বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। পাশাপাশি চামড়া ও জাহাজ ভাঙা শিল্পও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও শ্রমসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ‘ন্যায্য রূপান্তর’ এখন জরুরি। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিল্‌স যৌথভাবে মনডিয়াল এফএনভির সহায়তায় জাতীয় সংলাপ আয়োজন করে। ‘পোশাক শিল্প, ট্যানারি ও জাহাজভাঙা খাতে ন্যায্য রূপান্তর’ শীর্ষক এ সংলাপে নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান এবং সভাপতিত্ব করেন বিল্‌সের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন বিল্‌সের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আওরঙ্গজেব আকন্দ

1

এএইচএম সফিকুজ্জামান

সচিব

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

তৈরি পোশাক শিল্প, ট্যানারি ও জাহাজ ভাঙা শিল্পের মধ্যে পোশাক শিল্প আমাদের লিডিং খাত। এ খাতে আমাদের অনেক অর্জন আছে। বর্তমানে অর্থনীতিতে আমাদের ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি হচ্ছে, অর্ধ ট্রিলিয়ন আমাদের জিডিপি, ২০৩০ সালে ১০০ বিলিয়ন রফতানির লক্ষ্যমাত্রা আছে। অনেকদিন ধরে ধীরে ধীরে আমাদের এ প্লাটফর্মটা তৈরি হয়েছে। এখন যদি এটি ধ্বংস করে দিই, কত বড় ভয়াবহ হবে সেটা ভাবতেও পারবেন না। মনে রাখতে হবে জলবায়ুকে ধ্বংস করে আমরা এগোতে পারব না। এখানে শ্রমিক, মালিক পক্ষ ও সরকারের একসঙ্গে কাজ করার আছে। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসলে দেখা যায় আমরা একজন আরেকজনকে প্রতিপক্ষ ভাবি। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা একে অন্যের প্রতিপক্ষ হয়ে থাকলে বিদেশীরা এ সুযোগটা নেবে। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমরা একে আরেকজনের বিরুদ্ধে বিচার দিই। এটা ভালো কিছু বয়ে আনে না। বরং তারা (বিদেশী) আরো পেয়ে বসে। নিজেদের বিভাজন আমাদের আরো দুর্বল করছে। আমাদের এখানে শ্রমিকের সঙ্গে মালিক পক্ষের ভালো বোঝাপড়া থাকে না। শ্রমিক পক্ষের ভাবার কোনো কারণ নেই যে মালিক পক্ষ সবসময় আপনাদের নিপীড়ন, নির্যাতন করছে, অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। কোনো মালিক শ্রমিকদের বঞ্চিত করে তার ব্যবসা চালাতে পারবেন না। একইভাবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যে আন্দোলন-অবরোধ করা হচ্ছে তা মাত্র ১ শতাংশ। ২ হাজার ৫০০ কারখানার মধ্যে ১০-১২টা কারখানায় এমনটা হচ্ছে। কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক পরিমল্ডলে নেতিবাচকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। শ্রমিকরা যখন অবরোধ-আন্দোলন করে সেটা নেতিবাচক ন্যারেটিভ তৈরি করে। আগামীতে শিল্পের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অটোমেশনে অবশ্যই যেতে হবে। তা না হলে আমরা আরো পেছনে পড়ে যাব। আমাদের শ্রমিকদের কীভাবে ন্যায্য রূপান্তরে যুক্ত করতে পারি সেটা এখন চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে আমাদের শ্রমঘন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো আরো ২০ বছর পর্যন্ত টেকসই হবে। কিন্তু এর পরে তাদের দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যুক্ত করতে পারব কিনা। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আমরা কতটুকু প্রস্তুত সেটা ভাবা উচিত। এখানে সাড়ে সাত কোটি শ্রমিকের জন্য সরকার ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে কিনা সেটার জন্য নেতাদের আওয়াজ তুলতে হবে।

3

মাহমুদ হাসান খান

সভাপতি

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি

শ্রমিকদের ন্যায্য রূপান্তরে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন একটি প্রকৃত ডাটাবেজ। ২০১১ সালে বিজিএমইএ ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে। আজ পর্যন্ত পোশাক শিল্পে ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯৮ শ্রমিক ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ডাটাবেজের কারণ হচ্ছে শ্রমিকদের রেশনের আওতায় নিয়ে আসা। সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ১ কোটি ২৩ লাখ সুবিধাভোগী আছে। এর মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সুবিধা পাচ্ছে। সেটা সংশোধন করে পোশাক শিল্পের ৩০-৪০ লাখ পোশাক শ্রমিককে রেশনের আওতায় আনা অসম্ভব নয়। এটি খুবই সম্ভব। পাশাপাশি ন্যায্য রূপান্তরে প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে। সে জায়গায় আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

