বিশ্ব সিওপিডি দিবস ২০২৩ উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের (বিএলএফ) উদ্যোগে চ্যানেল আই স্টুডিওতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘শ্বাসই জীবন, সচেতনতার এখনই সময়’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এ আলোচনায় দেশের স্বনামধন্য বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তি এবং শিক্ষা, ক্রীড়া ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ইলেকট্রনিক মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই এবং প্রিন্ট মিডিয়া পার্টনার ছিল বণিক বার্তা
প্রফেসর ডা. মো. আলী হোসেন
সভাপতি
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
সিওপিডি এখন বৈশ্বিকভাবে মৃত্যুর প্রধান কারণের হিসেবে ৬ নম্বরে আছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এটি তিন নাম্বারে এসে পৌঁছবে। ২০১৯ সালে ৪০ লাখ মানুষ সিওপিডির কারণে মারা যায়। এ ব্যাপকতার জন্য সিওপিডি দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাকে গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। যাতে এ রোগকে প্রতিরোধ করা যায়। গত দুই-তিন দশকে তিন গুণ হয়ে গেছে। আমরা এ বছর আরেকটা জরিপ করব। এর কারণ হিসেবে ৯০ শতাংশ হচ্ছে ধূমপান। বাকিগুলো এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এটাকে এখন লাং ডিজিজ বলা হয় না, এটাকে বলা হয় সিস্টেমিক ডিজিজ। কারণ এর মাধ্যমে শুধু ফুসফুস আক্রান্ত হচ্ছে এমন না, আমাদের ব্রেইন আক্রান্ত হচ্ছে, পেশিসহ শরীরের অনেক অংশই আক্রান্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ে এটি শুধু ফুসফুসের সমস্যা নয়, এটা পুরো শরীরের সমস্যা। এর চিকিৎসায় মূল অংশ সচেতনতা। যদি হয়ে যায় তাহলে চিকিৎসা নেব এবং রিহ্যাবিলিটেশন করব যাতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে আমাদের সিওপিডি রোগীরা স্বাভাবিক জীবন পরিচালনা করতে পারে। খুব প্রাথমিক অবস্থায় সিওপিডিকে চিহ্নিত করা যায়। যেটাকে বলা হয়, প্রি-সিওপিডি। তার ওপর ফোকাস করে সার্ভিল্যান্সের প্রচলনের প্রয়াস করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ
সাবেক শিক্ষক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সম্মাননীয় অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে আমি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হতো। কোনো জটিলতা থাকলে শুরুতেই ধরা পড়ত। এতে রোগের চিকিৎসা সহজ হয়ে যেত। কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিত না। দীর্ঘমেয়াদি রোগ হয়ে গেলে লাখ থেকে কোটি টাকা ব্যয় হয়ে যায়। ফলে আগেই রোগ ধরতে হবে। আগে আমাদের জানাশোনা কম ছিল, এখন জেনেছি আমাদের দৈহিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে। এখন সমস্যা নিয়ে ভাবছি। এখন দেখা যাচ্ছে অনেক সমস্যা আমরা চিহ্নিত করতে পারছি। মানুষকে জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। আমাদের দেশে দায়িত্বশীলরা তাদের কাজ অব্যাহত রাখবেন। সমন্বিত সমাধানে যেতে হবে। আমরা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো আগে থেকেই রোগী শনাক্তের জন্য কাজ করতে পারি। তাতে দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলো শনাক্ত করা সহজ হবে। এতে চিকিৎসা সহজ হবে, রোগ প্রতিরোধেও কাজ করা যাবে।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান
সহসভাপতি
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
সংক্রামক না হলেও সিওপিডি একটি ঘাতক ব্যাধি। শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো পৃথিবীতে এর আধিক্য অনেক বেশি। এর প্রভাবে ফুসফুসের শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি ফুসফুসের যেখানে গ্যাসিয়াস এক্সচেঞ্জ হয়, যাকে অ্যালভিওলাই বলে তা সম্প্রসারিত এবং বিক্ষিপ্ত (ডাইলেশন অ্যান্ড ডিসটরশন) হয়ে যায়। সিওপিডির চেয়ে অ্যাজমার আধিপত্য অনেক বেশি। আমাকে যদি বলা হয়, অ্যাজমা নেবেন না সিওপিডি নেবেন, আমি অ্যাজমা বেছে নেব। অ্যাজমার চেয়ে সিওপিডি অনেক ভয়াবহ। অ্যাজমা রিভার্সিভ, চিকিৎসা দিলে অ্যাজমা ক্রমাগত ভালোর দিকে