আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতায় বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি দাবি করেছে বেসরকারি সংস্থা বি-স্ক্যান। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে ভোটের দিন তাদের প্রবেশগম্যতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সভায় 'নির্বাচনী আইন ও নীতিতে প্রতিবন্ধী মানুষের অনুপস্থিতি: একটি নীতিগত বিশ্লেষণ' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বি-স্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ এক দশকেরও বেশি আগে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন অনুমোদন করলেও এখনো সাংবিধানিক ও নির্বাচনী কাঠামোর ভেতরে সেই অঙ্গীকারগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের রাজনৈতিক ও জনজীবনে সমান ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
নীতিগত বিশ্লেষণের নেতৃত্বদানকারী ডিজেবিলিটি স্পেশালিস্ট নুসরাত জেরিন বলেন, সরকারের বিভিন্ন আইনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অক্ষম বলে মানব বৈচিত্রের ধারনাটির প্রতি সমর্থনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী ভোটারদের অংশগ্রহণকে ঐচ্ছিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাই আমরা আইনে তাদের অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া প্রণয়নের আহ্বান করছি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বতন্ত্র অধিকারভোগী হিসেবে সুস্পষ্ট স্বীকৃতি দিতে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় আরো সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে কোটা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
ঢাকা ডিপিওডির নির্বাহী পরিচালক লাকি আক্তার বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের কার্যকর চাবিকাঠি নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে, এবং নির্বাচনের আগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এখনো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।
বি- স্ক্যানের তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও সহযোগী সমন্বয়কারী বাপ্পী সরকার বলেন, সরকার আমাদের ভোটদানের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহায়তাকারীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেনি, ভোটকেন্দ্রে যা জটিলতার কারণ হতে পারে। এছাড়াও তিনি প্রতিবন্ধী ভোটারদেরকে পোস্টাল ব্যালটে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনটিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে লক্ষ্যভিত্তিক ভোটার তথ্য ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, ভোটের দিনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সহায়তাপ্রাপ্ত ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির ওপর।
বি-স্ক্যানের সমন্বয়কারী মাহফুজ রাকীভের উপস্থাপনায় আয়োজনে আরো বক্তব্য দেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ। ইশারা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করেন তানজিলা আক্তার।
- বিজ্ঞপ্তি










