মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও ‘শিখা’ পত্রিকার শতবর্ষ উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। গত ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ঢাকার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। সূচনা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। মূল বক্তব্য দেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।

উদ্বোধনী পর্বের আলোচনায় বক্তারা বলেন, একশ বছর আগে ঢাকায় কয়েকজন লেখক ও বুদ্ধিজীবী যুবক যে মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা চিন্তার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাদের মতে, এ সংগঠন কোনো বিশেষ ধর্মগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য গড়ে ওঠেনি। বরং রক্ষণশীলতা দূর করে বৃহত্তর মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এর জন্ম।

বক্তারা আরো বলেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, আবুল ফজল, আবুল হুসেন ও কাজী আনোয়ারুল কাদিরসহ কয়েকজন অগ্রসর চিন্তার লেখক ও ভাবুক সমাজের সার্বিক মুক্তির জন্য চিন্তার মুক্তির ওপর জোর দিয়েছিলেন। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ ছিল ‘শিখা’ পত্রিকা। অল্প সময় প্রকাশিত হলেও এটি বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। ‘শিখা’য় প্রকাশিত লেখা সেই সময়ের বাঙালি মুসলমান সমাজের চিন্তার দ্বন্দ্ব ও অগ্রসর হওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলা একাডেমি মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও ‘শিখা’ পত্রিকার শতবর্ষকে গুরুত্ব দিয়ে উদযাপন করেছে। দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে সমকালীন লেখক ও ভাবুকদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষকদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচিত হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ সম্মেলন চিন্তার মুক্তির আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করবে।

দুইদিনে মোট ২২ জন বিশেষজ্ঞের সভাপতিত্বে সম্মেলন পরিচালিত হয়। এতে ১০০ জন দেশী ও বিদেশী প্রাবন্ধিক অংশ নেন। তারা মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও ‘শিখা’ পত্রিকার পটভূমি, প্রকাশ ও বিকাশ, প্রতিবন্ধকতা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং পরবর্তী প্রভাব নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

—বিজ্ঞপ্তি