একজন সচেতন নাগরিক কখনই নারীর দৃষ্টিভঙ্গিকে হাস্যরসের বিষয় ভাবেন না বা ভাবতে পারেন না। সমাজ যেখানে নারী-পুরুষকে আলাদা রাখেনি, তাই তাকে বাইরে রেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি পুনরায় ভাবার সময় এসেছে।

দিন কয়েক আগে আমাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়ে গেল। সেখানে যদি নারী ভোটাররা অংশ না নিতেন তাহলে কি সেটা অংশগ্রহণমূলক হতো? নির্বাচনটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেত। কারণ ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের অর্ধেকই অর্থাৎ ৬ কোটি ২৮ লাখই ছিলেন নারী ভোটার। একজন নারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমার প্রথম দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল এ বিশাল সংখ্যক নারী ভোটারকে নির্বাচনে নিয়ে আসা। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ, তারা নারী ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। সারা দেশবাসীর প্রতি নির্বাচন কমিশন কৃতজ্ঞ নারী ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য।

নারী তার সম্মান পাবে তখনই যখন সে রাজনৈতিকভাবে নিজেকে নিজেই প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। কোনো প্রথিতযশা পুরুষের মা, বোন বা স্ত্রী হিসেবে ছত্রচ্ছায়ায় না থেকে একান্তই নিজস্ব গুণাবলিতে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে সমাজের কেন্দ্রে নিজেকে স্থাপনের প্রয়াসে যখন সফল হবে তখন। সেটি অবশ্য একদিনেই সম্ভব নয়। সেজন্য দরকার হবে সুশাসন, সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলার বাতাবরণ এবং সর্বোপরি আইনের শাসন। যেখানে কেউ শক্তিমত্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে এগিয়ে রাখবে। কাউকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে না রেখে তাকে প্রস্ফুটিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। আগামীর গণতন্ত্র জেন্ডারকে ভিত্তি না করে সত্যিকার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জনগণের সেবক তৈরি করবে, সে প্রত্যাশাই থাকল।

তাহমিদা আহমদ: নির্বাচন কমিশনার

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন