বাংলাদেশে সংঘটিত সবচেয়ে বিপর্যয়কর ও প্রলয়ঙ্করী বন্যাগুলোর অন্যতম ১৯৮৮-এর বন্যা। ১৯৮৮ সালে দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ ভূমি প্লাবিত হয়েছিল, মারা গিয়েছিল প্রায় তিন হাজার লোক এবং কমপক্ষে সাড়ে চার কোটি লোক অস্থায়ীভাবে বাস্তুহারা হয়েছিল। ঢাকাসহ প্রধান শহরগুলো কয়েক সপ্তাহজুড়ে পানির নিচে নিমজ্জিত ছিল এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) পাঁচদিন বন্ধ ছিল। রেলপথ, মহাসড়ক ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছিল; ৭০ লাখের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং প্রায় ২০ লাখ টন আউশ ধান— যা ছিল বছরের প্রধান শস্য— নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ওই বছর ৩০ লাখ টনের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এ বন্যার কারণে পুরো দেশ প্রায় এক মাসের জন্য নিশ্চল হয়ে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক পটভূমি ভিন্নতর এবং প্রধান নদ-নদীর উত্পত্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সীমার বাইরে ভারত, নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের হিমালয়ের উজানে, যাদের বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
১৯৮৮-এর বন্যায় তীব্র ভারি বর্ষণে নদীর পানি গড় উচ্চতার (২০ দশমিক ৮ মিটার) অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। তীব্র বৃষ্টিপাত ও নদীর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পানিপ্রবাহ ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার জন্য মূলত দায়ী, যা প্লাবনভূমিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল।
১৯৮৮ সালের বন্যার পর দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডায় পরিণত হয় এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। ফ্রান্স ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বিশেষজ্ঞরা। দলটির কাজ ছিল হিমালয়ের বাস্তুসংস্থান পরিবর্তন পরীক্ষা করে দেখা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের পথ খোঁজা।
এসব গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী আগামী দিনে বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের দেখা পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করা ফরাসি প্রকৌশলীরা সবচেয়ে নাটকীয় ও ব্যয়বহুল ‘মেগা প্রকল্প’ নিয়ে হাজির হন। তাদের পরিকল্পনা ছিল দেশজুড়ে প্রধান নদ-নদীগুলোয় বিশাল বাঁধ নির্মাণ এবং নদী ড্রেজিং করা। এ পরিকল্পনায় প্রস্তাব দেয়া হয় ৪ হাজার কিলোমিটার উঁচু বাঁধ নির্মাণের, যেজন্য ব্যয় হবে ১০ বিলিয়ন ডলার আর সময় লাগবে ২০ বছর। এটি দেশকে বস্তুত দুর্ভেদ্য করে তুলবে।
আমেরিকা ও জাপানের বিশেষজ্ঞরা ফরাসিদের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন মানে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয়। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ব্যয়বহুল প্রকৌশল প্রকল্প নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এবং এর বদলে তারা পরামর্শ দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পূর্বাভাস প্রযুক্তির আরো উন্নতি ঘটানো উচিত এবং অর্থ ব্যয় করা উচিত গবেষণা ও ‘বন্যার সঙ্গে মানিয়ে’ নেয়ার বিভিন্ন স্বদেশী উপায়ের প্রচারণায়। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা আরো দেখিয়েছেন, বিশাল বাঁধ নির্মাণ যদি ব্যয়যোগ্য হয়ও, তবু এ বাঁধগুলো বাংলাদেশের কৃষিজমির বিশাল অংশকে প্রয়োজনীয় পানিপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করবে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাও (জাইকা) ব্যয়বহুল প্রকৌশলকাজের পক্ষে ছিল না। ইউএনডিপি এর মাঝামাঝি অবস্থান নেয়। তারা বলে, বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে, তবে একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক, পরিবেশগত ও ব্যবস্থাপনাগত ইস্যুগুলোর প্রতিও নজর দেয়া উচিত।
বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ
বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনানীতি মোটামুটি সাম্প্রতিক। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) কার্যকর বন্যা নিয়ন্ত্রণনীতি নিয়ে দাবি বাড়তে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এটি জনপ্রিয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের (যারা ১৯৫৪ সালে ক্ষমতায় এসেছিল) রাজনৈতিক এজেন্ডার শীর্ষে ছিল এবং অপ্রত্যাশিতভাবে পরবর্তী বছরে দেশে আরেকটি প্রলয়ঙ্করী বন্যা দেখা দেয়, এর ফলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ কুর্গ মিশন গঠন করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি উন্নয়ন কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া। ১৯৫৬ সালে এ মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিডব্লিউএপিডিএ) প্রতিষ্ঠা করে। এর কাজ ছিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি উন্নয়নে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও নজরদারি। ১৯৬৪ সালে ইপিডব্লিউএপিডিএ ৯১ প্রকল্পবিশিষ্ট একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান ইস্যু করে।
