বাংলাদেশে এমন একটি বড় গ্রাহকশ্রেণী আছেন, যারা সুদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা খুঁজে থাকেন। আমরা তাদের সেই চাহিদার সমাধান দিয়েছি। তবে আমরা শুধু ধর্মীয় দিকেই সীমাবদ্ধ থাকিনি; প্রযুক্তিগত দিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

আমাদের কার্ড আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। এতে ডাইনামিক কারেন্সি কনভারশন সুবিধা রয়েছে, কন্টাক্টলেস পেমেন্ট সাপোর্ট করে এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

আমি সবসময় বলি, কার্ডের শক্তি শুধু অফারে নয়, সম্পর্কে এবং বিশ্বাসে। গ্রাহক যেন জানেন, তার প্রতিটি লেনদেন একটি স্বচ্ছ ও শরিয়াহ অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

রমজান ও ঈদ উপলক্ষে কী বিশেষ অফার রেখেছেন?

রমজান আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধির সময় আর ঈদ আনন্দের। এ দুই সময়েই পরিবারে ব্যয় বাড়ে—পোশাক, উপহার, হোম ডেকোরেশন, খাবারদাবার ও ভ্রমণ—সবকিছু মিলিয়ে কেনাকাটার চাপ থাকে।

আমরা চেয়েছি এ সময়টিকে আরো স্বস্তিদায়ক করতে। তাই রমজানজুড়ে বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইন মার্চেন্টে বিশেষ ছাড় ও অফার রাখা হয়েছে। ফ্যাশন, লাইফস্টাইল, ইলেকট্রনিকস, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন খাতে বিশেষ সুবিধা রয়েছে। নির্বাচিত মার্চেন্টদের সঙ্গে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ অফারও আছে। তবে আমি একটি কথা বলব, অফার আমাদের লক্ষ্য নয়, গ্রাহকের আস্থা আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই কার্ড ব্যবহার হোক নিরাপদ, সহজ ও সচেতনভাবে।

গ্রাহকদের জন্য আপনারা কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছেন?

প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই—আমরা কার্ডকে কখনই শুধু একটি পেমেন্ট টুল হিসেবে দেখি না। আজকের দিনে কার্ড মানে হলো আর্থিক শৃঙ্খলা, নিরাপদ লেনদেন, ভ্রমণ সুবিধা, অনলাইন কেনাকাটা এবং একই সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য একটি ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা।

বর্তমানে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক তিন ধরনের লা-রিবা ক্রেডিট কার্ড অফার করছে—প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার। আমরা এ তিন স্তর রেখেছি ভিন্ন ভিন্ন গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে। কারো আন্তর্জাতিক লেনদেন বেশি, কারো পারিবারিক ব্যয় ব্যবস্থাপনা বড়, আবার কেউ নিয়মিত অনলাইন কেনাকাটা করেন—সবাই যাতে উপযুক্ত একটি সমাধান পান।

পাশাপাশি রয়েছে মাস্টারকার্ড ডেবিট কার্ড, ইনস্ট্যান্ট কার্ড, লা-রিবা প্রিপেইড কার্ড এবং বিশেষভাবে হজযাত্রীদের জন্য প্রণীত হজ কার্ড। আমরা লক্ষ করেছি, অনেক গ্রাহক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কার্ড চান—যেমন ভ্রমণ, শিক্ষা ফি প্রদান বা ধর্মীয় সফর। তাই আমরা পণ্যবৈচিত্র্য বাড়িয়েছি, কিন্তু শরিয়াহসম্মত কাঠামো অটুট রেখেছি।

আমাদের লক্ষ্য একটাই—গ্রাহক যেন একটি নৈতিক ও আধুনিক ব্যাংকিং বিকল্প পান।

কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সম্প্রসারণে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?

বাংলাদেশে এখনো নগদ লেনদেনের প্রবণতা খুব বেশি। এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসের সঙ্গে জড়িত। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অনেকেই কার্ড গ্রহণে অনীহা দেখান—তাদের ধারণা খরচ বেশি বা প্রক্রিয়া জটিল। গ্রামীণ এলাকায় পিওএস অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

এছাড়া নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। ডিজিটাল প্রতারণার খবর মানুষকে শঙ্কিত করে। আমি মনে করি, এসব চ্যালেঞ্জ অস্বীকার করলে চলবে না; বরং প্রযুক্তি, সচেতনতা ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে এগুলো সমাধান করতে হবে।

কার্ড ব্যবহারকে জনপ্রিয় করতে আপনারা কী করছেন?

আমরা বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছি। মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছি, নতুন পিওএস স্থাপন করছি এবং কন্ট্যাক্টলেস প্রযুক্তি চালু করেছি। গ্রাহকদের জন্য ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক, ইএমআই সুবিধা দিচ্ছি। বিশেষ করে বড় কেনাকাটায় কিস্তি সুবিধা অনেক গ্রাহককে সহায়তা করছে।

ই-কমার্স লেনদেনে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কারণ আমরা দেখছি অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উন্নত মনিটরিং ব্যবস্থা এবং গ্রাহক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

এ পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছি। আমাদের বিশ্বাস, ডিজিটাল পেমেন্ট কেবল ব্যাংকের বিষয় নয়, এটি একটি জাতীয় অর্থনৈতিক রূপান্তর।

সরকার কী করলে ডিজিটাল লেনদেন আরো ত্বরান্বিত হবে?

সরকার চাইলে ডিজিটাল পেমেন্টে লেনদেন খরচ কমাতে নীতিগত সহায়তা দিতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা দিলে তারা কার্ড গ্রহণে উৎসাহী হবেন। সরকারিভাবে গ্রামীণ ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার ও আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি সেবা ও ভাতা ডিজিটাল মাধ্যমে দেয়া হলে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হবে।

আমরা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময় পার করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—ডিজিটাল পেমেন্ট কয়েক বছরের মধ্যে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক সেই যাত্রায় দায়িত্বশীল, নৈতিক ও শরিয়াহসম্মত অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।