূর্ণভাবে বাদ দেয়া সম্ভব নয়, তবে বিশেষ করে সবজিতে জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো যায়। বর্তমানে জনসংখ্যা ও উৎপাদনের চাপে ভারসাম্য বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। বিদেশী মডেল অন্ধভাবে অনুসরণ করে লাভ নেই। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষা করে ধীরে ধীরে নিরাপদ ও টেকসই কৃষির দিকে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

মহসিন আলী
আহ্বায়ক
এগ্রোইকোলজি কোয়ালিশন বাংলাদেশ
দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ এ খাতে কর্মরত রয়েছে। তার মানে তারা সবাই যে ভালো অবস্থানে আছেন এমনটা নয়; বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই অন্যান্য খাতে চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরে পারিবারিক কিংবা অন্যের জমিতে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কৃষি মোর্চাসহ আরো আটটি সংগঠন মিলিত হয়ে একটি কোয়ালিশন গঠন করে যা এগ্রোইকোলজি কোয়ালিশন বাংলাদেশ নামে যাত্রা শুরু করে। এর মাধ্যমে এ যাবৎ ১ লাখ ৫ হাজার ২৮০ জন কৃষকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য কার্যক্রম বাড়ানো এবং এভিডেন্স তৈরি করে নীতিনির্ধারকদের কাছে তা উপস্থাপন করা। জার্মানিভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফের সহযোগিতায় এগ্রোইকোলজির ১৩টি নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি পিকেএসএফের সহায়তায় চুয়াডাঙ্গায় ‘এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রশিক্ষণও প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এগ্রোইকোলজি নিয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির জন্য একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং একটি কর্নার উন্নয়নে ল্যাবরেটরি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এ কাজকে এগিয়ে নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের সহায়তা প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য, দেশের সর্বস্তরের কর্মী, কর্মকর্তা ও কৃষক প্রতিনিধি এবং সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদেরকেও হাতে কলমে এগ্রোইকোলজি প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য এই সেন্টার গড়ে তোলা। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবেশসম্মত কৃষি চর্চা ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি সম্ভব না।

মো. মামুনুর রশীদ
প্রকল্প প্রধান
ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে
জার্মানিভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা Welthungerhilfe (WHH) ‘দ্য গ্রিন ইভোলুশন—পাথওয়ে টু ট্রান্সফরমিং ফুড সিস্টেম’ প্রকল্পটি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে বাস্তবায়ন করে আসছে। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অত্র অঞ্চলে একটি স্থায়িত্বশীল ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার কাঠামো তৈরি ও বাস্তবায়ন করা। প্রকল্পটি বাংলাদেশে মানিকগঞ্জ ও সিলেটের পাশাপাশি ঢাকা বিভাগকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়ন করে আসছে। এক্ষেত্রে আমরা তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে থাকি, সেগুলো হলো টেকসই উৎপাদন, বাজারজাত ও ভোগের ক্ষেত্রেও স্থায়িত্বশীলতা বজায় রাখা। সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের জন্য বিশ্বব্যাপী ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে একটি ফুড সিস্টেম ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণ করে, যা স্থানীয় খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অবদান রাখে এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো মূলত ১. টেকসই ও পরিবেশসম্মত কৃষি ২. টেকসই জীবিকায়ন ৩. কানেক্টিভিটি/সংযোগক্ষমতা ও ৪. টেকসই গভর্ন্যান্স/রেসপনসিবল গভর্ন্যান্স। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কমিউনিটি এগ্রোইকোলজির ১৩টি নীতিমালার আলোকে খাদ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন টুলস অনুশীলনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার (ল্যান্ডস্কেপ বাউন্ডারি) খাদ্য ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র এবং এর বিশ্লেষণ বা মূল্যায়নের কাজটি করে। সমগ্র কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করতে গেলে দক্ষতা উন্নয়ন একটি বড় বিষয়। সেজন্য এগ্রোইকোলজি বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও কৃষক-কৃষাণীর প্রশিক্ষণসহ অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কৃষি শিক্ষার্থীদের ফেলোশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা কমপক্ষে এক মাস গ্রামে কৃষকের সঙ্গে থেকে এভিডেন্স তৈরি করবেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে খাদ্য ব্যবস্থার একটি কাঠামো তৈরির জন্য আমরা এরই মধ্যে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি। বাংলাদেশের কৃষি নীতিমালাসহ কৃষি সম্প্রসারণ নীতিমালাগুলোতে খাদ্য ব্যবস্থার কাঠামো/ফ্রেমওয়ার্ক বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে নেই। একটি নীতি না থাকলে শুধু মাঠপর্যায়ে এগ্রোইকোলজি বাস্তবায়ন করলে দিন শেষে বিষয়টি জোরালো ও গ্রহণযোগ্য হবে না। এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, এ-সংক্রান্ত নীতি-কাঠামো তৈরির জন্য একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি করার মাধ্যমে একটি টেকসই কৃষি খাদ্য ব্যবস্থা কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

আহমেদ বোরহান
গবেষণা পরিচালক
সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চ
স্বাধীনতার পর থেকে দেশে ধান, মাছ, প্রাণিসম্পদ ও ফল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে; খাদ্যনিরাপত্তাতেও হয়েছে বড় অগ্রগতি। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটি-পানির দূষণ বাড়ছে, জীববৈচিত্র্য কমছে, আর জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষি উৎপাদন নতুন হুমকির মুখে। কৃষি খাত থেকেই গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। আমরা জমি হারাচ্ছি দুটি পথে—একদিকে অনিয়ন্ত্রিত দখল ও সংকোচনে, অন্যদিকে দূষণে জমির গুণগতমান নষ্ট হয়। অনিরাপদ খাদ্যের ফলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমছে, খাদ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে। গবেষণা বলছে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ইনফেকশনে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বে পাঁচ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে; অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে কৃষকদের ক্যান্সার ঝুঁকিও বাড়ছে। জাতীয় কৃষি নীতি ২০১৮ টেকসই চাষের কথা বললেও বাস্তবে রাসায়নিক সারের ব্যবহারকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আবার জৈব কৃষি নীতি ২০১৬ ইতিবাচক হলেও এর বাস্তবায়ন ও অন্যান্য নীতির সঙ্গে সমন্বয় দুর্বল।

মাশিয়াত চৌধুরী
কান্ট্রি প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট
আইএফএডি
অনেক প্রকল্প থাকে, কিন্তু সেগুলোর মেয়াদ শেষ হলেই টেকসই প্রভাব থেমে যায়। কৃষকরা স্থায়ী প্রণোদনা না পাওয়ায় পরিবেশবান্ধব কৃষিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। যারা এ পদ্ধতিতে উৎপাদন করেন, বাজারে তারা ন্যায্যমূল্য পান না। এছাড়া সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার; যাতে কৃষকরা তাদের পণ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। আর উৎপাদন-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার, পরিবহন, অবকাঠামো ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি। আইএফআইডি এরই মধ্যে মিথেন নিঃসরণ কমানো এবং বিকল্প সেচ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। আমাদের নীতি, প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ সবকিছুতেই টেকসই কৃষিকে মূলধারায় আনতে হবে।

ড. গঙ্গা দত্ত আচার্য্য
গবেষণা পরিচালক
সিরডাপ
কৃষি খাতে বাংলাদেশ গত ৩০-৪০ বছরে অসাধারণ অগ্রগতি লাভ করেছে। কিন্তু আমরা যখন কৃষকদের কাছে যাই তারা বলেন, ভালো মানের বীজ-সার সময়মতো পাচ্ছেন না, শ্রমিকের অভাব, ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না ইত্যাদি। এছাড়া কৃষিতে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে—মাটির উর্বরতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি। এ এগ্রোইকোলজিক্যাল পদ্ধতি কিছুটা সমাধান দিতে পারে এক্ষেত্রে। আমরা এটিকে নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। তবে প্রশ্ন রয়েছে, আমরা কি সত্যিই নীতিগুলোকে আমাদের চর্চায় রূপান্তর করার বিষয়ে সৎ থাকি? এখানে তিনটি ক্ষেত্র দেখতে হবে—নীতি, প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের চর্চা। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবর্তন করিনি। প্রতিটি সমস্যার জন্য প্রযুক্তিগত সমাধানের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা নতুন জাত উদ্ভাবনে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু কৃষক যে সমস্যাগুলোর কথা বলছেন সেগুলো কি প্রযুক্তিগত সমস্যা? এসব সামাজিক সমস্যা আমরা আজও সমাধান করতে পারিনি। আমরা কৃষকদের উন্নয়নে কতটা বিনিয়োগ করছি? আমাদের নীতি ও বাস্তবায়ন স্তরের মধ্যে সবসময় ফাঁক রয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আসল সমস্যা বের করে আমাদের করণীয় নির্দেশ করতে হবে।

ড. মো. মঞ্জুরুল আলম
এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট
এফএও
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর, আইওটি, ডিজিটাল কৃষি ইত্যাদি একসঙ্গে এগোচ্ছে। প্রশ্ন হলো আমরা কি এ দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করতে পারছি? আমাদের অবকাঠামো দুর্বল, তথ্য-উপাত্তনির্ভর সিদ্ধান্ত এখনো সীমিত। ডিজিটাল কৃষি বাস্তবায়নে শক্তিশালী ডাটাবেজ ও ডাটা সেন্টার প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানবসম্পদের প্রশিক্ষণ দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম হালনাগাদ না করলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি আমরা ধরতে পারব না। আমাদের রিসোর্স মবিলাইজেশন, গবেষণা ও উদ্ভাবন—তিনটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি আছে। বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করার পরিবেশও দুর্বল। এগ্রোইকোলজির মূল দর্শন হলো সার্কুলার এগ্রিকালচার, অর্থাৎ ইনপুট, আউটপুট ও রিইউজ সবকিছু এক চক্রে রাখা। কার্বন সাইকেল ধরে রাখলে মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাদের কৃষি অনুশীলন যেন এ প্রাকৃতিক সিস্টেমকে ব্যাহত না করে, সেদিকে নজর দিতে হবে। এজন্য বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অপরিহার্য।

নুরুন নাহার
কান্ট্রি ডিরেক্টর
হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
ক্ষুদ্র নারী কৃষাণীদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে নারীবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি উন্নয়ন জরুরি। বর্তমানে অনেক যন্ত্রপাতি এত ভারী যে তারা তা ব্যবহার করতে পারেন না। নারী কৃষকদের জন্য উপযোগী হালকা, ব্যবহারবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে আমাদের সুপারিশ প্রয়োজন। এছাড়া খাদ্য ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও সহযোগিতা এবং সংগঠনের বিষয়গুলোকে গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে হবে। জৈব সার বা অর্গ্যানিক ইনসেক্টিসাইড নিয়ে সরকার ও বেসরকারি খাত দুই পক্ষের ভূমিকাই পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। ব্যাংক ও কৃষি ঋণ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ইন্স্যুরেন্স নিয়ে খুব একটা কথাবার্তা হয় না। অথচ খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি সবকিছুর প্রথম আঘাত কৃষকের ওপর পড়ে। কিন্তু ঝুঁকি নেয়া সত্ত্বেও তারা ন্যায্যমূল্য পান না। বিপরীতে যে ব্যবসায়ী কোনো ঝুঁকি নেন না, সব মুনাফা তার হাতে যায়। তাই ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য রিস্ক কাভারেজ ও ইনসেনটিভ নীতি থাকা জরুরি।