কুর্গ মিশনের প্রতিবেদনে উঁচু বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধান নদ-নদীর প্রধান চ্যানেলগুলোয় পানি আটকে রাখা এবং বন্যা থেকে বৃহৎ এলাকাকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। দুঃখজনকভাবে এটি পানি উন্নয়নের দৃষ্টিকে ভুল পথে নিয়ে যায়, ১৯৬৩ সালের হারদিন রিপোর্ট ও ১৯৬৪ সালের থিজস রিপোর্টেও এটি অনুসরণ করা হয়েছে। উভয়টিতেই বিভিন্ন ধরনের বড় আকারের প্রকৌশল অবকাঠামো নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালের মধ্যে ৯১ প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ১৯টি সম্পূর্ণ করা হয়েছিল।
সম্পূর্ণ হওয়া প্রধান প্রকল্পগুলো ছিল: ১. ২১৭ কিলোমিটার বাঁধ, যা ব্রহ্মপুত্র ওয়েস্ট ব্যাংক ফ্লাড এমব্যাংকমেন্ট নামে পরিচিত, যেটি পশ্চিম তীরের ২ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টর জমিকে রক্ষায় তৈরি করা হয়েছিল; ২. ঢাকা-ডেমরা প্রজেক্ট, ৩০ কিলোমিটার বাঁধ নকশা করা হয়েছিল ছয় হাজার হেক্টর ভূমিকে বন্যা থেকে রক্ষা করার জন্য ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সিস্টেম তৈরির জন্য; ৩. গঙ্গা-কপোতাক্ষ মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার ২ লাখ ৫০ হাজার ভূমিতে সেচ ব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে; ৪. কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট, ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুমুখী জলাধার, উদ্দেশ্য ছিল জলবিদ্যুৎ চালু করা, বাণিজ্যিকভাবে মত্স্য চাষ শুরু করা ও ডাউনস্ট্রিম ফ্লাডিং নিয়ন্ত্রণ করা এবং ৫. উপকূল বেল্টে ৭৪ উপকূলীয় বাঁধ (পোল্ডার, (৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার) ১২ লাখ হেক্টর জমিকে লবণ পানির প্লাবন থেকে এবং বর্ষাকালে জোয়ার থেকে রক্ষা করার জন্য।
এখনো এসব প্রকল্পের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে কোনো পদ্ধতিগত গবেষণা হয়নি। তবে দুটি গবেষণায় সম্ভাব্য পরিবেশগত দিক নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়। ‘প্রতিরক্ষামূলক’ প্রকল্পগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি হলো পুরোপুরিভাবে বন্যাকে প্রতিরোধ করার নীতি। এটি প্লাবনভূমিতে প্রচলিত কৃষিকাজের জন্য বন্যার প্রয়োজনীয়তার পুরোপুরি বিপরীত। এরও পরে ১৯৮৭ ও ১৯৮৮-এর বন্যা বলছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণে বড় আকারের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয় এবং বড় নদ-নদীগুলোর চ্যানেল মাইগ্রেশনের প্রকৃতি আমলে নিলে এগুলো যে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে। এর উদাহরণ, সিরাজগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ১৯৩০ সালের পর আট কিলোমিটার সরে গেছে এবং নগরবাড়ীতে এর প্রশস্ততা ১৯২৫ সালের পর চার থেকে আট কিলোমিটার বেড়েছে।
প্রতি বছর ভাঙনের কারণে ব্রহ্মপুত্র ডান তীর বন্যা রক্ষা বাঁধ বন্যা নিয়ন্ত্রণে বেশির ভাগ সময়ই ব্যর্থ হচ্ছে; প্রকৃতপক্ষে বাঁধটিকে দায়ী করা হয় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পশ্চিমাভিমুখ মাইগ্রেশন দ্রুত করার জন্য। এছাড়া উঁচু বাঁধ একই সঙ্গে মিথ্যা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং প্রকৃতভাবে বন্যাজনিত ক্ষতি বাড়াতে পারে এবং মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। মতলব (ধনাগদা-মেঘনা প্রজেক্ট) এলাকায় করা এক গবেষণা অনুযায়ী, গড় হিসাবে বাঁধের বাইরের এলাকার তুলনায় ভেতরের এলাকায় বাস্তব ক্ষতি বেশি। উপকূলীয় বাঁধ ও পোল্ডার প্রকল্পগুলো এলাকার চিংড়ি চাষে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং চিংড়িচাষীরা বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ কাটে নিজেদের প্রয়োজনীয় লোনা পানির জন্য। এটি উপকূলীয় বাঁধের উদ্দেশ্যকে পরাভূত করে এবং প্রায়ই স্থানীয় ধান উৎপাদনকারীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম দেয়।