যাবে। কিন্তু সিওপিডির ভালো হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বাড়তেই থাকবে। সিওপিডি একটি নির্দিষ্ট বয়স থেকে হয়। বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয়া ও দূষিত বায়ু বের করে দেয়ার কাজ বিঘ্নিত করে সিওপিডি। যার ফলে রোগীর শ্বাসকষ্ট হয় এবং নানা উপসর্গ দেখা দেয়। তখন সংশ্লিষ্ট রোগী নিজে, সমাজ, পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে ওঠে। অনেক সময় অকালমৃত্যু হয়। এর জন্য একদল বৈজ্ঞানিক ডব্লিউএইচও এবং ইউএস ন্যাশনাল হার্ট লাং ব্লাড ইনস্টিটিউটের উৎসাহে ১৯৯৮ সালে গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ লাং ডিজিজ (গোল্ড) প্রতিষ্ঠা করে। একসময় মনে করা হতো সিওপিডির কোনো চিকিৎসা নেই। কিন্তু এখন অনেক চিকিৎসা রয়েছে।
ডা. আসিফ মুজতবা মাহমুদ
মহাসচিব
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
সিওপিডি হচ্ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি)। সিওপিডিকে দীর্ঘমেয়াদি এবং ইররিভার্সিবল ভয়াবহ পালমোনারি ডিজিজ বলে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন। পৃথিবীতে প্রধানতম মৃত্যুর যে তালিকা রয়েছে তার মধ্যে এটি তৃতীয়। পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সঙ্গে ধূমপান ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। এ চ্যালেঞ্জের কারণে তালিকায় সিওপিডি ধীরে ধীরে ওপরের দিকে চলে আসছে। শুধু মৃত্যু নয়, রোগীর দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার জন্য এটি দুরূহ অবস্থা হয়ে দাঁড়ায়। এর জন্য শুধু রোগী নয়, তার পরিবার-সমাজকে এটা বহন করতে হয়। ২০০৭ সালে ১২ জন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ এ ফাউন্ডেশন গঠন করি। লাং ফাউন্ডেশন ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো নিয়ে জাতি ও সমাজের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিগ ফাইভ নামে একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে। সেখানে সিওপিডি স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশে এ রোগের পরিস্থিতি কী তা নিয়ে ২০১০-১১ সালে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে দেশব্যাপী একটি জরিপ পরিচালনা করি। এর পর আমাদের ধারণা পাল্টে গেল। ছাত্র হিসেবে আমরা শিখেছিলাম, চল্লিশোর্ধ্ব একজন ধূমপায়ী পুরুষ সিওপিডিতে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গ্রাম থেকে তথ্য নিয়ে ফেরার পর দেখলাম, অসংখ্য নারী সিওপিডিতে আক্রান্ত। কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ তথা কাঠের চুলার ধোঁয়া, ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাকার কারণে সিওপিডি হয়ে থাকে। শুধু বাইরের দূষণ নয়, অভ্যন্তরীণ দূষণও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন
উপাচার্য
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর
সিওপিডি ধূমপানের কারণে প্রভাবিত হয়। রোগের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমকে উপযুক্ত করে প্রস্তুত করতে হবে। বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষায় এ বিষয়গুলো উঠে আসতে হবে। পরিবেশের বিষয়গুলো পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে রয়েছে। তবে রোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে থাকতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সচেতনতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন সতীদাহ প্রথার বিষয়ে সচেতনতার চেয়ে আইন কাজ করেছিল বেশি। শুধু সচেতনতার কারণে এসব বিষয় কখনই বিলুপ্ত করা যায় না। হিউম্যান বিহ্যাভিয়ার (মানব আচরণ) এমনই যে শুধু সচেতনতায় তেমন কোনো ফলপ্রসূ বিষয় হয় না। সচেতনতার মধ্যে যে পুরস্কার ও শাস্তির বিষয় রয়েছে তা মানুষকে জানাতে হবে। শুধু লিফলেট বিতরণ করাই সচেতনতা নয়। শুধু জনগণকে কাউন্সেলিং (সচেতন) করে বাস্তবায়ন হয় না। যারা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে তাদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। নব্বইয়ের দশকে শক্তি প্রয়োগ করে রাজধানী থেকে বেবিট্যাক্সি