ড. মোহাম্মদ রাজু আহমেদ
কম্পোনেন্ট পরিচালক (উপসচিব)
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর
কৃষি মন্ত্রণালয়ের চ্যালেঞ্জ আছে, কিছু অর্জনও আছে। এখন প্রায় প্রতিটি গ্রামে ভার্মি কম্পোস্ট উদ্যোক্তা আছেন। তবে এসব জৈব উপাদান বিক্রির বাজার সীমিত। কৃষক লাভ না পেলে দ্বিতীয়বার নিরাপদ পণ্য উৎপাদন করবেন না। বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে হলে ভোক্তার আচরণও বুঝতে হবে। ফুড সিস্টেমের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য পরিবেশ নিয়ে আমরা আলোচনা করলেও ভোক্তা আচরণ প্রায়ই উপেক্ষা করি। বাজারে কোনো পণ্য অর্গ্যানিক বলে বিক্রি করা হলেও এ পণ্য আসলেই অর্গ্যানিক কিনা তা ভোক্তা জানেন না। এ অনাস্থা দূর না হলে বাজার বাড়বে না। আবার ভোক্তাদের বড় অংশ এখনো সস্তা পণ্যই খোঁজেন। আমাদের দরকার ভোক্তা আচরণ বদলে দেয়া। তাদের বোঝাতে হবে কেন পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার দরকার।

মো. হারুনুর রশিদ
পরিচালক
সার্ক কৃষি কেন্দ্র
ডব্লিউএইচও ২০২৪ সালে খাদ্যের সংজ্ঞায় সন্তুষ্টি এবং পরিতৃপ্তি দুটি শব্দ যোগ করেছে। আমাদের এখনকার খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া সরলরৈখিক। এর সঙ্গে ফুড লস্ট ও ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট যুক্ত করলে তখন এটি হবে ঘূর্ণায়মান। কৃষককে কিন্তু আমরাই শিখিয়েছি সার ও কীটনাশক দিতে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে এভিডেন্স বেজড কিছু না থাকলে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। আমাদের এখানে মানুষ বেশি। খাদ্য বেশি লাগে, তাই উৎপাদন বাড়াতে হবে। সেটিই হয়েছে। আগামী দিনের জন্য কিছু রেখে যেতে হলে এগ্রোইকোলজি একটি পদ্ধতি। শুধু অর্গ্যানিক কৃষিচর্চা করে সারা দেশে যাওয়া যাবে না। উৎপাদন কমলে আমরা সবাইকে খাওয়াতে পারব কিনা সেটিও ভাবতে হবে। পাশাপাশি এর বাজার আছে কিনা তাও দেখতে হবে। সেজন্য এ বিষয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইসলাম
অধ্যাপক
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কৃষিতে তথ্য ঘাটতি একটি বড় বিষয়। গবেষণায় ফসলের মান ও উৎপাদনের পরিমাণ এক রকম দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে বা বাস্তবে হয়তো অন্য রকম। কৃষি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আধুনিক প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটাতে হবে। ২০-৩০ বছর পরে কোন ধরনের প্রযুক্তি আসতে পারে সে বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে। আমরা স্বল্প সময়ে জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটাতে পারব না। কিন্তু আমাদের মাধ্যমে যেসব ক্ষতি হচ্ছে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমাদেরই ক্ষতির কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকার করতে হবে।

সাহানোয়ার সাইদ শাহীন
সভাপতি
বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম
গত অর্থবছর প্রথমবারের মতো আমাদের কৃষি উৎপাদন ১০ কোটি টন ছাড়িয়েছে। কিন্তু এ অর্জনের জন্য আমরা কী হারাচ্ছি? গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া কৃষকদের প্রায় অর্ধেকই বালাইনাশক সম্পর্কিত রোগে আক্রান্ত। গত ৪০ বছরে আমরা ১০০ কোটি কেজিরও বেশি কীটনাশক ব্যবহার করেছি। এটি এক ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯০ শতাংশ মাটির উর্বরতা মানদণ্ডের নিচে। বছরে উৎপাদন-পরবর্তী সময়ে শস্য নষ্ট হয় মোট উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ। সবজি ও ফলের ক্ষেত্রে তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। কৃষিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা’ নামের মিথ্যা রাজনীতি। এখনো বছরে ১ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য আমদানি করে আমরা কীভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ? আমাদের এখন দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তবভিত্তিক নীতিনির্ধারণ। যাতে কৃষি, কৃষক ও পরিবেশ সবাই টিকে থাকতে পারে।

