আমরা সবসময় গ্রাহকের জীবনধারা ও ব্যয়ের ধরন অনুযায়ী উপযোগী কার্ড ইস্যু করি। বিভিন্ন গ্রাহক সেগমেন্টের জন্য বিভিন্ন সুবিধাসম্পন্ন কার্ড চালু রয়েছে। যার মধ্যে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের প্লাটিনাম, গোল্ড ও ক্ল্যাসিক কার্ড রয়েছে।
আপনাদের কার্ড কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র?
প্রিমিয়ার ব্যাংকের কার্ডে এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, যা আমাদের অন্যান্য ব্যাংক থেকে স্বতন্ত্র করেছে। যেমন বিশ্বের ১ হাজার ৬০০টির বেশি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ অ্যাকসেস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ সুবিধা, পাঁচতারকা হোটেলসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান অফার, গিফট ভাউচার, আকর্ষণীয় মার্চেন্ট অফার ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, কার্ডহোল্ডারদের জন্য ইন্স্যুরেন্স সুবিধা, শূন্য শতাংশে ইএমআই সুবিধা, ইএমভি চিপ, ওটিপি যাচাইকরণ, রিয়েল-টাইম ট্রানজেকশন অ্যালার্টসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি।
এছাড়া গ্রাহকসেবায় দ্রুততা ও নির্ভরযোগ্যতা, ২৪/৭ কল সেন্টার সাপোর্ট, দ্রুত কার্ড ইস্যু ও লিমিট প্রসেসিং সুবিধাও আমাদের কার্ডকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ, সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী একটি সমাধান।
এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?
রমজান ও ঈদ উপলক্ষে আমরা গ্রাহকদের জন্য বেশকিছু আকর্ষণীয় অফার চালু করেছি। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাশব্যাক অফার, দেশের বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান ফ্রি ইফতার ও সাহরি বুফে, নির্বাচিত লাইফস্টাইল, ফ্যাশন ও জুয়েলারি ব্র্যান্ডে সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট, শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধা ইত্যাদি। এসব অফার কাজে লাগিয়ে গ্রাহকরা নিরাপদ ও ক্যাশলেস পদ্ধতিতে সাশ্রয়ীভাবে ঈদের কেনাকাটা করতে পারবেন।
কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ হলেও এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গ্রাম ও মফস্বলে পর্যাপ্ত পিওএস টার্মিনাল স্থাপনে কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে এমডিআর (মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট) নিয়ে উদ্বেগও একটি বড় বাধা। এছাড়া কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তবে ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে এসব প্রতিবন্ধকতা ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে।
বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?
কার্ড ব্যবহারের প্রসারে আমরা কিছু কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশে মার্চেন্ট পার্টনার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নিয়মিত ক্যাম্পেইন, ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার, ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচি, কার্ড আবেদনের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা এবং কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট সুবিধা সম্প্রসারণ।
আমরা বিশ্বাস করি, সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে গ্রাহক স্বতঃস্ফূর্তভাবে কার্ড ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সম্প্রসারণে সরকার গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল অবকাঠামো ও ইন্টারনেট সংযোগ উন্নয়ন, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য কর প্রণোদনা, জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে আর্থিক সচেতনতা কর্মসূচি প্রণয়ন—এসব উদ্যোগ নিতে পারে।
এছাড়া সরকারি সেবায় বাধ্যতামূলক ডিজিটাল পেমেন্ট অপশন সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ও মনিটরিং আরও জোরদার করা গেলে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।





