বণিক বার্তা ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) যৌথ গোলটেবিল বৈঠকে তারা বলেন, দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এখনো কর্মবাজারের বাইরে। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে অমিল, দক্ষতার ঘাটতি এবং সমন্বয়ের অভাব কর্মসংস্থানের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, এআই, অটোমেশন ও রোবোটিক্সের যুগে শুধু ডিগ্রি নয়; প্রয়োজন আপ-স্কিলিং, রি-স্কিলিং, সফট স্কিল, ভাষা শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ। এজন্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, ডুয়াল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং আধুনিক স্মার্ট ল্যাব স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় আলোচনায়। বণিক বার্তার সম্মেলন কক্ষে সোমবার আয়োজিত এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব ও এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এক্সপার্ট সৈয়দ আজহারুল হক

ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, সচিব
নির্বাহী চেয়ারম্যান, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
বর্তমানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় অতিক্রম করছি। কিন্তু এ সুযোগ যদি আমরা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে সেটি দেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই এ সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে এখন আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। অনেকের ধারণা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ডাম্পিং স্টেশন’। কিন্তু এটি আসলে আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সবচেয়ে মেধাবী গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং স্কলাররা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কারণ তারাই নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করেন এবং সেই জ্ঞান থেকেই কার্যকর নীতি তৈরি হয়। শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে হবে না; দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাসও গড়ে তুলতে হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থী যদি কেবল বইভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করে, কিন্তু সেই জ্ঞান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত হয় না। শিক্ষার্থীকে গবেষণা করতে হয়, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিজের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করতে হয়, বিতর্কে অংশ নিতে হয়, দল পরিচালনা করতে হয়। ফলে তার নেতৃত্ব, যোগাযোগ, উপস্থাপনা ও সফট স্কিল সবকিছুরই সমান বিকাশ ঘটে। যদি আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিটি মানুষ তার কর্মক্ষেত্রে নিজের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ফল ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশে আমরা অনেক সময় ‘ট্রায়াল অ্যান্ড অ্যারর’ পদ্ধতিতে কাজ করি। একটি কাজ হলো না, তখন আরেকটি চেষ্টা করি। অথচ আমাদের আইন, বিধি, নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সবই বিদ্যমান। প্রয়োজন শুধু সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা। সরকার নির্দিষ্ট আইন, বিধি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমরা সেই সীমার বাইরে যেতে পারি না। কিন্তু যদি বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করি, তাহলে অনেক কাজই অত্যন্ত কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। বর্তমানে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ওপর থেকে নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো ফাইলই খোলা হয় না। ফলে কাজের গতি কমে যায়, সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনে স্থবিরতা তৈরি হয়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। এর ফলে একই ধরনের কাজ একাধিক জায়গায় হচ্ছে, নীতিগত ও বাজেটগত ওভারল্যাপ তৈরি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় ঘটছে। রাষ্ট্র একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। রাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান যদি দুর্বল হয়, তার প্রভাব পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর পড়ে। তাই প্রতিযোগিতা নয়, সমন্বয়ই হওয়া উচিত আমাদের মূল শক্তি। রাষ্ট্রে প্রত্যেকের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু সবাইকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হয়। যদি কেউ বলে, ‘আমি কোনো সমন্বয় মানি না’, তাহলে পুরো ব্যবস্থাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত ৫৫ বছরে মানবসম্পদ উন্নয়নে রাষ্ট্র বিপুল বিনিয়োগ করলেও সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। কারণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব, নীতিগত ও বাজেটগত ওভারল্যাপ এবং দায়িত্ব পালনে অসংগতি ছিল। যদি প্রত্যেকে নিজের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করত এবং সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ, তদারকি ও সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করত তাহলে বাজেটের অপচয়, নীতির পুনরাবৃত্তি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা অনেকাংশেই কমে আসত।
দক্ষতা উন্নয়ন একটি জাতীয় বিষয়, যা বহু মন্ত্রণালয়, বিভাগ, শিল্পখাত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ও দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই ২০১৮ সালে সরকার
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) প্রতিষ্ঠা করে। এখানে ২৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান সদস্য-সচিব। এনএসডিএ নিজে শ্রমবাজার তৈরি করে না বরং বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরির ব্যবস্থা করে। এনএসডিএ মূলত সরবরাহ খাতের কাজ করে। দেশীয় শিল্পখাত কিংবা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার যখন নির্দিষ্ট ধরনের দক্ষ জনবলের চাহিদা জানায়, তখন এনএসডিএ সেই চাহিদা বিশ্লেষণ করে দক্ষতার মান, কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরি করে। তাই সরকারি-বেসকারী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত, ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কাছ থেকেই দক্ষতার চাহিদা আসে, আর সেই চাহিদার ভিত্তিতেই দক্ষতার মান নির্ধারণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ প্রদান, মূল্যায়ন এবং সার্টিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এনএসডিএ।

মইনুল ইসলাম
চেয়ারম্যান, সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল (সিরামিক আইএসসি)
বর্তমানে তরুণদের একটি বড় অংশের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সরকারি চাকরি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, একই প্রবণতা এখন ভারতেও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে উদ্যোক্তা তৈরি, উদ্ভাবন এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সংস্কৃতি কাঙ্ক্ষিতভাবে গড়ে উঠছে না। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের নীতির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। তবে শুধু নীতি ঘোষণা করলেই হবে না; এর জন্য পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমান শিক্ষা কাঠামো দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব নয়। আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। শিক্ষা অধিদপ্তরের কাজের ধরন ও কার্যকারিতাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যদিকে, শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রিক করতে গেলেও নানা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হয়। একজন উদ্যোক্তা নিজের অর্থায়নে কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলেও সহজে তা করতে পারেন না। অনুমোদন, নীতিমালা ও বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতা উদ্যোগ গ্রহণকে নিরুৎসাহিত করে। ফলে দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাঠামোগত বাধাগুলো এখনো রয়ে গেছে।

মির্জা নুরুল গণী শোভন
চেয়ারম্যান, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল
বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি-সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য উদ্যোক্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু একটি অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কিন্তু এর বাইরে অন্য কোথাও এ ব্যবস্থা নেই। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নয় লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ভাবছে। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোনো কার্যকর সংযোগ নেই। দেশে এ ধরনের অনেক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। কিন্তু এগুলো সমন্বিত নয়। এ জায়গায় দেশের সব চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন, এফবিসিসিআই এবং সব ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলকে সম্মিলিতভাবে এ কাজ করতে হবে। একজন দক্ষ কারিগর হতে হলে তার সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সম্পর্কে জানা দরকার। কারণ তার যন্ত্রপাতি চালানোর অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের এত আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহার করতে দেই না, শেখার সুযোগ দেই না। কারণ ২ কোটি টাকার একটি যন্ত্র প্রশিক্ষণার্থীর কারণে নষ্ট হলে সেই দায় তো সরকার নেবে না, কোনো প্রতিষ্ঠানও নেবে না, এমনকি এনএসডিও নেবে না। এই বাস্তবতাই সবচেয়ে বড় বাধা। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য ইনসেনটিভ ঘোষণা করা প্রয়োজন।

মো. জোহর আলী
যুগ্মসচিব
সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ)
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
আমাদের যে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা আছে, তার সঙ্গে ব্যবহারিক জ্ঞানের একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যে জ্ঞান অর্জন করি, কর্মক্ষেত্রে গিয়ে সেই জ্ঞানের সঙ্গে কাজের মিল নেই। বাস্তবে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটি যেমন সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমরা যে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলি, সেটি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দিতে পারছি না। আমরা এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে বসবাস করছি। বিশ্বের অনেক দেশ এরই মধ্যে পরবর্তী শিল্পবিপ্লবের দিকে এগোচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের দক্ষতা উন্নয়ন খাতকে সমন্বয় করতে হবে। ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে যে ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে, সেই ধরনের জনবল তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে এ বিষয়ে এনএসডিএ অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো হবে। দেখা যায় আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দক্ষতার ঘাটতি। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে যে দক্ষতার ব্যবধান রয়েছে, সেটি পূরণ করার জন্যই এনএসডিএ কাজ করছে।

