একদিকে আইনি কাঠামো সংস্কার করতে হবে, অন্যদিকে বিদ্যমান আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রচারাভিযান পরিচালনা করতে হবে। সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হলে বছরের পর বছর ধরে এ প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। আর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আশা করি, নতুন সরকারের সেই সদিচ্ছা রয়েছে।

আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে বাংলাদেশে এখনো নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক অনেক আইন রয়েছে। তাই এসব আইন চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো নির্ধারণ করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। তবে আইন সংশোধন করলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সেসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। আইনের প্রায়োগিক দিক বা বাস্তবায়নের বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। অনেক সময় ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল মামলায় আইনজীবী, বিচারক বা প্রসিকিউটরদের পর্যাপ্ত জেন্ডার সংবেদনশীলতা থাকে না। ফলে ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে মামলা করতে গিয়েও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

অতীতে এমন ঘটনাও দেখা গেছে যে থানায় গিয়ে ভুক্তভোগীরা আবারো হয়রানির শিকার হয়েছেন, এমনকি দ্বিতীয়বার ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। তাই সংবেদনশীল মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সংবেদনশীলতার প্রশিক্ষণ জরুরি। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

আগে অনেক ঘটনার যথাযথ অভিযোগ পাওয়া যেত না, এখন তা বেড়েছে। এতে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে বলে মনে হতে পারে। আবার বাস্তবে সহিংসতা বেড়েও থাকতে পারে। যা-ই হোক, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে ধর্ষণবিরোধী আইন রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশে এখনো কার্যকর ভিকটিম বা সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচি নেই, যা ধর্ষণের মামলায় দণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পথে বড় বাধা। সাধারণত এসব মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী কম থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী অভিযুক্তরা সাক্ষীদের হুমকি দেন। ফলে তারা আদালতে গিয়ে শত্রুভাবাপন্ন হয়ে যান বা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। একই ধরনের হুমকির মুখে অনেক ভুক্তভোগীও মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। তাই ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা সময়ের দাবি।

ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট