এর মধ্যে রয়েছে ক্লাসিক, গোল্ড ও প্লাটিনাম। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের কার্ডগুলো আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ভিসা ব্র্যান্ডের আওতায় ইস্যু করা হয়, যা গ্রাহকদের দেশ-বিদেশে নিরাপদ, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করে। আমাদের লক্ষ্য কেবল কার্ড ইস্যু করা নয়, বরং গ্রাহকের লাইফস্টাইল ও আর্থিক যাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান প্রদান করা।
কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের কার্ডের স্বাতন্ত্র্য মূলত তিনটি ক্ষেত্রে—ভ্যালু, সিকিউরিটি ও সার্ভিস এক্সিলেন্স। প্রথমত, আমরা প্রতিযোগিতামূলক চার্জ কাঠামো ও সহজ ইএমআই সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহকদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করি। আমাদের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী কনভেনশনাল ব্যাংকের মতো সুদের ওপর সুদ আরোপ করা হয় না, যা গ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। দ্বিতীয়ত, অ্যাপ্রুভ ও ডিক্লাইন লেনদেন-সংক্রান্ত এসএমএস নোটিফিকেশন এবং ২৪/৭ ট্রানজেকশন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তৃতীয়ত, আমাদের গ্রাহকসেবা টিম দ্রুত ও কার্যকর সাপোর্ট প্রদান করে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা শুধু অফারে নয়, বরং নির্ভরযোগ্যতা ও আস্থার ওপর নির্ভরশীল।
এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?
রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা সুপারশপ, লাইফস্টাইল আউটলেট এবং অনলাইন প্লাটফর্মে বিশেষ ক্যাশব্যাক ও ছাড় সুবিধা চালু করেছি। এছাড়া বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ থেকে শুরু করে ‘একটি কিনলে চারটি পর্যন্ত ফ্রি’ অফার থাকছে। নির্বাচিত সুপারশপ মার্চেন্ট যেমন আগোরা, ইউনিমার্ট, খুলসী মার্ট, ডেইলি শপিং, দ্য বাস্কেট, মীনা বাজার, ল্যাভেন্ডার, স্বপ্ন, হোলসেল ক্লাব ও প্রিন্স বাজারে ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া লাইফস্টাইল মার্চেন্ট যেমন আড়ং, ইনফিনিটি, ইয়োলো, এপেক্স, ক্যাটস আই, জেন্টল পার্ক, বাটা, মনসুন রেইন, রিচ ম্যান, লুবনান এবং সেইলরে ১৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে সহজ কিস্তি সুবিধা (শূন্য শতাংশ ইএমআই) এবং লেনদেনে বিশেষ ছাড় সুবিধা। প্লাটিনাম কার্ডহোল্ডারদের জন্য ইন্টারকন্টিনেন্টাল, লা মেরিডিয়ান, রেডিসন ব্লু ঢাকা ও ওয়েস্টিনে বুফে অফার ও অন্যান্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?
বাংলাদেশে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সম্প্রসারণে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে পিওএস টার্মিনালের স্বল্পতা, লেনদেন চার্জ সম্পর্কে ভুল ধারণা, সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সচেতনতার ঘাটতি, নগদ লেনদেনের প্রতি প্রচলিত নির্ভরশীলতা ইত্যাদি। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা সম্ভব।
বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?
কার্ড ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আমরা নিয়মিত ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বাই ওয়ান গেট ওয়ান সুবিধা দেয়া হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে সহজ ইএমআই সুবিধাও। আমরা সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিভিন্ন অফার প্রচার করছি। একই সঙ্গে গ্রাহক সচেতনতা কর্মসূচি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া অনলাইন কেনাকাটা লক্ষ্য করে বিশেষ ক্যাম্পেইন অফার চালু করা হয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পিওএস স্থাপনে প্রণোদনা দিতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনে কর রেয়াত বা প্রণোদনা দিতে পারে। সাইবার সিকিউরিটি অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করায় সরকারের বিশেষ মনোযোগ দরকার। এছাড়া সরকার আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধিতে জাতীয় পর্যায়ে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারে। সরকার, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগই একটি শক্তিশালী ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।










