সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির ক্রেডিট কার্ডগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র, কারণ আমরা সারা বছর শপিং, ডাইনিং, ভ্রমণ ও লাইফস্টাইল সেগমেন্টে আকর্ষণীয় ও এক্সক্লুসিভ অফার দিচ্ছি। আমরা সহজ শর্তে ও প্রতিযোগিতামূলক সুদহারে ইএমআই সুবিধা নিশ্চিত করছি। একই কার্ডে ডুয়াল কারেন্সির মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুবিধা দিচ্ছি। পাশাপাশি নির্বাচিত কার্ডধারীদের জন্য পিক অ্যান্ড ড্রপ, প্রিমিয়াম বিমানবন্দর লাউঞ্জ অ্যাকসেস সুবিধা দেয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের সুরক্ষায় চিপ–পিন, ওটিপি ও রিয়েল-টাইম এসএমএস অ্যালার্টসহ উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য একটি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক কার্ড অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করলে তা রিয়েল-টাইমে কার্ড অ্যাকাউন্টে সমন্বয় হয়। গ্রাহকরা সুবিধামতো মোট সাতটি ভিন্ন উপায়ে তাদের ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ করতে পারেন, যা বিল পরিশোধ প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত করে তোলে।

রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটায় গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?

রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির কার্ডহোল্ডারদের জন্য বিশেষ ও আকর্ষণীয় অফার চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচিত হোটেল ও রেস্টুরেন্টে বুফে ইফতার এবং সাহরিতে বাই ওয়ান গেট ওয়ান/টু/থ্রি অফার, স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউজ ও শপিং আউটলেটে এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাক সুবিধা, নির্ধারিত মার্চেন্টে সহজ শর্তে শূন্য শতাংশ বা স্বল্প সুদে ইএমআই সুবিধা, গ্রোসারি ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে বিশেষ মূল্যছাড় এবং দেশ-বিদেশে কেনাকাটায় অতিরিক্ত রিওয়ার্ড সুবিধা। এসব অফারের মাধ্যমে আমাদের কার্ডহোল্ডাররা রমজান ও ঈদের কেনাকাটা আরো সাশ্রয়ী এবং আনন্দপূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারেন।

গ্রাহকদের জন্য আপনারা কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছেন?

সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি বর্তমানে গ্রাহকদের বিভিন্ন আর্থিক চাহিদা ও লাইফস্টাইল বিবেচনায় একাধিক ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছে। আমাদের কার্ড পোর্টফোলিওর মধ্যে রয়েছে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের অধীনে ক্ল্যাসিক, গোল্ড, প্লাটিনাম, সিগনেচার, ওয়ার্ল্ড এবং ইনস্ট্যান্ট প্রিপেইড ক্যাটাগরির কার্ড। এছাড়া ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের সুবিধাও দেয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় লেনদেনে ব্যবহারযোগ্য।

কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?

বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারে অনেক চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সারা দেশে পর্যাপ্ত পিওএস টার্মিনাল ও কার্ড গ্রহণযোগ্য মার্চেন্ট নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা, বিশেষ করে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক এলাকায় অবকাঠামোগত ঘাটতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে এমডিআর ও লেনদেন খরচ-সংক্রান্ত উদ্বেগ, গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং নগদ লেনদেনের দীর্ঘদিনের অভ্যাস, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও প্রতারণার ঝুঁকি এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতা। এসব বিষয় সমাধানে ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও মার্চেন্টদের সমন্বিত উদ্যোগ, প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?

বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটাকে আরো জনপ্রিয় করতে সাউথইস্ট ব্যাংক বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা সারা বছর শপিং, ডাইনিং, ভ্রমণ ও লাইফস্টাইল সেগমেন্টে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক ও বাই ওয়ান গেট ওয়ান/টু/থ্রি অফার দিচ্ছি। সহজ শর্তে ইএমআই সুবিধা চালু রেখেছি। নতুন মার্চেন্ট অনবোর্ডিং ও পিওএস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে কার্ড গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছি। ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও আর্থিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং চিপ–পিন, ওটিপি ও রিয়েল-টাইম অ্যালার্টসহ উন্নত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। পাশাপাশি স্টুডেন্ট ও ইয়াং প্রফেশনালদের জন্য বিশেষ কার্ড প্রোগ্রাম এবং প্রোমোশনাল কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার সমন্বিত নীতিগত, অবকাঠামোগত ও প্রণোদনামূলক উদ্যোগ নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য POS স্থাপন ও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে কর–প্রণোদনা বা ভর্তুকি প্রদান, নির্দিষ্ট সেক্টরে ভ্যাট/ট্যাক্স রিবেট বা ক্যাশব্যাক সুবিধা চালু করা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে আর্থিক সাক্ষরতা ও ডিজিটাল সচেতনতা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম, পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করলে জনগণ নিরাপদ ও সুবিধাজনক ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে সচেতন হবে, নগদনির্ভরতা কমবে এবং একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।