প্রিয়সিন্ধু তালুকদার
যুগ্মসচিব
পরিচালক (প্রশিক্ষণ)
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো যুব সম্পদ বা মানবসম্পদ। কিন্তু এ মানুষকে সম্পদে পরিণত করার জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি, তা হলো তাকে সঠিক দক্ষতা প্রদান করা। কিন্তু এখন আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে আমরা আসলে কী করব বা আমাদের করণীয় কী সেটার ওপর। যেকোনো কাজের আউটপুট পেতে হলে পর্যাপ্ত বাজেট প্রয়োজন। আমাদের কারিগরি শিক্ষার জায়গাগুলোকে এখনো কিছুটা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে ‘ডাম্পিং পোস্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি যুব উন্নয়নে দেখেছি, একটি নষ্ট ও পুরনো সেলাই মেশিন দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি ছাড়া এ ধরনের সেলাই মেশিনে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুবকদের আসলে কোনো লাভ নেই। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের রেভিনিউ বাজেট দিয়ে বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এজন্য আমাদের প্ল্যানিং কমিশনকে আরো যুগোপযোগী ও আধুনিক হতে হবে। আমরা যখন কোনো প্রকল্পের স্বপ্ন দেখি, সেটি অনুমোদন হতে হতেই তিন-চার বছর পার হয়ে যায়। ফলে আমরা সবসময় সময়ের চেয়ে পিছিয়ে থাকি। আমাদের এমন প্রকল্প নিতে হবে, যা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

জেসমিন আক্তার
যুগ্মসচিব
সদস্য (পরিকল্পনা ও দক্ষতামান) জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
আমাদের বর্তমান কর্মক্ষম জনশক্তির ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশই হলো ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ। এছাড়া জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে যুগোপযোগী ও দক্ষ করে তোলার জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। ২০১৮ সালে এনএসডিএ গঠনের মূল লক্ষ্যই ছিল দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা। বর্তমানে ১৬টি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল এবং সারাদেশে ২২০০+ স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডার এ লক্ষ্যেই কাজ করছে। প্রযুক্তি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। আগে আমরা রেডিওতে খবর শুনতাম, এখন গাড়িতে বসে মোবাইলে অনলাইনে খবর পড়ি। প্রযুক্তির এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন হবে। এনএসডিএ এখন হার্ড স্কিলসের পাশাপাশি সফট স্কিলস যেমন—ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন, টিম বিল্ডিং, ক্রিয়েটিভ থিংকিং এবং প্রবলেম সলভিংয়ের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা শিক্ষার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। একজন প্রশিক্ষিত মানুষ অর্থনীতিতে যেভাবে অবদান রাখতে পারেন, অপ্রশিক্ষিত কেউ তা পারেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই লেভেলভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করতে হবে।

শাহ আব্দুল তারিক
যুগ্মসচিব
অতিরিক্ত মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (এজিআই) আমাদের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, আগামী ১০-১৫ বছর পর চাকরি হয়তো ঐচ্ছিক হয়ে যাবে। আমাদের এ বাস্তবতাকে মেনেই এগোতে হবে। সিচুয়েশন যা-ই হোক, আমাদের আশাহত হলে চলবে না, বরং এ পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চভাবে মোকাবেলা করে কীভাবে টিকে থাকা যায়, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা বিভাগ আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করে, যার ফলে অনেক সময় কারিকুলাম ওভারল্যাপ করে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের এই অভাব দূর করে একটি ইউনিফায়েড বা সমন্বিত প্রশিক্ষণ কারিকুলাম তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া আমাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। আমি দেখেছি, আমরা এখনো জিআই পাইপ দিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, অথচ বিদেশে এর ব্যবহার অনেক আগেই বদলে গেছে। সরকারি কেনাকাটার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে আমরা আধুনিক ম্যাটেরিয়ালস সময়মতো সরবরাহ করতে পারছি না, যা দক্ষতা উন্নয়নে বড় বাধা। সরকারি জটিলতা কমিয়ে বেসরকারি খাতকে আরো বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কারণ বেসরকারি খাত যথাযথভাবে বিকশিত না হলে দক্ষ জনবল বের করে আনা কঠিন। সরকারের উচিত হবে কেবল নীতি প্রণয়ন ও তদারকি করা, আর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রটি বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত রাখা।