2

মোহাম্মদ হাতেম

সভাপতি

বিকেএমইএ

সব শিল্পেই রূপান্তর চলছে। আমরা গ্রিন কারখানায় গিয়েছি। এটি কেউ বলে দেয়নি। তাজরীন ফ্যাশনের দূর্ঘটনার পর ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছিল। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই ইমেজ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকের জন্য কর্মপরিবেশ ভালো করতে হবে, এ চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। পোশাক শিল্পে বিশ্বের কোনো দেশেই বাংলাদেশের মতো এত সুন্দর কর্মপরিবেশ নেই। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন, ভারতের অনেক কারখানা পরিদর্শন করেছি। বাংলাদেশের মতো এত সুন্দর কারখানা বিশ্বের কোথাও দেখিনি। এটিও কিন্তু বড় ধরনের রূপান্তর। শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আমি বলেছি, শ্রমিকের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন বা রাস্তায় নামার দরকার নেই। আইনসংগতর বাইরেও যদি কোনো ন্যায্য দাবি থাকে সেটিও আমরা সমাধান করব। কাউকে পেছনে ফেলে কাজ করার সুযোগ নেই। আমরা কাউকেই পেছনে রেখে কাজ করি না। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পোশাক শিল্প টিকিয়ে রেখেছি। প্রতিদিনই আমরা বহু সমস্যা ও সংকট মোকাবেলা করছি। এসব পাশ কাটিয়েই দেশের পোশাক শিল্প আজ এ পর্যায়ে এসেছে।

23

মজিবুর রহমান ভূঁইয়া

চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত)

বিল্‌স

আমার একসময় ধারণা তৈরি হয়েছিল ট্রেড ইউনিয়ন ১০ বছরের বেশি টিকবে না। কিন্তু আমার সে ধারণা পরে ভুল প্রমাণ হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন কাজ করছে। এটি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করি। সংলাপে শ্রমিকদের রেশন দেয়ার প্রসঙ্গ উঠেছে। ব্যবসায়ী নেতারাও এ প্রসঙ্গ তুলেছেন। তারা এসব বুঝেই বলেছেন। তবে আমি যতটুকু বুঝি, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং পদ্ধতি চালু করা উচিত। এটি পাকিস্তান আমলেও ছিল। এটি চালু করা সম্ভব। আমি এ নিয়ে অনেক কাজ করেছি। কীভাবে আবার চালু করা যায় সে নিয়ে বিল্স-এর পক্ষ থেকে কাজ করা যেতে পারে।

22

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ

নির্বাহী পরিচালক

বিল্‌স

রূপান্তর শিল্পের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেদিন থেকে মানুষ জন্মেছে সেদিন থেকেই কোনো না কোনোভাবে মানুষ রূপান্তরে আছে। আগুন আবিষ্কারের পর একধরনের রূপান্তর হয়েছে। বাস্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের পর অন্য ধরনের রূপান্তর হয়েছে। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর আরেক ধরনের রূপান্তর হয়েছে। এখন আমরা আবার অটোমেশন ও এআইয়ের কারণে ভিন্ন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ রূপান্তর শ্রমিক-মালিক সবার সঙ্গেই হবে। এ প্রক্রিয়ায় যারা সমন্বয় ও প্রস্তুতি নিতে পারে তারাই এগিয়ে যায়। এখানে কতগুলো মূল উপাদান রয়েছে। যন্ত্রের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও শ্রমের সম্পর্ক এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নীতির সম্পর্ক। অনেক নীতির কারণেই শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হয়। এগুলোর আন্তঃসম্পর্ক আছে। অনেক কিছুর সমন্বয়ের পরই আমরা বলতে পারব রূপান্তরকে আমরা ইতিবাচকভাবে নেব, না নেতিবাচকভাবে। আমরা অবশ্যই চাই রূপান্তর প্রক্রিয়া হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

