নারীরা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন এবং এ নারীরা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণী-পেশার ছিলেন না। তারা ছিলেন সর্বস্তরের। দ্রোহযাত্রার আগের দিনের একটি ঘটনা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে মনে পড়ে। সাধারণত গণ-আন্দোলনের শুরু থেকে আমাদের মাথায় দেশের পতাকা বা লাল কাপড় বাঁধা থাকত। সে সময় অল্পবয়সী বা শিক্ষার্থীদের দেখলেই হামলা করা হচ্ছিল। এর পরও দ্রোহযাত্রার আগের রাতে আমরা লাল কাপড় সংগ্রহে বের হই নিজস্ব এলাকায়। আন্দোলনের সময়টায় আমরা আরো পরিচিত মুখ হয়ে উঠি সেখানে। একটি টেইলার্সে গিয়েছিলাম কাপড় সংগ্রহ করতে। কিন্তু যেতেই একজন ভদ্রমহিলা টেইলার্সের দোকানের শাটার নামিয়ে দেন। আমরা ভয় পেলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন শাটার নামানো হলো। তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে আমাদের চুপ থাকতে বললেন। কিছুক্ষণ পর তিনি একটা ব্যাগের মধ্যে লাল কাপড় দিলেন এবং বললেন, এখন নিরাপদ তোমরা। কেউ দেখবে না। কাপড়ের ব্যাগটি নিয়ে আমরা টাকা দিতে গিয়েছিলাম, তিনি টাকা নেননি। মনে পড়ে তিনি বলেছিলেন, আমার আন্দোলনে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। কিন্তু আমি মনেপ্রাণে আন্দোলন সমর্থন করি। এ কাপড়গুলো আমার পক্ষ থেকে দিলাম। তোমরা দেশটাকে রক্ষা করো।
মূলত এভাবে নারীরা যে যার অবস্থান থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঘরে-বাইরে কিংবা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের জমিন নারীর জন্য উর্বর ছিল না, এখনো নেই। তার অন্যতম কারণ বাংলাদেশে যত রাজনৈতিক দল আছে কখনই নারীদের নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করেনি।
বেশির ভাগ সময় নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে স্বামী বা বাবা। ফলে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছেটাও তার নিজস্ব নয়। সত্যিকার অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন চাননি কেউ। আজও চান না। কর্তৃত্ববাদী চিন্তা এ রাষ্ট্রের পরতে পরতে রয়েছে! যার ভুক্তভোগী হতে হয় নারীকে। তবে নারীরা এখন আগের চেয়ে সচেতন। জনশ্রুতি আছে, নারীরা অনেক কথা বলেন। তবে নারীরা এখন অনেক কথার ভিড়ে প্রয়োজনীয় কথা বলতে জানেন। কারো চাওয়া-পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে নিজেরাই মাঠে সরব আছেন এবং থাকবেন বলে মনে করি।
সে ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি বর্তমানে নারীরা নিজের ইচ্ছায় সচেতনভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছেন। করতে চাচ্ছেন। নাগরিক হিসেবে নিজের হিস্যা বুঝে নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ও সজাগ আছেন। আমাদের সচেতন থাকতে হবে, আমরা যে মতাদর্শই ধারণ করি না কেন, নারীদের ঐক্যে ফাটল ধরে এমন কোনোকিছুই করা যাবে না। কারণ ঐক্যই নারীর একমাত্র শক্তি। আমাদের লড়াইটা একসঙ্গে জারি রাখতে হবে সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে।





