পূবালী ব্যাংক কতটা ডিজিটাল?

বর্তমান যুগটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। সবাইকে এ পথেই এগোতে হবে। পূবালী অনেক পুরনো ব্যাংক হলেও আমরা যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। এক্ষেত্রে কিছু জায়গায় আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের। আর কিছু জায়গায় আমরা এরই মধ্যে ডিজিটাল সিস্টেমে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা পূবালী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য চালু করেছি অ্যাপভিত্তিক সলিউশন ‘পাই’। এটি এমএফএস, বিএফটিএন, ব্যাচ, আরটিজিএসসহ প্রায় সব ধরনের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত। ‘পাই’ অ্যাপস দিয়ে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্টও করা যাচ্ছে।

গত বছর থেকে আমরা পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) সেবা চালু করি। সেবাটি চালুর পর কেবল এক বছরেই আমরা ১২ হাজার মেশিন দিয়েছি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ে এত বেশি পিওএস মেশিন অন্য কোনো ব্যাংক সরবরাহ করতে পারেনি। বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের ১৪ হাজারের বেশি পিওএস মেশিন চলছে। গত বছর ‘পাই’ অ্যাপসের মাধ্যমে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এ বছর সেটি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

পূবালী ব্যাংকের মোট লেনদেনের কত শতাংশ ডিজিটালে?

যেহেতু এটি একটি খুব বড় ব্যাংক, সব মিলিয়ে ডিজিটাল লেনদেন মোট লেনদেনের প্রায় ৮-১০ শতাংশ হতে পারে। প্রথমে এটাকে ৩০-৪০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে তা শতভাগে উন্নীত করতে হবে।

‘পাই’ অ্যাপসের কথা বললেন। পূবালী ব্যাংকের আর কী ধরনের ডিজিটাল প্রডাক্ট রয়েছে?

ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে আমরা মাস্টারকার্ড, ভিসা ও টাকা পে—এ তিন ধরনের কার্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি। বর্তমানে ইনস্ট্যান্ট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। যেকোনো হিসাব খোলার সঙ্গেই আমরা গ্রাহকদের ডেবিট কার্ড প্রদান করছি, যার জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। এটি একটি ডুয়াল কারেন্সি কার্ড, যা আমরা ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে দিচ্ছি। যেসব গ্রাহক কখনো বিদেশ ভ্রমণ করবেন না, তাদের জন্য আমরা টাকা পে কার্ড সরবরাহ করছি, যাতে তারা এটি ব্যয়বহুল মনে না করেন।

এরই মধ্যে আমরা ১ লাখ টাকা পে কার্ডের অর্ডার দিয়েছি এবং আশা করছি, চলতি বছরেই ৩-৪ লাখ ‘টাকা পে’ কার্ড অনবোর্ড করতে পারব। এসব কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পিওএস (POS) ও এটিএম লেনদেনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সিআরএমের ক্ষেত্রে আমরা এটিকে সব শাখায় যুক্ত করছি। প্রতিটি শাখায় পিওএস মেশিন রয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য চেক ছাড়া লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করছে। সম্প্রতি আমরা এটিকে কিউআর কোডের সঙ্গেও ইন্টিগ্রেট করেছি, ফলে গ্রাহক শুধু মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও কিউআর কোড স্ক্যান করে লেনদেন করতে পারবেন। মূলত আমরা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল পণ্য ও সেবার উন্নয়নে কাজ করছি। করপোরেট ইউনিটগুলোয় আমরা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছি এবং পে-রোল ব্যবস্থাপনার আওতায় অনেক নতুন অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করেছি, যা আগে আমাদের সেবার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে পূবালী ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

edd

পূবালী ধনী না গরিবের ব্যাংক?

পূবালী ব্যাংক সব শ্রেণীর মানুষের জন্য। আমরা সাধারণ জনগণের জন্য যেমন কাজ করি, তেমনি বিভিন্ন করপোরেট ইউনিটের জন্যও সেবা প্রদান করি। আমাদের লক্ষ্য হলো সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা এবং ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা।

আপনাদের ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক কেমন? গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন?

আমাদের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এক্ষেত্রে আমাদের প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৪০ শতাংশের বেশি। গ্রাহকরা আমাদের কার্ডের বিভিন্ন ফিচার দেখে আকৃষ্ট হচ্ছেন, যা বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করছে। তবে আমাদের লক্ষ্য আরো বড় পরিসরে ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদান করা। এজন্য আমরা স্কোরিং সিস্টেম চালু করেছি এবং এতে এআই ইন্টিগ্রেশন সংযোজন করেছি। শিগগিরই গ্রাহকরা এ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। প্রডাক্টটি এরই মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে এবং বোর্ড অনুমোদন পেলেই যে কেউ অনলাইনে যেকোনো জায়গা থেকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। গ্রাহকরা নিজেদের তথ্যের ভিত্তিতেই ক্রেডিট কার্ডের লিমিট দেখতে পারবেন। যদি লিমিট বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, সেটিও পরবর্তী সময়ে করা যাবে।

নতুন ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য আমরা শাখা পর্যায়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিটি শাখায় দুজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যারা তথ্য যাচাই ও রিলেশনশিপ বিল্ডআপের কাজ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন এবং আমাদের নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই কার্ড কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হবে। সেক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহককে ব্যাংকেও আসতে হবে না।

উৎসব উপলক্ষে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে পূবালী ব্যাংক কী করছে?

সারা দেশে আমাদের বিভিন্ন রিটেইল শপে বিশেষ অফার চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বাই ওয়ান গেট ওয়ান, ২০-৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট আউটলেট এবং আরো অনেক আকর্ষণীয় সুবিধা। বিশেষ করে প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা আরো বেশি সুবিধা পাবেন। প্রতিটি লেনদেনেই কিছু না কিছু ডিসকাউন্ট বা ক্যাশব্যাক নিশ্চিত থাকছে। বড় হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং লাইফস্টাইল আউটলেটের সঙ্গেও বিশেষ অফার চুক্তি রয়েছে, যা আমাদের গ্রাহকদের জন্য দারুণ সুবিধা দেবে।

ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো গ্রাহককে দেয়া ডিসকাউন্টের ব্যয় নিজেই বহন করছে। কিন্তু আমরা চাইলে এ ব্যয় শেয়ারিং মডেলেও করতে পারি। আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে, আমাদের গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট আউটলেট নিজেরা কত শতাংশ ডিসকাউন্ট দিতে পারে, এর সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া ডিসকাউন্ট যুক্ত হবে। বর্তমানে ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রিতে সিঙ্গেল অফার রয়েছে, তবে আমরা আরো স্মার্ট সিস্টেম তৈরি করে একই প্রডাক্টে একসঙ্গে ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাকের মতো অফার দিতে চাই। এতে গ্রাহকরা আরো বেশি ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত হবেন এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম আরো শক্তিশালী হবে।