21

দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

সম্পাদক

বণিক বার্তা

আমরা একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। এ রূপান্তরের কারণেই এত সংঘাতের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতি ছোট ছোট করে বড় হয়েছে। যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন, কারখানা গড়ছেন তাদের কথা শোনা দরকার। পাশাপাশি যেসব শ্রমিক এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, ভ্যালু অ্যাড করছেন তাদের কথাও শোনা দরকার। একসঙ্গে বসা জরুরি। আমরা বৈশ্বিক অনেক সমস্যাও সড়কে বসে সমাধান করতে চাই। কিন্তু যদি গুণগত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতা তৈরি করতে চাই তাহলে আমাদের একসঙ্গে বসতে হবে। আলাপ করতে হবে। সড়কে লড়াই করে ন্যায্যতা দাঁড় করাতে চাইলে সামগ্রিকভাবে দেশ পিছিয়ে পড়বে। কারখানাকে বাঁচাতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিক কাজ করছেন তাদের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করতে হবে। শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে শ্রমিকদের অনেক কিছুতেই উন্নতি হবে। বিশেষ করে সবারই দাবি ছিল, ন্যূনতম বেতন যা হলে একধরনের ন্যায্যতা তৈরি হবে।

12

তপন দত্ত

আহ্বায়ক

শিপব্রেকিং ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম

চট্টগ্রামে জাহাজ ভাঙা শিল্পে ১৪৫টি ইয়ার্ড ছিল। রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ১৬টি গ্রিন ইয়ার্ডে পরিণত হয়েছে। আরো ছয়-সাতটি প্রক্রিয়াধীন। এখন ক্ষতিটা হচ্ছে এসব ইয়ার্ডে ২০-২৫ হাজার শ্রমিক ছিলেন, সেটা পাঁচ হাজারে নেমে এসেছে। এসব কোম্পানি প্রযুক্তিগতভাবে সবুজ হয়েছে, সার্টিফিকেটও পেয়েছে, কিন্তু শ্রমিকের জীবনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের মজুরির জন্য ওয়েজ বোর্ড গঠনে সভা আয়োজন করা হয়।
সেখানে মালিক, সরকার এবং শ্মিক প্রতিনিধি থাকেন। আমাদের দাবি ছিল ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করা। কিন্তু নানা কৌশলে সরকার সেটা কার্যকর করছে না। জাহাজ ভাঙা এমন একটি শিল্প যেখানে শ্রমিকদের জন্য কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষই যদি টার্গেট হয়ে যায় এবং জীবিকা হারায় তাহলে কীভাবে সেটা সম্ভব। ন্যায্য রূপান্তরে শ্রমিকের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও ন্যূনতম ওয়েজ বোর্ড নিশ্চিত করতে হবে।

4

বাদল খান

সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট

বাংলাদেশের মতো দেশের সরকার মাত্র ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে। সারা পৃথিবীতে দেশগুলো চালায় দেশী, আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানি। আমাদের দেশেও তাই। ১৯৯০ সাল থেকে আমরা পুঁজিবাদী সমাজে বাস করি। সেখানে এ ধরনের সভা করে খুব বেশি লাভ হয় না। ওই সময় থেকে এসব আলোচনা কোনো পরিবর্তন আনেনি। আইএলও মালিকদের পক্ষে ওকালতি করে। ব্যবসায়ী বা পুঁজিপতিরা মুনাফা বোঝে; শ্রমিকের অধিকার বোঝে না। ফলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। আলোচনা টেবিলে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, বাস্তবে তার খুব কমই বাস্তবায়িত হয়। যদি প্রকৃত অর্থে পরিবর্তন আনতে হয়, তবে কেবল আলোচনায় নয়, কার্যকর নীতিমালা ও তার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

5

নইমূল আহসান জুয়েল

সাধারণ সম্পাদক

জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ

ন্যায্য রূপান্তরের জন্য একটি তহবিল গঠন করা দরকার। কেননা দারিদ্র্য বিমোচন ছাড়া আমরা সামনের দিকে এগোতে পারব না। শিশুশ্রম বন্ধ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি দারিদ্র্যের কারণে এটি কমানো যাচ্ছে না। একইভাবে জাস্ট ট্রানজিশনের কারণে শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন। এরপর তারা কোথায় যাচ্ছেন তার কোনো ডাটাবেজ আমাদের কাছে নেই। এজন্য একটি ডাটাবেজ থাকা জরুরি। যদি জানা যায় তারা কোথায় গিয়েছেন তাহলে আপস্কিলিংয়ের মাধ্যমে তাদের আবারো কর্মসংস্থানে ফেরানো যাবে। জাস্ট ট্রানজিশন, এইচআরডিডি (হিউম্যান রাইটস ডিউ ডিলিজেন্স) বা এইচআরইডিডি (হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিউ ডিলিজেন্স) সবগুলোর সঙ্গে যে যে মন্ত্রণালয় যুক্ত আছে সবাইকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। পাশাপাশি একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। কেননা দেশে ২৬৩টি গ্রিন ফ্যাক্টরি আছে, কিন্তু আমরা জানি না কতগুলোয় কর্মপরিবেশ ভালো আছে। এসব মাঠপর্যায়ে দেখার উদ্যোগ নিতে হবে।

17

শাহীনুর রহমান

কনসালট্যান্ট

মনডিয়াল এফএনভি-বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনে উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক শ্রমিক শহরমুখী হচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে কারখানায় শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা কমছে। কারখানায় শ্রমিক প্রয়োজনীয়তা কমলেও বাইরে কর্মসংস্থানের জন্য অপেক্ষায় আছে একটি বড় অংশ। এ সুযোগে মালিকরা শ্রমিক শোষণ, কম মজুরিতে শ্রমিক নেয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কারণ তারা জানে বাইরে অনেক শ্রমিক আছে। এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হলে একটি জলবায়ু পরিবর্তন নীতি দরকার। এ নীতি আগে থেকে ছিল কিন্তু সেখানে ন্যায্য রূপান্তর বিষয়টি ছিল না। এখন সেটি যুক্ত করা হয়েছে। মালিক, শ্রমিককের অনেকে এ শব্দের সঙ্গে পরিচিত না। আমাদের উচিত সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করা। আরেকটি বিষয় আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের জন্য অনেক আইনি বাধ্যতাবাধকতা বেড়ে যাচ্ছে। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যায্য রূপান্তরকে গুরুত্বর সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। তাই সে জায়গায় টিকে থাকতে আমাদের কর্মশক্তিকে দক্ষ করে তুলতে হবে। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাতওয়ারী ও জাতীয়ভাবে ভাবতে হবে। এছাড়া ইন্টারসেকশনালিটি বিবেচনায় শ্রমিকদের প্রধান্য দিতে হবে।

6

আবুল কালাম আজাদ

যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও সভাপতি, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন

চামড়া খাত নিয়ে দীর্ঘদিন সরকার থেকে শুরু করে সব জায়গায় আলোচনা কম হয়েছে। অথচ এটি দেশের রফতানিমুখী দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্প খাত। এ শিল্পে ৮৫ শতাংশের বেশি দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়। রফতানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে এর চেয়ে বেশি দেশীয় কাঁচামাল আর কোথাও ব্যবহার হয় না। এমন সম্ভাবনাময় খাতে গত ৭০ বছরেও প্রত্যাশিত সফলতা আসেনি। বরং এ খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শিল্পটি একসময় নারায়ণগঞ্জে ছিল। তারপর ঢাকার হাজারীবাগ হয়ে নেয়া হয় হেমায়েতপুরে। আমরা স্বাগত জানিয়েছিলাম। সবাই চেয়েছিলাম পরিবেশ রক্ষা পাক। কিন্তু দেখো গেল শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীসহ এর সঙ্গে শাখা নদীর মতো থাকা ছয়টি খালও এখন নষ্ট হয়েছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট করার কথা থাকলেও সেগুলোও বাস্তবায়ন হয়নি। ট্যানারি সরানোর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এখানকার মালিকরা ন্যূনতম নিয়ম মানেন না। এ সংকট দ্রুত নিরসন প্রয়োজন।

