বিভিন্ন আয়োজনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) পালিত হয়েছে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এনএসইউ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। মুখ্য আলোচক ছিলেন ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। সভাপতিত্ব করেন নিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ।
মুখ্য আলোচক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘ভাষা জ্ঞান অর্জনের উপকরণ। তবে এটি শুধুমাত্র জ্ঞান ও যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি পরিচয়েরও একটি মাধ্যম। বাংলার পাশাপাশি অন্য ভাষা চর্চাকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তবে তা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে কম গুরুত্ব দিয়ে নয়।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, নতুন প্রজন্ম বাংলা ভাষার মর্যাদা ও চেতনাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজ আল কায়সার বলেন, ‘ভাষা চর্চার বিষয়। বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের নিয়মিত ভাষা চর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজ বাড়াতে হবে। মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মাতৃভাষাকে কোনোভাবেই কম গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। ভাষা আমাদের একত্রিত করে, বিভক্ত করে না। বিশ্বের অনেক জাতি নিজেদের ভাষায় জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা করে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। জাতি হিসেবে আরো এগিয়ে যেতে আমাদের বাংলা ভাষায় শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল কার্যক্রমকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে।’