তুলে দেয়া সম্ভব হয়। কেননা ওই যানবাহনটি পরিবেশ দূষণ ও মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করত। সরকার চাইলে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো আসতে হবে। আমরা দরিদ্র জনগোষ্ঠী। দূষণ আমাদের কোনো না কোনোভাবে থেকে যাবে। তবে আমরা আশাবাদী, পরিবর্তন হচ্ছে বলেই আমরা উন্নয়নশীল দেশের দিকে যাচ্ছি। এর জন্য আরো জোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় দূষণ বেশি। সেখানে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত লোকজন থাকেন। সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্র যারা পরিচালনা করে তাদের আরো জোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডা. মোহাম্মদ আবদুস শাকুর খান
কোষাধ্যক্ষ
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
সিওপিডি নামক রোগের কষ্ট, সীমাবদ্ধতার প্রভাব পৃথিবীতে রয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। এ বিশেষ রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে দিবসটি পালন করা হয়। এ রোগ প্রতিরোধ না করতে পারলে পরবর্তী সময়ে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতি নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হবে। বিষয়টি অনুধাবন করে ২০০৭ সালে গঠিত বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই সিওপিডিকে তার উইং হিসেবে বিবেচনা করে। সিওপিডির বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে কার্যকলাপ পরিচালনা করে থাকে। সিওপিডি বিষয়ে কর্মশালা, সম্মেলন ও দেশে-বিদেশে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। সিওপিডির বিষয়ে গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ লাং ডিজিজ (গোল্ড) নামে একটি কাঠামো কাজ করছে। তাদের নির্দেশনায় সিওপিডির ব্যবস্থাপনায় আমরা সক্রিয়। বায়ুদূষণ এবং ফুসফুসের স্বাস্থ্য অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ফুসফুসের সুস্বাস্থ্যের জন্য নির্মল বাতাসের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা দূষণের মধ্যে বসবাস করছি।
ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেন্নূর
যুগ্ম সম্পাদক
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
তামাক আমাদের আজকের শত্রু নয়। শত শত বছর ধরে এটা মানবসভ্যতার পেছনে লেগে রয়েছে এবং সভ্যতাকে একটি মোহের মধ্য দিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য শুধু ধূমপান করতে হবে তা নয়। তামাক যদি অন্য কোনোভাবে আমরা সেবন করি যেমন জর্দা, সাদা পাতা, গুল গ্রহণ করলে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। একজন ধূমপায়ী বা তামাক সেবনকারীর ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যান্সার বা অন্য কোনো ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৫ গুণ বেশি থাকে। স্ট্রোক, পক্ষাঘাত এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা বেশি। এজন্য তামাক ব্যবহার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলে সিওপিডিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। একই সঙ্গে অনেক জটিল রোগ থেকেও বেঁচে আসতে পারব। নারীদের মধ্যেও এখন ধূমপান বাড়ছে। কোনো নারী গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে বা অন্য কোনোভাবে পরোক্ষ ধূমপানের মধ্য দিয়ে গেলে তার সন্তানের জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। গর্ভের শিশুটি বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা অনেক গুণ বেড়ে যায়। এর জন্য আমাদের বিশেষ সাবধানতা নিতে হবে। আমরা চাই না আমাদের সামনে একটি বিকলাঙ্গ জাতি এসে দাঁড়াক। তামাক ব্যবসায়ীরা বেনিয়া মনোবৃত্তি নিয়ে সব দেশে কাজ করেন। চিকিৎসকরা, আইনজীবী, নীতিনির্ধারকরা যতভাবেই চেষ্টা করুক, তারা আরো সুচতুরভাবে, ফাঁকফোকর দিয়ে নানা রকম প্রমোশন করতে থাকেন। বয়স্ক ব্যক্তিরা যখন বুঝতে শিখেছেন তামাক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তখন তারা শিশু ও তরুণদের টার্গেট করে।
ইমদাদুল হক মিলন
সম্পাদক, কালের কণ্ঠ ও ঔপন্যাসিক
আমি ধূমপায়ী ছিলাম। ১৯৮৮ সালে আমি তা ছেড়ে দিয়েছি। তার প্রধান কারণ ছিল আমার বন্ধু অভিনেতা আফজাল হোসেন। ও ধূমপান করে না। আমাকে এ অভ্যাস ছাড়তে ও বাধ্য করেছিল। ধূমপানের কারণে একসময় মারাত্মক ক্ষতি হয়, তার উদাহরণ আমার বন্ধু অভিনেতা। সে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়েছিল। আরেক প্রথিতযশা লেখকের কথা বলতে পারি যিনি ধূমপান করতেন। প্রচুর ধূমপান করার কারণে তিনি শেষ সময়ে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমরা এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি। আমাদের একটা সংগঠন রয়েছে, শুভ সংঘ। এখানে ১৬ লাখ ছেলেমেয়ে রয়েছে। আমরা এ সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতার কাজ করি। কুষ্টিয়ায় মাইলের পর মাইল জমিতে তামাকের চাষ হচ্ছে। ধূমপান, মাদকের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। নিয়মিত আলোচনাও হয়, তবে কোনো ফলাফল নেই। তামাক ও সিগারেট কোম্পানিগুলো কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষকরা তামাক চাষ করলে আর্থিকভাবে লাভবান হন ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে। কৃষকরা আমাদের বলেন, তামাকে যে টাকা আয় হয়, ধান চাষে সেই আয় নেই বিধায় তামাক চাষে তাদের আগ্রহ বেশি। এ বিষয়টির সঙ্গে যে মাত্র একটি বিষয় জড়িত তা কিন্তু নয়। আর শুধু সচেতনতা নয়, শাস্তিও প্রয়োজন। পৃথিবীর কোনো কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী আইন ভঙ্গ করলে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমেও জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন। আর আমাদের দেশে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে শাস্তি ৫০ টাকা।
ডা. খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিক
পরিচালক
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে বায়ুদূষণ, পরিবেশ দূষণের মতো ঘটনা ঘটতেই থাকে। এর থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো উপায় নেই। একটাই উপায় আছে, যথাযথ প্রায়োগিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে উত্তরণ করতে হবে। ২০২২ সালের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় বলা হয়েছে, কীভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কে করবে, কোথায় করবে। প্রশ্ন থাকতে পারে, প্রায়োগিক দিক কী তাহলে? প্রশ্ন রাখার মধ্য দিয়ে আমরা শিখতে পারব, দিন দিন কী করতে হবে। ভুলের মধ্য দিয়ে আমাদের শিখতে হবে।
ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়
আবৃত্তিশিল্পী
আবৃত্তি, বাচিক শিল্পী ও ভয়েসওভার করার ক্ষেত্রে শ্বাসই প্রধান। আমি একসময় ধূমপায়ী ছিলাম। কিন্তু ধূমপান ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। কেননা ধূমপানের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হতো। আমি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, এতে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্রিদিং কন্ট্রোল, কণ্ঠের অনুশীলন। যাতে ধূমপায়ীদের সমস্যা হয়। ধূমপান পরিত্যাগ করে আমি যে উপকার পেয়েছি তা এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোচনা করি। সবাই ধূমপান পরিত্যাগ করলে শ্বাসনালি ফুসফুস সমস্যায় আক্রান্ত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। সিওডিপি দিবসে এ উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ফেরদৌস ওয়াহিদ
সংগীতশিল্পী ও পরিচালক
আমাদের অবস্থা এমন যে আমরা বুঝেও বুঝি না। আপনারা আমাদের বোঝাতে থাকবেন, বলতে থাকবেন। এমন করতে করতে হয়তো একসময় পরিবর্তন হবে। আপনারা যারা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেন, তাদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি। বলতে গিয়ে আপনারা ধৈর্যহারা হবেন না। আপনাদের মাধ্যমে আমরা একসময় বুঝতে সক্ষম হব।
একটা সময় মানুষ ধূমপান করত গোপনে, এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে। এতে নারীদেরও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। তারাও ধূমপায়ী হচ্ছে। গোড়া থেকেই স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে হবে। টেলিভিশনে, নাটকে আমরা দেখছি ধূমপানবিরোধী লেখা কিন্তু সেখানে ধূমপানকে দেখানো হয়। আইন কতটুকু মানা হচ্ছে? এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম
তামাকবিরোধী কর্মী
টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস
একসময় সিগারেটের প্রচুর বিজ্ঞাপন হতো। পত্রিকা, টেলিভিশন খুললে ধূমপানের বিজ্ঞাপন দেখা যেত। এখন সেটা হয় না। এখন ধূমপানমুক্ত অনেক জায়গা তৈরি হয়েছে। এগুলো আমাদের তামাকবিরোধী আন্দোলনের ফলে তৈরি হয়েছে। তখন আইন করার সময় অবকাঠামোগত কিছু ছাড় দেয়া হয়েছিল। চাইলেই উন্মুক্ত স্থানে স্মোকিং কর্নার করে ধূমপান করা যাবে। এর সুবিধা নিয়ে বর্তমানে তামাক কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে রেস্টুরেন্টগুলোয় স্মোকিং জোন তৈরি করে। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। আরেকটি হচ্ছে আমাদের নাটক-সিনেমায় ধূমপানের চিত্র দেখানো হয়। আমাদের জনসমাজের বড় অংশই তরুণ। তাদের বড় একটি অংশকে টার্গেট করছে তামাক কোম্পানিগুলো। তাদের যদি ধূমপানে আসক্ত করতে পারে তাহলে এ বাণিজ্য ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। ধূমপানের সহায়ক শক্তি বলে ই-সিগারেট আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি নিষিদ্ধ করা না হলে আমাদের যে উদ্দেশ্য তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
ডা. হেনা খাতুন
আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
সিওপিডির বিষয়ে মানুষকে জানানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। যারা সমাজে প্রতিনিধিত্ব করেন তারা এখনো সিওপিডি সম্পর্কে জানেন না। যারা শ্রমিক, যারা বিড়ি-সিগারেট গ্রহণ করছে, বায়ুদূষণের মধ্যে কাজ করছে তাদের জানানো জরুরি। কোনো কিছু না জানলে তা প্রতিরোধ করতে পারব না। সিওপিডির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তৃণমূল থেকে নীতিনির্ধারক ও নেতা সবাইকে জানাতে হবে। সবাই সচেতন হলে রোগ তীব্রতর হওয়ার আগে রোগী শনাক্ত করা গেলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ঘরের মধ্যে নারীরা চুলার ধোঁয়াসহ অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের কারণে সিওপিডিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা উন্নত চুলা ব্যবহারের প্রথা চালু করতে পারলে এটি প্রতিরোধ করা যাবে। সামগ্রিক জীবন, আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। আমাদের মেট্রোরেল চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে আমি ৩২ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল যাচ্ছি, বায়ুদূষণ নেই। উন্নত জীবন আমাদের বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা করে।
ডা. শেখ শাহিনুর হোসেন
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন বা ফুসফুসীয় পুনর্বাসন আমাদের এখানে খুব পরিচিত একটি শব্দ। খেলাধুলার ক্ষেত্রে পুনর্বাসন শব্দটি বেশ ব্যবহার করা হয়। যারা আঘাত প্রাপ্ত বা দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছেন তাদের জন্য এ পুনর্বাসন।
পুনর্বাসন সুপারভাইজ মেডিকেল শিক্ষা। এটি ব্যায়ামের একটি প্রোগ্রাম। যারা দীর্ঘদিন শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে। সিওপিডির ক্ষেত্রে রোগীদের লক্ষণগুলো তথা হাঁটতে গেলে, চলতে গেলে, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে হাঁপিয়ে ওঠা। আগে যখন সিওপিডি ছিল না, তখন সব ধরনের কাজ করে বেড়াত। সিওপিডি যখন হয়েছে তখন সব ধরনের কাজ করা বন্ধ করে দেয়। পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাকে আবার কর্মক্ষম করে তোলা হয়। নিজের কাজ যেন নিজে করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়। হারিয়ে যাওয়া কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হয়। এটি রোগকে নিরাময় করে না। কিছু শিখিয়ে দেয়া ব্যায়াম ও কৌশলের কারণে অনেক বেশি আরাম পায়। ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হলে পালমারো রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে তার কার্যক্ষমতাকে আমরা আবার ফিরিয়ে আনি। এটি একটি সমন্বিত প্রোগ্রাম।
ব্যারিস্টার মিতি সানজানা
আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট ও সমাজকর্মী
মানুষের বিভিন্ন ব্যাধির সঙ্গে পরিবেশ দূষণের মতো বাহ্যিক কারণগুলো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা উন্নয়ন ও নগরায়ণ বন্ধ করে দিতে পারব না। তাই নগরায়ণের পাশাপাশি এর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবেশের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এগুলো চিহ্নিত করতে পারলে ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং ঝুঁকিগুলো প্রশমন করা যাবে। পরিবেশ আইনটি বেশ পুরনো। আইনটি পরিবেশ আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া পৃথক তিনটি আদালত রয়েছে। কিন্তু প্রায়োগিক দিক দেখলে দেখা যায় যে প্রয়োগের দিক থেকে কিছু গ্যাপ রয়ে গেছে। পরিবেশ আদালতের ২০২২ সালের একটি জরিপে দেখা যায় যে এখানে প্রায় সাত হাজারের মতো মামলা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক মামলা রয়েছে চারশর মতো। অর্থাৎ মূল মামলার মাত্র ৫ শতাংশ সংরক্ষণবিষয়ক। কাজেই প্রায়োগিক দিক থেকে আমরা দেখতে পারছি পরিবেশ সম্পর্কে মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুধু আইন দিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। আইনের পাশাপাশি এ ধরনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, যেখানে সব স্টেকহোল্ডারকে এক সঙ্গে করা যায়। ঢাকা শহরে দিনে দূষণের যে অবস্থা তা রাতে থাকছে না, এর অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এ সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
ডা. দেওয়ান আজমল হোসেন
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
বায়ুদূষণ ভয়াবহভাবে সিওপিডিকে প্রভাবিত করতে পারে। সিওপিডিতে আক্রান্ত রোগী দূষিত বাতাসের মধ্যে থাকলে তার অসুখের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। বায়ুদূষণকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করি। একটি অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ এবং বহিঃ বায়ুদূষণ। অনেক নারী সিওপিডিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের মা-খালা-চাচিরা বদ্ধ রান্নাঘরে লাকড়ি দিয়ে রান্না করছেন। তারা নিয়মিতই এ ধোঁয়া নিশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তাদের ফুসফুসে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন চলে আসছে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে সিওপিডির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কয়েলের ব্যবহার, চুলার ব্যবহারের কারণে এসব সমস্যার সৃষ্টি হয়। বহিঃ বায়ুদূষণ হাজার কারণে হচ্ছে। গাড়ির কালো ধোঁয়া, কলকারখানার নির্গত ধোঁয়া, ইটের ভাটার কালো ধোঁয়া। এগুলো কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে বের হলে দেখা যাবে অসংখ্য ইটের ভাটা তৈরি হচ্ছে। বায়ুর সঙ্গে বিভিন্ন পার্টিকেল (ভারী ধাতব কণা) যখন মিশে গিয়ে আমাদের ফুসফুসে আসে, তখন বাতাসটা আমাদের ফুসফুসের জন্য খুবই ক্ষতিকর হয়। যে কারণে আমরা নিজেরাই সিওপিডির দিকে এগিয়ে যেতে থাকি।
আমাদের পরিবেশ মন্ত্রণালয় আছে, তারা যদি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় তাহলে আমরা অনেক এগিয়ে যেতে পারব।
জাহানারা আলম
ক্রিকেটার
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল
ফুসফুসের স্বাস্থ্য খেলাধুলার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত। আমি ১০ বছর বয়স থেকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে শুরু করি। এর পর থেকে আমার ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে আমি মুক্ত হই। আমার মনে হয়, আমাদের অভিভাবকরা যদি শিশুদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন তাহলে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকবে এবং শারীরিক ক্ষতি হয় এমন নেশাজাতীয় পণ্য থেকে দূরে থাকবে তারা। শুধু ফুসফুস না, শরীরের যেকোনো সমস্যা থেকে তারা সুস্থ থাকবে। শিশুরাই আমাদের সমাজের মূল শক্তি। ভবিষ্যতে তারা যুবদের প্রতিনিধিত্ব করবে। যুবদের খেলাধুলা করা সম্ভবপর হয় না, তারা সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত থাকে। তারাও শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে তাদের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করতে পারে। আমাদের সবারই চেষ্টা করা উচিত, যেকোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই নিজেকে সময় দেয়া উচিত এবং নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