16

বাবুল আখতার

সাধারণ সম্পাদক

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল

পোশাক খাতে চার-পাঁচ বছর আগেও জাস্ট ট্রানজিশন (ন্যায্য রূপান্তর) বিষয়টি সেভাবে পরিচিত শব্দ ছিল না। তবে এটি শুরু হয়েছে, যেটি অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত। ন্যায্য রূপান্তরে সংগঠন বা কারখানাগুলোর একার কাজ নয়। এখানে সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করি। ন্যায্য রূপান্তরের জন্য যে তহবিলের প্রয়োজন হবে এর জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যা কিছুই করি না কেন, এর জন্য অর্থ দরকার। যারা আপগ্রেডেশনে যাবে তাদের দরাকর হলে ট্রেনিং দিতে হবে। মালিকদের নিয়ে সংগঠনগুলো যৌথভাবে ট্রেনিং শুরু করতে পারে। এখানে আইএলও এগিয়ে আসতে পারে। বিদেশী মিশনগুলো কাজ করতে পারে। এ পরিবর্তনে কী কী লাগবে আমরা কয়েক বছর থেকেই বলে যাচ্ছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শুধু ছোটখাটো ট্রেনিং আর সেমিনারেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। আমার মনে হয়, সব শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব মন্ত্রণালয়ের একটি জাতীয় নীতিমালা থাকা উচিত। এ নীতিমালার সঙ্গে সব মত সম্পৃক্ত থাকবে।

19

এলিসা বেনিসট্যান্ট ফ্রেমিগাচি

টেকনিক্যাল অফিসার

আইএলও

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ন্যায্য রূপান্তরে আইএলও সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়, সেখানে সামাজিক দিকগুলোর সুরক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়োজন সত্যিই সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। আইএলও এর আগে জাস্ট ট্রানজিশন একাডেমির কার্যক্রমেও অবদান রেখেছে। আইএলওর পক্ষ থেকে পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে খাতভিত্তিক স্তর পর্যন্ত যেকোনোভাবে আপনাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত আছি। কারণ প্রতিটি খাতের আলাদা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আবার নানামুখী সুযোগও রয়েছে। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং সহায়তা করতে প্রস্তুত।

14

মো. তৌহিদুর রহমান

সভাপতি

বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন

ন্যায্য রূপান্তরের পাশাপাশি জলবায়ু পরির্বতনের ফলে পাকিস্তান-ভারতে যে অস্বাভাবিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে সেটি দেখে শ্রমিক নেতা হিসেবে আমরা বিস্মিত হয়েছি। আমাদের আশঙ্কা বাংলাদেশেও এমন দুর্যোগ ঘটতে পারে। এখন আমাদের বক্তব্য হচ্ছে জাতীয় যেকোনো নীতিমালা প্রণয়নের কমিটিতে খাতভিত্তিক ও জাতীয় শ্রমিক নেতাদের যুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। দেশে একটি জাতীয় জলবায়ু তহবিল আছে, সেখানে মিটিং হচ্ছে, কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা জানতে পারি না। আমরা মনে করি এগুলো দৃশ্যমান হওয়া দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিকদের জ্বরসহ নানা রোগের প্রার্দুভাব সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক শ্রমিক চাকরিচ্যুত হচ্ছেন। সেখান থেকে পরিত্রাণের উপায় কী সেগুলো আমাদের ভাবতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে সেগুলো যদি শনাক্ত করতে না পারি তাহলে আমরা শ্রমিক নেতারাও দায়ী থাকব। তাই সেক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে সেটি ভাবতে হবে।

10

সাকিল আখতার চৌধুরী

সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন

রূপান্তর চলমান প্রক্রিয়া। এটি পৃথিবীর আদিকাল থেকেই হয়ে আসছে। এম্ব্রয়ডারি থেকে এআই প্রযুক্তি—সবই রূপান্তরের ফল। মানবসভ্যতার যা কিছু উন্নয়ন তাও একধরনের রূপান্তর। প্রযুক্তিগত কারণে চাকরিচ্যুতি-স্থানচ্যুতিও একধরনের রূপান্তর। এসব কর্মচ্যুতি, স্থানচ্যুতি যখন মানুষকে বিপর্যস্ত করে তখন শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে আমরা আতঙ্কগ্রস্ত হই। এ রূপান্তরে শ্রমিকদের জীবনমান মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ রূপান্তরে আমরা একদিকে চাচ্ছি পরিবেশকে সুরক্ষা দিতে। অন্যদিকে চাচ্ছি শ্রমিকদের জীবনমানকে সুরক্ষা দিতে। এখানে সরকারের ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের নীতি প্রণয়ন করতে হবে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়নকে শক্তিশালী করতে হবে। এসব নিয়ে কোনো আলোচনা দেখি না। কখনো দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হয় না, আসেন আমরা পরিবেশ নিয়ে কথা বলি। শ্রমিকদের জীবনমান ‍উন্নয়নে সবাই আলোচনা করি। তাদের কী সমস্যা, কী দাবি এসব আলোচনার মাধ্যমে তুলে আনতে হবে। এরপর সেটির সমাধান করতে হবে।

9

শামিম আরা

সভাপতি

বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন

তৈরি পোশাক ও ট্যানারি শিল্পে নারীদের উপস্থিতি থাকলেও নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে নারীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। আমরা যদি দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসি এবং এখানে যদি কোনো কারখানায় আমি বিনিয়োগ করি সেখানে মালিক ও শ্রমিকের সমন্বয়ে কারখানাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। এখানে প্রত্যেকের দায়িত্ব। যেকোনো শিল্পে নারীদের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নেই। নারীর পরিবার, তার স্বাস্থ্যের পুষ্টির বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এখানে রূপান্তরকে ন্যায্য রূপান্তর করতে হলে আমাদের প্রত্যেক স্টেকহোল্ডারকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। এটার জন্য যদি একটি টাস্কফোর্স কমিটি করা যায় এবং সেখানে নীতিমালা করা যায় তাহলে নারীর সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে।

11

কুতুবুদ্দিন আহমেদ

সভাপতি

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল

শুধু আলোচনা করে সুপারিশ করলেই হবে না। এসব বাস্তবায়নেও উদ্যোগ নিতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্পে নানা সমস্যা রয়েছে। আমরা এখনো সেটিকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারিনি। শ্রমিকদের সেফটির মতো নানা ইস্যু রয়েছে সেখানে। বাজারে জিনিসের দাম বাড়ার পরও মজুরির পরিবর্তন হয় না। তাদের ও তাদের পরিবারের জীবনমানে কোনো উন্নতি নেই। এসব শিল্পে শ্রমিকরা মারা গেলেও তাদের পরিবার পর্যাপ্ত ইনসেনটিভ পাচ্ছে না, মানবেতর জীবনযাপন করছে।

15

নাসরিন আক্তার ডিনা

সাধারণ সম্পাদক

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল (নারী কমিটি)

তৈরি পোশাক, ট্যানারি ও জাহাজ ভাঙা—তিন সেক্টরেই আমাদের অনেক নারী শ্রমিক রয়েছেন। এসব খাতের নারীদের জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়ে আলাপ থাকতে হবে। রূপান্তর হচ্ছে এবং হবে। নতুন নতুন পদ্ধতি আসবে, এটি স্বাভাবিক। এটি মেনে নিয়েই এগোতে হবে। এসব খাতে কর্মরত নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা খুবই জরুরি। তাদের দক্ষভাবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে। নারী-পুরুষের সমান সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। আইএলওর কনভেনশনে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলা আছে। আমরা চাই এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। পাশাপাশি নারীর প্রতি পুরুষদের যে দৃষ্টিভঙ্গি সেটি যেকোনোভাবে পাল্টাতে চাই। এটি করতে পারলে নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও চাকরি হারানো নারীদের কীভাবে আবার অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় সেটির উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে মনে করি।

8

এএএম ফয়েজ হোসাইন

সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন

ন্যায্য রূপান্তরের মূল্য চালেঞ্জ হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো অক্সাইড। পৃথিবীকে ধ্বংস করার জন্য এ গ্যাসই যথেষ্ট। ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ও মনোক্সাইড উৎপাদন করে এমন কারখানা আমাদের দেশে খুবই কম। গার্মেন্ট সেক্টরে সবুজায়নের মাধ্যমে রূপান্তর হচ্ছে। কিন্তু সেখানে ন্যায্য মজুরি নেই। নতুন নতুন যে যন্ত্রপাতি আসছে তার সঙ্গে শ্রমিকদের পরিচিতি খুবই সামান্য। কিন্তু তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। নতুনদের প্রশিক্ষিত না করেই আবার এসব পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে মালিকদের আরেকটু নজর দিতে হবে। ট্যানারি শিল্পটাকে হেমায়েতপুরে নেয়া একেবারেই উচিত হয়নি। এতে সেসব এলাকার সুমিষ্ট পানযোগ্য পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদ-নদীগুলো ধ্বংস হয়েছে। এসব যারা করেছে তারা জাতীয় পাপী। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। জাতীয় পর্যায়ে কোনো নীতি প্রণয়নে দক্ষতা না থাকলে নীতি গ্রহণ না করাই শ্রেয়।

13

সানজিদা সুলতানা

অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক

কর্মজীবী নারী

আমাদের নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। যেমন সার্কুলার অর্থনীতির কথা বলা হচ্ছে। যেখানে রিসাইক্লিং করে ব্যবহৃত পণ্য আবার নতুন পণ্যের কাঁচামাল তৈরি করা যায়। এটা যেমন আবর্জনার হাত থেকে বাঁচাবে তেমনি নতুন কাজের ও খাতের ব্যবস্থা তৈরি করবে। পড়াশোনা কম জানা আমাদের অনেক নারী শ্রমিক আজ কাজ হারাচ্ছেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। সার্কুলার অর্থনীতিতে তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সে অনুযায়ী তাদের দক্ষ করতে পারলে নতুন কাজের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা যাবে। সেজন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যৌথভাবে সরকার, মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কাজ করেত হবে।

18

এএমএম খায়রুল আনাম

প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন

এ মুহূর্তে আমাদের দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিগুলো উপলব্ধি করছি। এ নিয়ে আরো আগে থেকেই আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা সতর্ক হইনি। প্রয়োজনের তাগিদে ধীরে ধীরে এখন সতর্ক হচ্ছি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে জাস্ট ট্রানজিশন বলতে একটি সবুজ বাংলাদেশ দরকার। যেখানে শ্রমিক থেকে শুরু করে ঝুঁকিতে থাকা কেউই বাদ পড়বে না। জাস্ট ট্রানজিশন বিষয়টিও নতুন করে হচ্ছে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সবকিছু আরো স্পষ্ট হওয়া দরকার। ভবিষ্যতে হয়তো সরকার এখানে আরো নজর দেবে। অর্থনীতিতে ডাইভারসিফিকেশন আনা দরকার। বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির চিন্তা করতে হবে। সোলার এনার্জি বা রিনিউয়েবল এনার্জি নিয়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। এতে যারা চাকরি হারানো ঝুঁকিতে থাকাদের বিকল্প কর্মসংস্থানে স্থানান্তর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তাদের ক্ষুদ্র ঋণও দেয়া যেতে পারে।

7

শহিদুল্লাহ বাদল

সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)

বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন

জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায্য রূপান্তর বর্তমানে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটার জন্য আমাদের জন্য একটা ন্যায্য রূপান্তর কমিটি করার সুপারিশ করছি। সেখানে সব স্টেকহোল্ডার যুক্ত থাকবেন। সবার সম্পৃক্ততা ছাড়া এটাকে ন্যায্য রূপান্তর করা যাবে না। সামাজিক সংলাপকে আরো জোরালো করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকদের নানামুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আগামীর রূপান্তরে শ্রমিকের সুরক্ষাই আমাদের দাবি। এছাড়া ন্যায্য রূপান্তরে জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল গঠন করতে হবে এবং সেখানে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ থাকতে হবে।

20

আওরঙ্গজেব আকন্দ

সহযোগী অধ্যাপক

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

জলবায়ু পরিবর্তন, সবুজ শিল্পায়ন ও ন্যায্য রূপান্তরে শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব স্টেকহোল্ডারকে ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার, মালিক ও শ্রমিকের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোভন কাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা জরুরি। জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা তাদের টেকসন উন্নয়ন লক্ষ্যে সবুজ অর্থনীতি, সবুজ শিল্প ও সবুজ কারখানার কথা বলেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জলবায়ু পরিবর্তনে সহনশীল উদ্যোগের কথা বলেছে। সবুজ ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ সৃষ্টি হয় এবং শ্রমিক ও শিল্প সুরক্ষিত থাকে। সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে সুপরিকল্পনা বা টেকসই উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে শ্রমিকদের নিয়োগ করতে হবে। আইএলও তাদের ন্যায্য রূপান্তরের উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতির কথা বলেছে। বাংলাদেশে যদি সে ধরনের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হয় তাহলে জাতীয় নীতি কাঠামো ও কৌশলগত উদ্যোগ নিতে এবং ন্যায্য রূপান্তর কৌশল কাঠামো নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা করতে হবে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে একটি ন্যায্যা রূপান্তর কমিশন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা যেতে পারে।