১৯৮৮ সালের বন্যায় যে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বা সাড়া পাওয়া গিয়েছিল, তা ছিল খুবই উৎসাহদায়ক। অনেক দেশ শুধু তাত্ক্ষণিক রিলিফ সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দেয়নি, সঙ্গে প্রলয়ঙ্করী বন্যার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে সাহায্য করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ১৯৮৯ সালে প্যারিস সামিটে জি৭ দেশগুলো চারটি ভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছিল (উপরে উল্লেখকৃত ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউএনডিপি) এবং ১৯৮৯ সালের লন্ডন বৈঠকে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, বিশ্বব্যাংকের উচিত হবে বাংলাদেশের বন্যার প্রকোপ কমাতে ও সত্যিকারের উন্নতি অর্জনে বিশ্বসম্প্রদায়ের সহযোগিতায় সাহায্য করা।
বাংলাদেশ ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান (এফএপি) যথেষ্ট দীর্ঘ ও জটিল দলিল। এটি ইউএনডিপির পৃষ্ঠপোষকতায় প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা হলো ফরাসি ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণার ‘রক্ষণশীল মিশ্রণ’ এবং সম্ভবত বাংলাদেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ প্ল্যানে সামাজিক ও পরিবেশগত ইস্যুর দিকে কিছুটা নজর দিয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় ১৯৮৮-এর বন্যার পর বাংলাদেশ সরকার ১১ দফা নির্দেশনামূলক নীতি ঘোষণা করেছিল। প্ল্যান তৈরিতে নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছিল। অন্যান্য নীতির মধ্যে ছিল— ১. একটি বিস্তৃত বন্যা পরিকল্পনার পর্যায়ক্রম বাস্তবায়ন; ২. কার্যকর ভূমি ও পানি ব্যবস্থাপনা; ৩. বন্যা প্রস্তুতি ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ গ্রহণ; ৪. ভারত ও নেপালের সঙ্গে হাইড্রোলিক ডাটা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন; ৫. প্লাবনভূমি বিন্যাস এবং ৬. বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ড্রেনেজ কাজের পরিকল্পনা, নকশা ও পরিচালনায় স্থানীয় সুবিধাপ্রাপ্তদের যুক্ত করা।
বাংলাদেশের চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (১৯৯০-৯৫) সঙ্গে একীভূত করে এফএপিকে দেখা হয় বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদে বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১. বন্যা হয় এমন সব এলাকা ও প্রধান নদী জরিপ করা; ২. বিদ্যমান ব্রহ্মপুত্র পশ্চিম (ডান) তীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ শক্তিশালীকরণ; ৩. পূর্ব (বাম) তীরে বাঁধগুলো উন্নত ও সংযোগ; ৪. প্রধান শহর কেন্দ্রগুলোকে বন্যা থেকে রক্ষা করা; ৫. সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ৬. নদী ও বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতি মূল্যায়নে চার বা পাঁচটি বৃহৎ পাইলট প্রজেক্ট (প্রতিটি ১০ মিলিয়ন ডলার করে)। এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত, আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত গবেষণা চালানো হবে, যা উঁচু বাঁধ নির্মাণের প্রভাব যাচাই করবে।
ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যানের এজেন্ডা ছিল শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা। বাঁধের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ ইস্যু এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে একাধিক গবেষণা চলেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে নির্দিষ্ট বিস্তারিত কিছু নেই। তবু এটা অনুমান করা সম্ভব যে, একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা ভবিষতে কী ফল দিতে পারে। এফএপিতে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার উভয় পাশ বাঁধ দিয়ে সংরক্ষিত করা হতে পারে, সম্ভবত এরপর আসবে পদ্মা (গঙ্গা) ও মেঘনা নদীর পালা।
প্রস্তাবিত কাজের পরিকল্পনা ও নকশার জন্য প্রয়োজন বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী পরিবর্তনের ওপর পদ্ধতিগত নজরদারি, যাতে কাজের সময় প্রক্রিয়ার মূল বিষয় সম্পর্কে ভালো জানাশোনা থাকে। এফএপিতে একটি ম্যাপ ছিল, যেখানে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও মেঘনা নদীর উভয় পাশে প্রস্তাবিত বাঁধ নির্দেশ করা হয়েছিল। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এফএপি বাঁধকেন্দ্রিক স্কিমগুলোর পক্ষপাতী ছিল এবং এর মূলগত অনুমান পরিষ্কারভাবে প্রধান নদ-নদী নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ছিল। (গবেষণাভিত্তিক নিবন্ধটি এশিয়ান সার্ভে, ভলিয়ম-৩৩, নং-১০, অক্টোবর ১৯৯৩তে প্রকাশিত)
সংক্ষেপে ভাষান্তর: সাঈদ সরকার
লেখক: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ও কানাডার ইউনিভার্সিটি অব লেথব্রিজের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক





