বর্তমানে রান্নাঘরের সাজসজ্জায় এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্মার্ট জীবনযাপনের অংশ হিসেবে ‘মডার্ন কিচেন’ ধারণাটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ ধরনের কিচেনে শুধু নান্দনিকতা নয়, ব্যবহারিক দিকেও থাকে আধুনিক প্রযুক্তির ছাপ। যেমন একটি উন্নতমানের ফসেট বা পানির কল এখন শুধু পানি সরবরাহই নয়, বরং পুরো কিচেনের স্মার্ট লুকেও যোগ করে নতুন মাত্রা। বাজারে এখন মিলছে এমন সব ফসেট, যা গুণগত মান বজায় রেখেই রান্নাঘরে এনে দিচ্ছে স্টাইল ও স্মার্টনেসের এক অনন্য সংমিশ্রণ।
আকিজ বশির গ্রুপের পরিচালক (অপারেশনস) খোরশেদ আলম বলেন, ‘ফসেট কেনার সময় গ্রাহক শুরুতেই দুটো জিনিসকে গুরুত্ব দেন। এক. এর কার্যকারিতা ঠিকঠাক আছে কিনা আর দুই. নান্দনিকতা বা এর সৌন্দর্য। এর মধ্যেও আবার দুটো বিষয় রয়েছে। প্রথমত ফসেটের ডিজাইন কতটুকু সুন্দর ও দ্বিতীয়ত ফিনিশিং কতটা মসৃণ।’
আধুনিক রান্নাঘরের জন্য শুধু দেখতে আকর্ষণীয় ফসেটই যথেষ্ট নয়, সেটির গুণগত মানও হতে হবে উচ্চ মানের। টেকসই ও কার্যকর ব্যবহারের জন্য শতভাগ ব্রাস বা পিতলের তৈরি ফসেট সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত। কারণ এ উপাদান দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এবং মরিচা ধরে না। তবে ফসেটের বাহ্যিক সৌন্দর্য, অর্থাৎ শাইন বা চকচকে ভাবও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায় নতুন ফসেট শুরুতে ঝকঝকে দেখালেও কিছুদিনের মধ্যেই শাইন ম্লান হয়ে যায়। এটি সাধারণত নিম্নমানের ইলেকট্রোপ্লেটিংয়ের কারণে হয়। তাই ফসেট কেনার আগে অবশ্যই দেখতে হবে এর শরীরে ব্যবহৃত ইলেকট্রোপ্লেটিং কোটিং কতটা উন্নত। কত গ্রেডের, কত লেয়ারের কোটিং এবং সেটির স্থায়িত্ব কেমন, এসব বিষয় যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ট্রেন্ডে এখন চলছে রঙিন ফসেটও। ফসেট মানেই সেটা পিতলের বা সিলভারের কালার হতে হবে, এ ধারণা থেকে দিন দিন সরে আসছেন গ্রাহকরা।
খোরশেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘রোসার ফসেটগুলো উন্নত মানের ইলেকট্রোপ্লেটিং সম্পন্ন। বাংলাদেশে অটোমেটিক ইলেকট্রোপ্লেটিং আর কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। এছাড়া নিজস্ব টিবিডি মেশিনে রোসা রঙিন পণ্যও তৈরি করে। কারণ এ ধরনের স্মার্ট প্রডাক্টগুলো গ্রাহকরা বেশি পছন্দ করেন।’
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে ফসেট তৈরির কারখানাটি বিশ্বমানের। যেকোনো দেশের সঙ্গে এ কারখানা প্রতিযোগিতা করতে পারে। এখান থেকে নতুন নতুন সিরিজ ও ডিজাইন লঞ্চ করা হয়।
একটি আধুনিক ফসেটে ঠাণ্ডা-গরম পানির মিক্সচারের সুবিধা থাকে। রোসার ফসেটগুলোয় উন্নত মানের হাঙ্গেরীয় ক্যারক্স কার্ট্রিজ ব্যবহার করা হয়। যাতে ঠাণ্ডা-গরম পানির মিক্সচারটা সঠিক হয়। এছাড়া রোসা বর্তমানে রান্নাঘরের জন্য সাত-আট লিটারের গিজারও বাজারে এনেছে বলে জানান খোরশেদ আলম।
তবে রান্নাঘরের ফসেট যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে নিজেদেরও। অনেকেই ফসেটে পড়া হালকা দাগ ওঠাতে নানা কেমিক্যাল ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে ফসেটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় বা দীর্ঘ সময় শাইন বজায় রাখার জন্য কোনো কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো। যেহেতু আধুনিক ফসেট মুভেবল নয়, তাই এটি ঘোরানোর সময়ও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। খুব জোরে বা তাড়াহুড়া করে ফসেট ঘোরাতে গেলে এর ফ্লেক্সিবিলিটি নষ্ট হয় দ্রুত।
একটা সময় ছিল যখন বালতিতে করে পানি নিয়ে এসে তারপর রান্নাঘরে বসে তরি-তরকারি ও বাসন-কোসন ধোয়া হতো। এখন সময় বদলেছে। বদলেছে চিন্তাধারা, কাজের ধরন। বর্তমানে রান্নাঘরের অনুষঙ্গ হিসেবে এসেছে ফসেটে ওয়াটার ট্যাপ টেকনোলজি। স্মার্ট কিচেন জীবনকে কিছুটা সহজ করে। ব্যস্ত জীবনের সময় বাঁচায়। তাই সবাই এখন উন্নত মানের ফসেট চায়। এ বিষয়ে আকিজ বশির গ্রুপের পরিচালক (অপারেশনস) খোরশেদ আলম বলেন, ‘স্মার্ট প্রডাক্টগুলো গ্রাহকরা এখন বেশি পছন্দ করেন। তাই তাদের পছন্দ মাথায় রেখে আমরা বাটন, পুশ ফসেটের মতো স্মার্ট ফসেট উৎপাদন করে যাচ্ছি।’
রান্নাঘরকে বলা হয় পরিবারের প্রাণ। আর এখন রান্নাঘরের ফসেট শুধু পানির উৎস নয়, বরং কিচেনের সৌন্দর্য ও সহজ ব্যবহারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। উন্নত মানের উপাদান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি ফসেট দীর্ঘস্থায়ী ও সুবিধাজনক ব্যবহার নিশ্চিত করে। তবে ফসেট কেনার সময় শুধু ডিজাইন দেখে নয়, এর গুণগত মান, ইলেকট্রোপ্লেটিংয়ের স্থায়িত্ব এবং কতটুকু টেকসই তা খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক ফসেট বেছে নিলে রান্নাঘর হবে আরো স্মার্ট ও আরামদায়ক, যা পরিবারের দৈনন্দিন কাজকে সহজ ও গতিশীল করে তুলবে।










