কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?

যেসব বিষয় আমাদের কার্ডকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্বতন্ত্র করেছে, তার মধ্যে শুরুতেই রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক ফি ও চার্জের বিষয়টি। আমাদের বার্ষিক ফি, লেট ফি ও সার্ভিস চার্জ তুলনামূলকভাবে যুক্তিসংগত ও স্বচ্ছ। এছাড়া গ্রাহকদের জন্য রয়েছে আমাদের আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম। এর আওতায় গ্রোসারি, ডাইনিং, ফুয়েল ও অনলাইন শপিংয়ের মতো দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত ক্যাশব্যাক ও পয়েন্ট সুবিধা পাচ্ছেন। নির্বাচিত মার্চেন্টগুলোয় কম সুদে বা সুদবিহীন কিস্তিতে ইএমআইর সুযোগ রয়েছে। ইএমভি চিপ, ওটিপি বা টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন, রিয়েল-টাইম ট্রানজ্যাকশন অ্যালার্ট ও ফ্রড মনিটরিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকের শাখা, সার্ভিস ডেস্ক ও ২৪/৭ কল সেন্টার সেবার মাধ্যমে দ্রুত ও সহযোগিতামূলক কাস্টমার সার্ভিস নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর বিভিন্ন মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শতাধিত জনপ্রিয় স্থানীয় ব্র্যান্ডে বিশেষ ছাড় ও এক্সক্লুসিভ অফার তো থাকছেই।

এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?

শতাধিক আউটলেট এবং অনলাইন শপিংয়ে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক ও রিওয়ার্ড পয়েন্ট। এছাড়া নির্বাচিত হোটেল বা রেস্তোরাঁয় ইফতারি বা সেহরির ক্ষেত্রে বাই ওয়ান গেট ওয়ান/টু/থ্রি সুবিধাও দেয়া হচ্ছে।

কোন কোন বিষয়কে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখছেন?

প্রথমত মার্চেন্ট পর্যায়ে এর গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীর কাছে এখনো পিওএস টার্মিনাল নেই। আবার এমডিআরের হার অনেক বেশি বিবেচনায় অনেকের মধ্যেই এখনো কার্ড গ্রহণে অনীহা রয়েছে। সর্বোপরি দেশের মানুষের মধ্যে নগদ লেনদেনের অভ্যাস এখনো বেশ জোরালোভাবেই বিদ্যমান। গ্রাহকদের মধ্যে কার্ড ব্যবহার বিষয়ে আস্থা ও সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে নানা চার্জ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও জালিয়াতির শিকার হওয়ার ভয় তাদের মধ্যে বেশ জোরেশোরেই বিদ্যমান। আর ডিজিটাল বিষয়ে মানুষের জানাশোনার ঘাটতি বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। আবার পিওএস মেশিন স্থাপন ও এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক বেশি। মার্চেন্টরা পর্যাপ্ত ইনসেনটিভ বা ট্যাক্স বেনিফিট পাচ্ছেন না। আবার অনেক ক্ষেত্রে ক্যাশ লেনদেনে বছরজুড়ে ‘ডিসকাউন্ট কালচার’-এর বিষয়টিও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। পাশাপাশি কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও দেশে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে ট্রানজেকশন ফেল করার ঘটনা রয়েছে। গ্রামীণ ও সেমি-আরবান এলাকায় নেটওয়ার্ক দুর্বলতা দূর করা জরুরি।

বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটাকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনার কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

এজন্য আমরা গ্রাহকদের আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে সুপারশপ, রেস্তোরাঁ, ফার্মেসি, ফুয়েল স্টেশন ও ই-কমার্সে নিয়মিত ক্যাশব্যাক বা ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট থাকছে। ঈদ, পূজা ও নববর্ষের মতো বিশেষ বিশেষ উৎসব উপলক্ষে নানা ক্যাম্পেইনও চালানো হয়ে থাকে। এছাড়া মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ছোট-বড় দোকানে পিওএস মেশিন করা হচ্ছে। এছাড়া কিউআর এবং কার্ড অ্যাক্সেপ্টেন্স একসঙ্গে চালুর পাশাপাশি গ্রাম ও আধা-শহর এলাকাগুলোয়ও মার্চেন্ট অনবোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সুদবিহীন বা স্বল্প সুদে ইএমআই বা ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে কিস্তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে বার্ষিক ফি মওকুফ বা হ্রাস এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফ্রি কার্ড বা ফ্রি লেনদেনের মাধ্যমে চার্জ ও ফি সহজীকরণ করা হচ্ছে।

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?

ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমগুলোকে আরো শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য সরকারকে দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট পরিষেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি অফলাইন পেমেন্ট ও কম-ইন্টারনেটভিত্তিক পেমেন্ট সুবিধা তৈরি করা যেতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিনটেক প্লাটফর্মগুলোর জন্য উন্নত সার্ভার ও সাইবার-সিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গ্রাহকের জন্য সহজ ও নিরাপদ পেমেন্ট প্লাটফর্ম নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে এমএফএসগুলোর মধ্যে আন্তঃলেনদেনের সুযোগের যে অভাব রয়েছে, সেটি দূর করা যেতে পারে। একক ই-ওয়ালেট বা পেমেন্ট অ্যাপের মতো একটি কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম চালু করা প্রয়োজন। কিউআর কোড এবং এনএফসিভিত্তিক পেমেন্টের প্রচলন ঘটানো যেতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে নানা কর সুবিধা ও প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। এছাড়া জনসাধারণের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে সঠিক আইন ও নীতি ডিজিটাল লেনদেনে লোকসানের আশঙ্কা কমায়। পেমেন্ট সেক্টরে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের জন্য স্পষ্ট নিয়ম থাকতে হবে। গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদ্ধতি চালু করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্মত পেমেন্ট নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার নীতি পরিপালনও নিশ্চিত করতে হবে।