আমরা আবেদন প্রক্রিয়া সাবলীল ও সরলীকরণ এবং সিস্টেম অটোমেশন ও উন্নতকরণের দিকে মনোনিবেশ করেছি। ফলে কার্ড আবেদন, ইস্যু ও ব্যবহারকালীন সময়ে আমরা গ্রাহকদের দ্রুততম সেবা দিতে পারছি।

সমাজের সব শ্রেণীর লোকের জন্য ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সব শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকদের ডেবিট কার্ড সেবা প্রদান করছি। এজেন্ট ব্যাংকিং দুর্গম অঞ্চলে আর্থিক সেবা প্রসারণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবা ও ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় নিয়ে আসছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সচেতনতা কর্মসূচি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ক্যাম্পেইন এবং গ্রাহক শিক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে কার্ড ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ, সহজ ও নগদবিহীন লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?

দেশে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। প্রথমত, দেশের অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে এখনো পর্যাপ্ত পস টার্মিনাল ও কার্ড গ্রহণ অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। ফলে নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের একটি বড় অংশের মধ্যে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রতি সচেতনতা ও আস্থার ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগের কারণে। তবে প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের কার্ড ইএমভি চিপযুক্ত ও অনলাইন লেনদেন এসএমএস ওটিপি অথেন্টিকেশন দ্বারা সুরক্ষিত। গ্রাহককে তাদের কার্ডের পিন ও একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য আমরা এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে অবগত করে থাকি। তৃতীয়ত, কিছু ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট ও এ-সংক্রান্ত খরচ ব্যবসায়ীদের জন্য নিরুৎসাহজনক হতে পারে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সীমাবদ্ধতাও গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, সমন্বিত নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক-মার্চেন্ট অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিধি আরো বিস্তৃত করা সম্ভব।

গ্রাহকদের জন্য আপনারা কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছেন?

আমরা গ্রাহকদের আর্থিক চাহিদা, জীবনযাত্রার ধরন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ড নিয়ে এসেছি। আমাদের পোর্টফোলিওতে রয়েছে ভিসা, মাস্টারকার্ড ও জেসিবি ব্র্যান্ডের— গোল্ড, প্লাটিনাম, ওয়ার্ল্ড এবং সিগনেচার ক্যাটাগরি, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহারযোগ্য। প্রতিটি কার্ডে রয়েছে আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড পয়েন্ট, বছরজুড়ে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার, লেনদেনের ওপর বিভিন্ন সুবিধা, সহজ ইএমআই বিকল্প এবং বহুমুখী লাইফস্টাইল বেনিফিট। আমাদের উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের জন্য একটি শতভাগ নিরাপদ, সুবিধাজনক ও আধুনিক পেমেন্ট সল্যুশন প্রদান করা, যাতে তারা তাদের আর্থিক সিদ্ধান্তে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতা পায়।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় আপনাদের কার্ডের স্বাতন্ত্র্য কোথায়?

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রাইম ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডগুলো আলাদা স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। প্রথমত, আমরা গ্রাহকবান্ধব ফি-স্ট্রাকচার নিশ্চিত করেছি। বিশেষত ‘জিরো বাই প্রাইম ব্যাংক’ নামে একটি ফি-মুক্ত ক্রেডিট কার্ড চালু করেছি যা বাজারে একটি অনন্য উদ্যোগ। ভিসা সিগনেচার ক্যাটাগরির এ কার্ডে ইস্যুয়িং ফি ও অ্যানুয়াল ফি নেই। এমএফএসে ফান্ড ট্রান্সফার ফি, ওভার লিমিট ফি, ট্রানজেকশন অ্যালার্ট ফি, ইএমআই প্রসেসিং ফি-ও থাকছে না। আমাদের অন্য কার্ডগুলোয়ও আমরা মাত্র ১৫টি লেনদেনের মাধ্যমেই গ্রাহকদের বার্ষিক ফি মওকুফের সুবিধা দিচ্ছি, যা গ্রাহকের কাছে আমাদের ক্রেডিট কার্ডগুলোকে আরো সাশ্রয়ী করে তুলেছে।

তাছাড়া বছরজুড়ে গ্রাহকদের অফার করা হচ্ছে বিশেষ মূল্যছাড়, ক্যাশব্যাক, শীর্ষস্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোয় বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান/টু/থ্রি বুফে, সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত শূন্য শতাংশ হারে ইএমআই সুবিধা ও বোনাস রিওয়ার্ড পয়েন্টস। আমাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্লাটফর্ম মাইপ্রাইমের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা বিল পরিশোধসহ অন্যান্য ডিজিটাল সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন। এছাড়া স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে গ্রহণযোগ্যতা, প্রিমিয়াম কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ এক্সেস, ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ এবং ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট আমাদের সেবাকে আরো আলাদা করেছে। আমরা সবসময় উদ্ভাবনী ও গ্রাহককেন্দ্রিক সমাধান প্রদানের মাধ্যমে বাজারে ভিন্নতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটায় গ্রাহকের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?

গ্রাহকদের চাহিদা মাথায় রেখে এবারের ঈদ উৎসবকে আরো আনন্দময় করতে আমরা কেনাকাটার বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার দিচ্ছি। এছাড়া লাইফস্টাইল, গ্রোসারি, টিকেট, ই-কমার্স প্লাটফর্মে রয়েছে বিশেষ মূল্যছাড়। দেশের শীর্ষস্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোয় এক্সক্লুসিভ ডাইনিং অফারের পাশাপাশি রয়েছে বাই-ওয়ান-গেট-আপ টু ফোর পর্যন্ত সুবিধা। আমরা বিশ্বাস করি এসব বিশেষ উৎসব অফার গ্রাহকদের রমজান ও ঈদের সময়কার খরচ ও আয়োজনকে আরো স্বস্তিদায়ক, সাশ্রয়ী ও স্মরণীয় করে তুলবে এবং গ্রাহকরা তাদের পরিবারের সঙ্গে আনন্দসহকারে উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?

আমরা মনে করি, দেশে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে সরকার কয়েকটি কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। প্রথমত, নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করে কার্ড ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পেমেন্টে প্রণোদনা প্রদান, যেমন নির্দিষ্ট খাতে কর রেয়াত বা ভ্যাট রিবেট ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহ জোগাতে পারে। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য পিওএস টার্মিনাল স্থাপনে ভর্তুকি বা সহজ অর্থায়ন সুবিধা চালু করলে কার্ড পেমেন্টের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়বে। তৃতীয়ত, সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো জোরদার ও শক্তিশালী ভোক্তা সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সম্প্রসারণ এবং আর্থিক ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে সমন্বিত নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও টেকসই ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।