মো. মাকসুদুর রহমান
পরিচালক
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর
আজকের বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট, আইসিটি, সাইবার সিকিউরিটি এবং গ্রিন স্কিলস কর্মসংস্থানের ধরনকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। ফলে এখন কেবল সনদ নয়, প্রয়োজন দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং আজীবন শেখার মানসিকতা। বর্তমানে আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার মাত্র ১৯ শতাংশ। অথচ উন্নত বিশ্বে এ হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। তাই বাংলাদেশের বিপুল যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ইনস্টিটিউট সংযোগ। শিল্প খাতকে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা মূল্যায়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মী পাবে। এটি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম ভিত্তি হবে দক্ষ মানবসম্পদ। এ লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আমরা শুধু দেশের নয়, বিশ্ববাজারের দক্ষ জনবলের চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হব।

ড. প্রকৌশলী মো. সাকাওয়াৎ আলী
প্রিন্সিপাল, ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিটিটিটিআই)
আমাদের সামনে মূলত দুটি বড় সমস্যা হচ্ছে স্কিলস গ্যাপ ও স্কিলস মিসম্যাচ। এ দুটি সমস্যা যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি তাহলে সামনে আর বড় কোনো বাধা থাকবে না। বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা অনেক। এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে যদি আমরা স্কিলস গ্যাপ ও স্কিলস মিসম্যাচ কমিয়ে প্রকৃত মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারি। তাহলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ স্বনির্ভর হতে পারবে। মূলত দক্ষতা বৈশ্বিক সম্পদ। এ সম্পদ অর্জনের দিকে আমাদের অবশ্যই অগ্রসর হতে হবে, আর কোনো বিকল্প নেই। আরেকটি বিষয় হলো ইন্ডাস্ট্রি-ইনস্টিটিউশন সংযোগ। ইন্ডাস্ট্রি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি মুদ্রার দুই পিঠের মতো। একদিকে শিল্প, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এ দুটিকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি-ইনস্টিটিউশন সংযোগ কম। তবে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে আমাদের কারিকুলাম এখনো সময়োপযোগী নয়। আমরা যতই বলি যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কারিকুলাম আপডেট করছে, বাস্তবে আপডেট করতে করতেই তা আবার পুরনো হয়ে যায়। প্রযুক্তির শিক্ষা হতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎমুখী।
আমাদের দেশে একটি কারিকুলাম পরিবর্তন করতে আট দশ বছর লেগে যায়। আর সেই পরিবর্তন সম্পন্ন হতে হতে সেটিও আবার পুরোনো হয়ে যায়। তাই কারিকুলাম নিয়মিত ও দ্রুত হালনাগাদ করার বিষয়ে আমাদের আরো সচেষ্ট হতে হবে।

