কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) হাল্ট প্রাইজ অন ক্যাম্পাস রাউন্ড ২০২৫-২৬ প্রতিযোগিতার ফাইনাল সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম 'কাগজ ডট কম'। প্রথম রানারআপ হয়েছে 'থ্রি ডট' এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে 'টিম ট্রেইলব্লেজার'।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সাবরিনা আলমের  সঞ্চালনায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. সোহরাব উদ্দীন এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে বিচারক ছিলেন এক্সিলারেটিং বাংলাদেশের ন্যাশনাল মেন্টর এবং কোচ তারিফ মোহাম্মদ খান, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আদনান হোসাইন এবং হোসটিং ডট কমের ওয়ার্ড প্রেস কন্ট্রিবিউটর আহমেদ কবির চয়ন। 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিউনিটি কোঅর্ডিনেটর মো. আবিদ শাহরিয়া। 

গত ২৬ অক্টোবর হাল্ট প্রাইজ-এর অন ক্যাম্পাস প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ১২০টি দল রেজিস্ট্রেশন করে। বিভিন্ন ধাপ শেষ করে ২৪টি দল সেমি ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। সেখান থেকে ১০টি দল ফাইনালে অংশগ্রহণ করে। ফাইনালে তিন বিজয়ী দলকে ১৫  হাজার টাকা প্রাইজ মানি হিসেবে দেয়া হয়।

ফাইনালে যে দশটি দল প্রতিযোগিতা করে তারা হলো টিম আউটলায়ার্স, ফিনোভা, সিওইউ ইম্প্যাক্ট ক্যাটালিস্ট, কাগজ ডট কম, ট্রেইলব্লেজার, প্রসপারেক্স, চেকমেট, পাওয়ার পিক্সেল, দ্য অ্যারোম্যাটিক ২.০, থ্রি ডট, নাইট আউল।

ফাইনালে টাইটেল পার্টনার হিসেবে ছিল স্পিড, সিলভার পার্টনার হিসেবে ছিল আর এম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, স্ন্যাকস পার্টনার হিসেবে ছিল আর এফএল, ফ্যাশন পার্টনার হিসেবে ছিল সৃষ্টিশীলা, অনলাইন মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনের স্ট্যান্ডার্ড, ইউথ এঙ্গেজমেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল টিবিএস গ্র্যাজুয়েট, হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ছিল এলিট প্যালেস, মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল বণিক বার্তা, ফুড পার্টনার হিসেবে ছিল পেশওয়ারি টেলস, জাইতুন, ফুড হ্যাভেন, মার্কেটিং পার্টনার হিসেবে ছিল স্ট্র্যাটেজিক্স, নলেজ পার্টনার হিসেবে ছিল বিওয়াইসিএল, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল এক্স বিডি, হাইয়ার এডুকেশন পার্টনার হিসেবে ছিল এবরোড স্টাডি। 

বিজয়ী দল কাগজ ডট কম-এর সদস্য ফাইরোজ বিনতে জাকারিয়া বলেন, আমাদের জার্নিটা শুধু জেতার জন্য না শেখার জন্যও ছিল। এর আগেও আমরা এখানে অংশগ্রহণ করেছি সেকেন্ড রানারআপ হয়েছিলাম। এবার চ্যাম্পিয়ন হলাম, বেশ ভালো লাগছে কারণ আমরা টিম হিসেবে সব ভুলের উর্দ্ধে গিয়ে জিতেছি।

অনুষ্ঠানে হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিউনিটি কোঅর্ডিনেটর মো. আবিদ শাহরিয়ার বলেন, সব গ্রুপের প্রেজেন্টেশন খুব ভালো ছিল, এখন আপনারা ১০ মিনিট করে সময় পেয়েছেন। জাতীয় এবং বিশ্ব পর্যায়ে ৪ মিনিট সময় পাবেন বিট করার জন্য আর ৪ মিনিট সময় থাকবে প্রশ্ন উত্তরের জন্য। হাল্ট প্রাইজ আপনার কাছ থেকে ডিজাইন চায় না, আপনার থেকে একটা বিজনেস মডেল বা আইডিয়া চায়, যেটা বিশ্বকে পরিবর্তন করবে। আর চ্যাম্পিয়ন টিমের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেইলে একটা এপ্লিকেশন আসবে। এপ্লিকেশনটা ডাউনলোড করে আপনার ডিটেইলস সাবমিট করতে হবে। অন্যথায় আপনি জাতীয় পর্যায়ে আসতে পারবেন না।

হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আপনারা যারা বিচারক হিসেবে এসেছেন এবং দূর-দুরান্ত থেকে সমন্বয়কারীরা এসেছেন, সবাইকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

হোসটিং ডট কম এর ওয়ার্ড প্রেস কন্ট্রিবিউটর এবং বিচারক আহমেদ কবির চয়ন বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই বহু অনুরোধ, ব্রিফিং ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে আসা ভিন্নধর্মী ধারণাগুলো দেখেই বোঝা যায়, আজকের সময় ব্যয় একেবারেই বৃথা যায়নি। কিছু শেষ মুহূর্তের বাধা থাকলেও আয়োজক দলের নিষ্ঠা ও অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহের কারণে ‘হাল্ট প্রাইজ’ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর জন্য আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব, একে অপরের সঙ্গে কথা বলো, নেটওয়ার্ক করো ও পরস্পর থেকে শেখার চেষ্টা করো; কেউ আর্থিক মডেলে ভাল, কেউ ব্যবসায়িক ধারায়- এ বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি। সার্বিকভাবে সফলতার পথ প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা; পরাজয় মেনে নেয়া ও বিনয়ের সঙ্গে কাজ করা আপনাদেরকে জীবনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিচারক আদনান হোসেন বলেন, আজকের অনুষ্ঠান দেখে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। বিচারক হিসেবে বলতে পারি, প্রতিযোগিতাটি কঠিন ছিল। এটি কেবল সূচনা

এক্সিলারেটিং বাংলাদেশ এর  ন্যাশনাল মেন্টর এবং বিচারক তারিফ মোহাম্মদ খান বলেন, আজকের অভিজ্ঞতা আমাকে ও আমার সহকর্মীদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আয়োজকদের ধন্যবাদ।