মুনিরা ইউসুফ মেমী
অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী
আমরা ছোটবেলায় পরিবার, স্কুল, সংগঠন, সমাজ থেকে শিখেছি। আমাদের মুকুল ফৌজ ছিল, কচিকাঁচার আসর ছিল। আমাদের স্কুলিংটা এখন আর নেই। আমাদের সমন্বয়ের অভাবের জন্য এখন আর এসব কিছু হয় না। পারিবারিক শিক্ষা এবং শিশুদের সংগঠন খুবই জরুরি। আমরা এখন গেজেট তুলে দিচ্ছি, ভালো খাবার দিচ্ছি না, ভালো ফল দিচ্ছি না। আমাদের শিশুরা শিখবে কোথা থেকে? যারা নাটক বানাচ্ছে, নাটকে সিগারেট খাচ্ছে, এটা শাস্তিমূলক অপরাধ। সিনেমার আগেও দেখা যায়, মাঝখানেও দেখা যায়, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ঠিকই ধূমপান নেয়ার দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছে। এর জন্য শুধু সচেতনতা নয়, সঙ্গে সঙ্গে পানিশমেন্টও নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে শিল্পী, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তারের জন্য আলাদা কোনো কিছু নয়।
ডা. মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ
বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
হৃৎপিণ্ডের ডায়াগনোসিস করার জন্য অনেক ধরনের ইনভেস্টিগেশন করা হয়। তার মধ্যে ইসিজি একটি। হৃৎপিণ্ডের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিনা তা এর মাধ্যমে জানা যায়। তদ্রূপ ফুসফুসের রোগ ডায়াগনোসিসের জন্য অনেক পরীক্ষা আছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা স্পাইরোমেট্রি। যার মাধ্যমে আমরা ফুসফুসের বাতাসের প্রবাহ কতটুকু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফুসফুস থেকে কতটুকু বাতাস বের করতে পারি এবং কত জোরে ফুসফুস থেকে বাতাস বের করতে পারি—এ দুটো বিষয়ে দিয়ে আমরা সিওপিডি নির্ধারণ করতে পারি। শুধু শ্বাসকষ্ট হলেই সিওপিডি হয় এমন নয়, এটির সঙ্গে ধূমপান, বয়স্কতা এবং পুরুষদের সঙ্গে বেশি সংশ্লিষ্ট। শ্বাসকষ্ট হলেই মানুষ আমাদের কাছে বলে ইনহেলার ব্যবহার করছি, কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। অনেক ধরনের ইনহেলার আছে। অ্যাজমার একধরনের চিকিৎসা এবং সিওপিডির জন্য ভিন্ন ধরনের চিকিৎসা। প্রথমত, সিওপিডির ক্ষেত্রে ধূমপান যেহেতু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর সেজন্য ধূমপান প্রতিরোধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, টিকা নিতে হবে।
মো. মিজানুর রহমান
মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং)
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড
সচেতনতা ও সুস্থ জীবনযাপনের পরও সবকিছু ঠিকমতো যায় না। যার জন্য ওষুধ লাগে। এর জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ওষুধ প্রস্তুত করতে হয়। আমাদের বেশির ভাগ কার্যক্রম সচেতনতা নিয়ে, প্রতিরোধ নিয়ে প্রতিকার নিয়ে নয়। আমরা অনেকের সঙ্গে কাজ করছি। লাং ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আমরা সমন্বিত কাজ করছি। আমাদের ১০ হাজার কর্মী। তাদের সবাই তো ডাক্তারের কাছে যায়। সেখানে ভালো উপদেশ পেলে তা আমাদের কাজে লাগে। ফার্মাসিউটিক্যাল অনেক অ্যাডভান্স হয়েছে। এখন অনেক টার্গেটেড, স্পেসিফিক, অ্যাডভান্স চিকিৎসা রয়েছে। একটি ওষুধ নিয়ে কাজ হচ্ছে, ১০ বছর পর বাজারে আসবে। আমরা এমন কোনো ওষুধ নিয়ে আসি না যা আমাদের দেশের জনগণ ক্রয়ের জন্য সামর্থ্যবান না। আমরা অনেক ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছি। প্রথম কোম্পানি হিসেবে ইনসেপ্টা বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের প্রচলন করে। সচেতনতা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।