জোহা জামিলুর রহমান
উপ-মহাসচিব
হেড অব ট্রেনিং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ)
স্কিলস মিসম্যাচ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মাত্র ১০ শতাংশ শ্রমিক আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন, যা বেকারত্বকে উসকে দিচ্ছে। আমাদের ৪ কোটি মানুষ কর্মহীন, যাদের বড় অংশই তরুণ। তাদের জন্য ‘ডিমান্ড ফোরকাস্ট’ ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এখন সময়ের দাবি। স্কিল মিসম্যাচ বা দক্ষতার অমিল নিয়ে আমরা গত ১৫ বছর কাজ করছি। কিন্তু বিশাল জনসংখ্যার এ দেশে অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিক্যের কারণে এটি সমাধান করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। আমাদের মোট শ্রমশক্তির মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিক শিল্পগুলোতে যাওয়ার সুযোগ পায়, যার ফলে বেকারত্ব সমস্যা প্রকট হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে টিভেট (টিভিইটি) সংস্কার শুরু হলেও এর অবকাঠামোগত উন্নয়নের আরো সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানো প্রয়োজন। চট্টগ্রামে একজন নারী উদ্যোক্তার স্কুটি ট্রেনিং সেন্টারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের কথা আমরা বারবার বললেও এর প্রয়োগে কোথায় যেন একটি বাধা থেকে যাচ্ছে। আমরা কেবল উদ্যোক্তা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, কিন্তু এটি কতটা কার্যকর হচ্ছে তা ভাবার বিষয়।

সৈয়দ আজহারুল হক
কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এক্সপার্ট, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে পেশা পরিবর্তনের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তাতে টিকে থাকতে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সেখানে বলা হয়, বর্তমানে সনদসর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতার ব্যাপক অমিল রয়েছে। মানসম্মত প্রশিক্ষকের অভাব, প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রতি সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ‘আপ-স্কিলিং’ ও ‘রি-স্কিলিং’-এর মাধ্যমে কর্মীদের নতুন করে প্রস্তুত করার পরামর্শ দেয়া হয়। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতাসম্পন্ন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং বিগ ডেটার মতো আধুনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও নীতিমালার ওপর কাজ করছে।

আল-নোমান
উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর
সনদসর্বস্ব শিক্ষার বদলে কারিগরি শিক্ষাই পারে প্রকৃত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে। আমাদের ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ মডেলে জোর দিতে হবে, যেখানে প্রশিক্ষণ চলাকালীনই আয় সম্ভব। দক্ষতা নেই এমন মানুষের সমস্যাগুলো আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। এনএসডিএ কর্তৃপক্ষ জেলা পর্যায়ে যে প্রোগ্রামগুলো করে, সেগুলোর সাথে আমি যুক্ত ছিলাম। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এনএসডিএর প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ার যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে পারে কারিগরি প্রশিক্ষণ। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন প্রথাগত শিক্ষা থেকে সরে এসে দক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছে। আমাদের প্রশিক্ষণগুলোকে আরো বেশি মার্কেট ওরিয়েন্টেড বা বাজারমুখী করতে হবে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে এ প্রশিক্ষণ নিয়ে সত্যিই কাজ পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে চাকরির বাজার খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি বা অনলাইন প্লাটফর্মে কাজ করে অনেকেই উল্লেখযোগ্য আয় করছেন। আমাদের উচিত এমন সব প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া যেখানে প্রশিক্ষণ চলাকালীনই আয় করা সম্ভব, অর্থাৎ ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ মডেলের মাধ্যমে।

তামান্না সুলতানা
অতিরিক্ত নির্বাহী সচিব ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে নিজেদের প্রেজেন্টেশনও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করতে পারি। আমরা সফট স্কিলসের আওতায় ফিনটেক, ডেটা অ্যানালাইসিস, ফোরকাস্টিং, লিডারশিপ, ম্যানেজমেন্টসহ প্রায় ৫০টি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, এতে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। তাদের উৎসাহিত করতে হবে। কারিগরি শিক্ষাকে অনেক সময় দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষা হিসেবে দেখার যে মানসিকতা, আমরা যারা সফট স্কিলস নিয়ে কাজ করি তাদের প্রতিনিয়তই সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাদের এ মানসিকতাও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আমাদের তরুণরা অবশ্যই নতুন নতুন বিষয় শিখবে। কিন্তু এ দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যেও আমরা যেন তাদের দেশপ্রেম, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মানবোধের শিক্ষাও দিই সেটা বিবেচনা করতে হবে। মূল্যবোধগুলো যেন পরিবর্তনের স্রোতে হারিয়ে না যায়।





