তবে রাজনীতির বিষয়টি একটু বেশি জটিল। কারণ ২০১৮ সালে আমি যখন নির্বাচন করি, তখন আমার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছিল। সে সময় আমি ডিসি অফিসে গিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদও করেছিলাম। তখন আমাদের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে আমার আত্মীয়-স্বজন অনেকেই গ্রেফতার হয়েছিলেন। যদিও সে সময় পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। ২০১৮ সালে প্রশাসনের কাছ থেকে তেমন কোনো সাহায্য না পেলেও এবার আমার বিশ্বাস ছিল ২০২৬ সালের নির্বাচনে আমি সে সহযোগিতা পাব। কারণ ২০১৮ সাল থেকেই বাংলাদেশের মানুষ আমাকে চেনে। সারা বাংলাদেশে আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি যখন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করি, তখন সারা দেশের অনেক মানুষ আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, কথা বলেছেন। তারা প্রত্যেকেই চেয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করেছিলেন যে এবারের নির্বাচনে আমি পাস করে যাব।
কিন্তু এবারের নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনের প্রশাসনিক পর্যায় থেকে আমি কোনো সহায়তা পাইনি। বরং দায়িত্বপ্রাপ্তরা আমাকে নিয়ে অনেক অসম্মানজনক কথাবার্তা বলেছেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে সংঘটিত নানা অনিয়ম ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি। অথচ তিনটির জায়গায় চারটি মাইক ব্যবহারের কারণে আমাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। একজন নারী হিসেবে এবারের নির্বাচনে আমি লেভেল প্লেইং ফিল্ড পাইনি। আমাকে যথাযথভাবে কাজ করতে দেয়া হয়নি। একজন নারী হয়ে আমি কোন মাধ্যমে এগুলোর প্রতিবাদ করব? এগুলোর প্রতিকার কীভাবে নিয়ে আসব? ২০২৬ সালে এসেও নারীরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন না। স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমাকে যেভাবে প্রশাসনিকভাবে অসহযোগিতা করা হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসেও ঠিক একই অসহযোগিতা পেয়েছি আমি।
২০১৮ সালে আমি ছিলাম ধানের শীষ মনোনীত সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। ২০২৬ সালেও তাই। কিন্তু সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী বলে আমাকে দুর্বল ভাবার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না। নারীদের এভাবে দমিয়ে রাখলে বাংলাদেশ আগামী ১০০ বছরেও উঠে আসতে পারবে না।
বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫২ শতাংশ নারী। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের আচরণ আমাকে হতভম্ব করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, একজন নারীকে এমপি হওয়ার অর্থ হলো তার অধীনে কাজ করা। এমন মনোভাব ও কার্যকলাপ সামনে আসার পর আমরা বাংলাদেশের মানুষ যে নারী দিবস পালন করি, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। নারীদের এভাবে যুগে যুগে বিভিন্ন পেশায়, বিভিন্ন জায়গায় সবসময় দাবিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি দমে থাকব না। আমি আমার প্রতিবাদ চালু রাখবই।
সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা: বিগত নির্বাচনে
শেরপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী










