আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা অনেক বেশি ছিল, কিন্তু সে জায়গা থেকে বর্তমানে নারীরা পুরোপুরি নেই হয়ে গেছে। জুলাই আন্দোলনে মেয়েরা যদি ৫০ শতাংশও থেকে থাকে, এখন সেখানে ১ শতাংশ নারীও মাঠে আছে কিনা সন্দেহ। আন্দোলনে আমি অনেক সাহসী মেয়েদের দেখেছি, তারা আন্দোলনে ছেলেদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সভা-সমাবেশে মেয়েদের বসতে দেয়ার সৌজন্যও অনেকে করেন না। আসলে মেয়েরা ধাক্কাধাক্কি করে জায়গা নিতে চায় না। আমি বলছি না, মেয়েদের বাড়তি সুযোগ দিতে হবে কিন্তু কিছু বিষয় তো থাকেই। একটা ‘কমফোর্ট জোন’ দরকার হয়। নারীরা ঠেলাঠেলি করে নিজের জায়গা বুঝে নিতে চায় না। আমার ধারণা, আন্দোলনে অংশ নেয়া নারীরা ভাবেন, আন্দোলনে ভাইদের যাতে গুলি না লাগে তাই সামনে দাঁড়িয়ে ঢাল হয়েছি, সে ভাইরা এখন বসা বা দাঁড়ানোর জায়গাটা দিচ্ছে না! এ রকম পরিস্থিতি হলে একজন নারী হিসেবে তো আমি একদিন, দুদিন, তিনদিন পরে আর বাড়ি থেকে বের হতে চাইব না। তাছাড়া নারীদের জার্নিটাও তো সহজ না। আমাদের অসংখ্য সীমাবদ্ধতা আছে। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে তাই নারীদের সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল। সেটা যেহেতু নেই, তাহলে কেন নারীরা মাঠে থাকবে?

জুলাই অভ্যুত্থানে নারীর যে বিশাল অংশগ্রহণ তাতে রাষ্ট্রগঠন ও সংস্কারের জায়গায় অন্তত একটা মেয়েকে রাখা উচিত ছিল। এমন তো না যে আমাদের মধ্যে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা নেই। আমাদের অনেক নারী নেত্রী আছেন। তবু প্রত্যেকটা জায়গায় শুধু ছেলেদের রাখা হয়েছে। এসব জায়গায় যদি মেয়েদেরও রাখা হতো তাহলে অন্য মেয়েরা সাহস পেত। তারা নিজেদের কথা সে নারী নেত্রীর কাছে বলতে পারত। আমাদের হয়ে তিনি কাজ করতেন। নীতিনির্ধারণের জায়গায় কয়েকজন নারীকে রাখা হলে আজকে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি নারীরা এভাবে হারিয়ে যেত না।

জুলাই আন্দোলনে নারীদের প্রাপ্তির জায়গাটা সীমিত। এখনো দেশে নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীরা হুমকি পাচ্ছে। আমি নিজে প্রতিনিয়ত নানা জায়গা থেকে হুমকি পাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্রী ভাষায় আক্রমণ করা হয়। এসব কারণেও নারীরা এখন বের হতে চায় না। নারীদের ঘরে বন্দি করার প্রচেষ্টা এগুলো। ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেখানেও নারীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘আর আসবি? আর বের হবি বাসা থেকে?’ মেয়েদের বুকে লাথি দেয়া হয়েছে। এ রকম অসহযোগিতার মধ্যে কেন মেয়েরা মাঠে থাকবে?