বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সমন্বিত জ্বালানি সংস্থাগুলোর একটি শেভরন। দৃশ্যত, কোম্পানিটি জ্বালানি শিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত। শেভরন বিশ্বাস করে জ্বালানির সহজলভ্যতা মানুষের অগ্রগতিকে ধাবিত এবং আধুনিক সমাজের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবনমানকে উন্নত করতে সহায়তা করে। এ কারণেই আমরা বিশ্বাস করি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং আরো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সমৃদ্ধিশালী ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশে শেভরন বাংলাদেশ ব্লক টুয়েলভ লিমিটেড ও শেভরন বাংলাদেশ ব্লক থার্টিন অ্যান্ড ফোরটিন লিমিটেড (‘শেভরন বাংলাদেশ’) জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে সমর্থন ও পেট্রোবাংলাকে সহায়তার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কনডেনসেটের বৃহত্তম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান শেভরন বাংলাদেশ এবং এটি ২০১৬ সাল থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ করছে। শেভরন বাংলাদেশ তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে—বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার। এ তিন গ্যাসক্ষেত্রের মাধ্যমে শেভরন বাংলাদেশ মোট দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ ও মোট দেশীয় কনডেনসেটের ৮০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করছে। ১৪ বছরে শেভরন বাংলাদেশ ৪২০ কোটি ডলারের বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগে (এফডিআই) অবদান রেখেছে, যার মধ্যে স্থানীয় সরবরাহকারী ও ঠিকাদারের সঙ্গে ৬৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার চুক্তি অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে আমরা বিকাশমান বিশ্বে স্বল্পমাত্রায় কার্বন নিঃসরণ জ্বালানি সরবরাহে মানুষের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার প্রতি মনোনিবেশ করছি। আমাদের ৯৭ শতাংশের বেশি কর্মী বাংলাদেশী নাগরিক। আমাদের প্রতিভাবান কর্মীদের নিয়ে আমরা নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও উৎপাদন দক্ষতায় বিশ্বমানের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যৎ হচ্ছে স্বল্প কার্বনের যুগ। শেভরনের জ্বালানি রূপান্তর কৌশল তাই দ্বিমুখী। আমরা নতুন স্বল্পমাত্রায় কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানির ব্যবসা গড়তে এবং আমাদের চলমান উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ হ্রাসের লক্ষ্যে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ করছি। আমরা আমাদের বৈশ্বিক কার্যক্রমে কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছি এবং মিথেন, ফ্লেয়ারিং ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় মনোনিবেশ করছি। আমরা আমাদের যাবতীয় কর্মে ২০১৬ সালে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হতো তা ২০২৮ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য স্থির করেছি।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আমরা বিভিন্ন সুযোগ মূল্যায়নের মাধ্যমে স্বল্পমাত্রায় কার্বন নিঃসরণ করে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
বিশ্বজুড়ে শেভরন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পণ্য, হাইড্রোজেন, কার্বন ক্যাপচার, ব্যবহার, সংরক্ষণ, ভারসাম্য রক্ষা এবং উদীয়মান কম কার্বন নিঃসরণকারী সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বল্পমাত্রার কার্বনের ব্যবসা বিকাশে পরিকল্পনার করছে।
কোনো একটি কোম্পানি, শিল্প কিংবা দেশ একা একা বিশ্বের জ্বালানি ও জলবায়ু লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে একত্রে শেভরন বাংলাদেশ দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎকে আশাবাদ এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে নিতে কাজ করবে।
এরিক এম ওয়াকার: প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
শেভরন বাংলাদেশ










