অনেক সময় দেখা যায়, অধিকারবঞ্চিত নারীরা আইনি সহায়তা পায় না। আইনি সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে থাকতে হবে। আমরা তাদের পাশে আছি—এ আত্মবিশ্বাসটা যেন তাদের থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষিত ও পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে দুইভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষিত মেয়েরা যারা চাকরিতে আসতে পারে, তাদেরকে ট্রেনিং দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। আর যাদের শিক্ষা-দীক্ষার আলোটা নেই, তাদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারি। এজন্য কাউন্সিলিং করা যায়। তারা হয়তো একবেলা রান্না বা বাড়িতে কাজ করলেন, আরেক বেলা তারা বাগান করতে পারেন বা সেলাইয়ের কাজ করতে পারেন। এ বিষয়ে ফরিদপুরে আমি এরই মধ্যে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এক-দেড় বছর ধরে আমি নারীদের এ প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা সেলাই, ব্লক ও বাটিকের কাজ করে। কিছু নারীকে বীজ ও চারা দেয়া হয়েছে, যাতে তারা তাদের বাড়ির উঠানে এগুলো ফলাতে পারে। এগুলো বিক্রি করে তারা কিছুটা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। এছাড়া তাদের গরু-ছাগল ও মুরগি পালনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে তারা বাড়িতে থেকেই কিছুটা অর্থ উপার্জন করতে পারে। এটা তাদের জন্য একটা শক্তি হবে।

আগে ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কার্যক্রম তেমন একটা ছিল না। আমি রাজনীতিতে আসার পর ফরিদপুরে মহিলা দল করা হয়। নারীরা আসতেন, কিন্তু কমিটি তেমন শক্ত ছিল না বা সংগঠিত ছিল না। আমি জেলা মহিলা দল করার পর সংগঠনটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এখন খুবই শক্তিশালী। এখন আমাদের প্রতিটি থানা, প্রতিটি ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি আছে।

এবারের নির্বাচনে আমি প্রার্থী ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই মহিলা দল আমার সঙ্গে কাজ করেছে। সংগঠনটির কর্মীরা প্রতিটি ইউনিয়নে-ওয়ার্ডে, প্রতিটি ঘরে ঘরে গেছেন। আর আমি মনে করি না যে নারী হিসেবে আমাদের দল থেকে আমি কখনো কোনো বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছি। এখানে আমার পরিবার অনেক বছর ধরে রাজনীতি করেছে। ফরিদপুর-৩ বিএনপির আসন। এখানে আমাদের অর্থাৎ বিএনপিরই ভোট বেশি। সেজন্য নারী হিসেবে আমার অতটা সমস্যা ফেস করতে হয়নি।

যেহেতু আমি নারী, আমি সব সময় নারীদের আমার পাশে রাখি। তারা আমার পাশে থাকেন এবং কাজ করেন। আমাকে দেখে তারা উৎসাহী হন যে তারাও রাজনীতিটা করতে পারবেন। আমার পেছনে বাবার ইমেজ, তার কর্মী এবং আমার দল আছে। এটা আমার জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট।

বিরোধী দলের কর্মী হিসেবে ২০০৭-০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা গণ-আন্দোলনে টানা মাঠে ছিলাম। এ দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের মতো একটা স্বৈরশাসক দলকে আমাদের মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হয়েছে। এ সময় অনেক কষ্ট এবং হামলা-মামলা জেল-জুলুমের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেউ কথা বলতে গেলে কখন কাকে কোথায় অপমান অপদস্থ করা হবে, কেউ জানত না। আওয়ামী সরকারের পতন যে শুধু ৫ আগস্টের আন্দোলনেই হয়েছে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমরা ১৫ বছর যে মাঠটা তৈরি করেছি, তার চূড়ান্ত রূপটি দেখা গেছে ৫ আগস্ট। এর জন্য অবশ্যই বিএনপিকে কৃতিত্ব দিতে হবে। আমরা মাঠে ছিলাম। একটি দিনের জন্য রাজপথ ছাড়িনি। এ সময় মাঠের রাজনীতিতে নারী-পুরুষের পারফরম্যান্স মোটামুটি একইরকম ছিল। নারীদের সবার সামনে, মিছিলের আগে থাকতে হতো। আমরা নারীরা বিগত ১৫টা বছর পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছি, রাজনীতি করেছি। এখন আমরা ক্ষমতায়, ইনশা আল্লাহ নারীদের জন্য আরো বেশি কাজ করব।

নায়াব ইউসুফ আহমেদ: সংসদ সদস্য, ফরিদপুর-৩