একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তামজিদ আহসান বেশ কয়েক বছর ধরেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন ক্যাশলেস লাইফস্টাইলে, হোক তা অনলাইন অর্ডারের ক্ষেত্রে বা কোথাও গিয়ে কেনাকাটার সময়। পবিত্র রমজান মাসে ক্যাশলেস লাইফস্টাইলের সুবিধা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রমজানজুড়েই অফিস ছুটির সময়টায় জ্যামে স্থবির হয়ে থাকে শহর। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই যেহেতু চাকরিজীবী, অফিস থেকে বের হয়ে পছন্দের রেস্টুরেন্ট থেকে ইফতার কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। একটা সংশয় থাকে, ঠিক সময়ে বাসায় পৌঁছতে পারবে কিনা। এমন অবস্থায় সহজ সমাধান বিকাশ পেমেন্ট। কোনো একটা পছন্দের রেস্টুরেন্ট থেকে অনলাইনে ইফতার অর্ডার দিই, আর পেমেন্ট করে দিই বিকাশে। দেখা যায় জ্যাম ঠেলে আমরা বাসায় পৌঁছানোর আগেই ইফতার পৌঁছে যাচ্ছে। এ সময়ে বিকাশ পেমেন্টে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট অফারও বেশ উৎসাহব্যঞ্জক।’
তামজিদের মতো দেশজুড়ে এমন বহু গ্রাহক ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এদিকে সদ্য চাকরিতে যোগদান করা নামিরা হোসেন রমজানের শুরু থেকেই টুকে রাখছেন কেনাকাটায় কোথায় কী অফার আছে। জীবনে প্রথমবারের মতো পাওয়া ঈদ বোনাস দিয়ে প্রিয়জনদের সবার জন্যই কিছু না কিছু কেনার পরিকল্পনা করছেন এ তরুণী। তিনি বলেন, ‘রমজানের মাঝামাঝি থেকেই কেনাকাটা শুরু করব। কেনাকাটার মাধ্যম বরাবরের মতোই ডিজিটাল পেমেন্ট। জামা, জুতা, ফেসবুক পেজে কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টের অফারগুলো ব্যবহার করব। এক্ষেত্রে একটা বড় সুবিধা হলো কোথায় কী খরচ হচ্ছে তার হিসাব রাখা সহজ হবে।’
বিকাশ পেমেন্টের খুঁটিনাটি
রমজানজুড়ে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার: পাড়ার মুদি দোকানে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে শুরু করে বাস-ট্রেন-প্লেনের টিকিট কাটা, সবই স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায় বিকাশ পেমেন্টে। রমজান মাসজুড়ে সুপারস্টোর, অনলাইন শপ, ফেসবুক পেজ, বিভিন্ন ব্র্যান্ড শপ, ফ্যাশন হাউজ, জুতার দোকান, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন আউটলেটে বিকাশ পেমেন্টে রমজান ও ঈদের কেনাকাটায় মিলছে বিভিন্ন ধরনের ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার। এ রমজানে একজন গ্রাহক বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক পেতে পারেন।
বিস্তৃত মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক: দেশজুড়ে বিকাশের রয়েছে প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্টের এক বিশাল নেটওয়ার্ক। বর্তমানে বিকাশের প্রায় আট কোটি গ্রাহক দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব ছোট-বড় মার্চেন্টে কিউআর স্ক্যান করে, পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এবং *247# ডায়াল করে দ্রুত, সহজে ও নিরাপদে পেমেন্ট করে দরকারি কেনাকাটা করতে পারছেন।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ড থেকে অ্যাড মানি করে কেনাকাটা: কোথাও কেনাকাটা করতে গিয়ে বা জরুরি কোনো প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে দেখা গেল বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই। আবার যেখানে কেনাকাটা করতে ইচ্ছুক সেখানে কার্ড পেমেন্টের সুযোগ নেই। এ রকম মুহূর্তে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ড থেকে ইনস্ট্যান্ট বিকাশে টাকা এনে জরুরি প্রয়োজন মেটানো বা দরকারি কেনাকাটা করে ফেলা যায়। বর্তমানে বিকাশ গ্রাহকরা ৪৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এবং বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা, অ্যামেক্স ও মাস্টারকার্ড থেকে যখন প্রয়োজন তখনই অ্যাড মানি করতে পারছেন।
বিকাশ অ্যাপ থেকে ভিসা কার্ড দিয়ে সরাসরি পেমেন্ট: এদিকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলে ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত এবং বিকাশ অ্যাপে সংযুক্ত ভিসা কার্ড থেকে সরাসরি বিকাশ পেমেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন বিকাশ গ্রাহকরা। ডিজিটাল পেমেন্টকে আরো সর্বজনীন, ঝামেলাহীন ও নিরাপদ করতে এ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে বিকাশ অ্যাপে। অনেক দোকানে বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন না থাকায় ইচ্ছে থাকলেও অনেক গ্রাহক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট দিতে পারেন না। তবে এ ধরনের ছোট দোকান থেকে শুরু করে সুপারশপ, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে বিকাশের কিউআর স্ক্যান করে গ্রাহক খুব সহজেই তাদের বিকাশ অ্যাপে সংযুক্ত ভিসা কার্ড থেকে সরাসরি পেমেন্ট করে দিতে পারেন। অ্যাপ থেকে সরাসরি ভিসা কার্ড দিয়ে বিকাশ পেমেন্ট করার এ সুবিধা গ্রাহককে ডিজিটাল লেনদেনে দিন দিন আরো সক্ষম করে তুলছে।
পে লেটার দিয়ে কেনাকাটা: জরুরি প্রয়োজনে কেনাকাটাকে আরো সহজ করতে প্রথমবারের মতো যৌথভাবে ‘পে-লেটার’ নামের বিশেষ জামানতবিহীন ঋণ সেবা চালু করেছে বিকাশ ও সিটি ব্যাংক। এ সেবার মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলেও গ্রাহক প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বিকাশ অ্যাপ থেকেই তাৎক্ষণিক সিটি ব্যাংকের এ বিশেষ ঋণ নিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। সাতদিনের মধ্যে এ ঋণ পরিশোধ করা যায় কোনো ইন্টারেস্ট ছাড়াই। আবার গ্রাহক চাইলে তিন বা ছয় মাসের কিস্তিতেও পরিশোধ করতে পারছেন এ ঋণ। পে লেটারের জন্য বিবেচ্য গ্রাহক ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সীমা পেতে পারেন। বিকাশ অ্যাপের পেমেন্ট অপশন থেকে অথবা লোন অপশন থেকেও পে লেটার ফিচার ব্যবহার করতে পারছেন গ্রাহক।
কেনাকাটার হিসাব দেখে নেয়া যায় বিকাশ স্টেটমেন্ট থেকে: কেনাকাটা করতে করতে অনেক সময় আমাদের খেয়াল থাকে না কত কিছু কিনে ফেলেছি! এক্ষেত্রে বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটার বড় সুবিধা হচ্ছে অ্যাপের স্টেটমেন্ট অপশন থেকে যেকোনো সময় দেখে নেয়া যায় কোন খাতে কত খরচ হলো। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খরচের হিসাব রাখতে পারলে আর্থিক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পিআর শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, ‘দৈনন্দিন ব্যস্ততায় মূল্যবান সময় বাঁচাতে গ্রাহক ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। এ আচরণগত পরিবর্তনের মূলে রয়েছে ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি মানুষের আস্থা ও আত্মবিশ্বাস। গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিকাশও তাই উৎসব-পার্বণের সময় সুপারস্টোর, ব্র্যান্ড শপ, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্টসহ নানা অফার দিয়ে থাকে। পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্টের প্রকৃত সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে বিকাশ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইউটিলিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, টেলিকম অপারেটর, সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিওসহ নানা ধরনের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে দেশে একটি ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
পবিত্র রমজান মাসজুড়ে এবং ঈদকে সামনে রেখে বিকাশ পেমেন্টে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফারগুলো দেখে নেয়া যাবে বিকাশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ বা এ ওয়েব লিংকে- https://www.bkash.com/campaign/search?category=shob-moment-e-bkash-payment