আতাউর রহমান
সহসভাপতি
বিএসএএফই ফাউন্ডেশন
খাদ্যকে মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে দেখতে হবে এবং সেই খাদ্য অবশ্যই নিরাপদ হতে হবে। সেজন্য পরিবেশসম্মত কৃষি অপরিহার্য। একদিকে পরিবেশবান্ধব কৃষির কথা বলি, অন্যদিকে রাসায়নিক সারে হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জৈব কৃষিতে কিছু সহায়তা দেয়া হলেও উৎপাদক পর্যায়ে কোনো প্রণোদনা নেই। আমাদের জৈব কৃষি নীতি ২০১৬ সালেই হয়েছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই বললেই চলে। কৃষি ঋণ নীতির পুনর্বিবেচনাও জরুরি। ঋণ শোধ করতে না পেরে কৃষকের আত্মহত্যা এক ধরনের নীতি ব্যর্থতা। যারা পরিবেশসম্মত কৃষিতে উৎসাহী তাদের ঋণ সহায়তা দিতে হবে। কৃষিতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি সীমিত। পরিবেশসম্মত কৃষিতে নারীর ভূমিকা নিয়েও চিন্তা করতে হবে।

আমিরুল ইসলাম
অপারেশনস ম্যানেজার (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া)
এএফএ
কৃষকদের মৌলিক অধিকার এখনো অস্বীকৃত। দেশে সব পেশাজীবীর সংগঠন আছে, কেবল কৃষকদের নেই। সমবায় ব্যবস্থা আছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে অকার্যকর। জাপান, কোরিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডসহ সব দেশেই কৃষক সংগঠন শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। সেখানে সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় সবাই একসঙ্গে কাজ করে। আমাদের দেশে সেই সমন্বয় অনুপস্থিত। আরেকটি বড় সমস্যা হলো জমির মালিকানা। অধিকাংশ কৃষকের নিজস্ব জমি নেই। ফলে তারা দীর্ঘমেয়াদি কৃষি বিনিয়োগ করতে পারেন না। বাজার ব্যবস্থাপনায় দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীর আধিপত্যও বড় বাধা। সরকার ও উন্নয়ন অংশীদাররা একসঙ্গে বসে এ সমস্যাগুলো বাস্তব সমাধানের পথে নিয়ে যেতে হবে।

মিজানুর রহমান
আহ্বায়ক
কৃষি মোর্চা জাতীয় কমিটি
মাঠে পরিবেশসম্মত কৃষিকাজ করতে গিয়ে দেখেছি, আমরা ফসলের চিকিৎসা করি, কিন্তু মাটির চিকিৎসা করি না। সবুজ বিপ্লবের পর থেকে মাটির জৈব পদার্থ ৩ থেকে নেমে ১ শতাংশের নিচে চলে গেছে। যদিও মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকার কথা। মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের পরিবেশসম্মত কৃষিতেই ফিরতে হবে।

মোহাম্মদ আলী
কৃষি মোর্চা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা
আমি প্রথম দিকে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম। প্রথম বছর যতটুকু সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হতো পরের বছর তার চেয়ে বেশি লাগত। এরপর জৈব উপকরণের প্রশিক্ষণ পেয়ে রাসায়নিক উপকরণের বদলে সেসবই ব্যবহার করছি। এখন স্থানীয় বাজারে অন্যদের তুলনায় আমার সবজি ও ফল বেশি দামে বিক্রি করছি। ক্রেতাদের কাছে চাহিদাও বেশি। তবে পাইকারি বাজারে এ সুবিধা পাচ্ছি না। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জৈব কৃষি খাতে সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করলে এ খাত ভালো করবে।

জান্নাতুল মৌসুমী
কৃষি মোর্চা প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের নিয়ে একটি সংগঠন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকরা কৃষি সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন এবং সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন। এখানে আমরা চাই সরকার সহযোগিতা করুক। জৈব সার ব্যবহারে কৃষক-কৃষাণীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। এটি করতে পারলে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। উৎপাদন খরচও কমবে। গ্রামীণ কৃষকরা মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার তেমন জানেন না। তাদের প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন। তাহলে তথ্যের জন্য অন্যের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে।




