আবাসন ছাড়িয়ে সমন্বিত নগর উন্নয়নে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট
তিন দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতায় আবাসন থেকে টাউনশিপ, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বৃহৎ অবকাঠামোয় বিস্তৃত হয়েছে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের কার্যক্রম। সে অভিজ্ঞতারই সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে ইউনাইটেড সিটিতে আবাসনের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন উপাদানকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।
ঢাকার মাদানী এভিনিউয়ে প্রায় ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে ইউনাইটেড সিটি। আবাসিক প্লট ও কনডোমিনিয়ামের পাশাপাশি এর মহাপরিকল্পনায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক এলাকা ও সামাজিক অবকাঠামো। এর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে কার্যক্রমের অংশ হয়েছে; অন্যগুলো রয়েছে উন্নয়ন ও পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায়ে। একটি বৃহৎ এলাকার আবাসন, সেবা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নেয়ার এ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটছে।
১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের গণ্ডি পেরিয়ে টাউনশিপ, ভূমি উন্নয়ন, প্রকৌশল ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯০টির বেশি প্রকল্পে কাজ করেছে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট। এসব প্রকল্পে প্রায় এক কোটি বর্গফুট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় ২০ লাখ বর্গফুট নির্মাণ ও উন্নয়নাধীন রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বর্গফুট উন্নয়ন।
এ পরিসরের সঙ্গে প্রকল্পগুলোর ব্যবহারিক বৈচিত্র্যও যুক্ত হয়েছে। আবাসনের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে বহুমুখী করেছে। ইউনাইটেড সিটিতে সে অভিজ্ঞতাকে একটি বৃহত্তর ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মধ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ইউনাইটেড সিটিতে দৈনন্দিন জীবনের সমন্বয়
একটি পরিবারের কাছে বাসস্থানের অবস্থান মূল্যায়নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সন্তানের স্কুল, চিকিৎসার সুযোগ, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও যাতায়াতের বাস্তবতা। ঢাকার মতো শহরে এসব সেবার দূরত্ব দৈনন্দিন সময় ও ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ইউনাইটেড সিটির পরিকল্পনায় তাই আবাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও সেবার অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
টাউনশিপটির শিক্ষা অবকাঠামোর অংশ ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং স্যার জন উইলসন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল এবং ইউনাইটেড কলেজ অব নার্সিং। একই এলাকায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাসস্থানকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও সেবার একটি বিস্তৃত পরিসর গড়ে তুলছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোর অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে মসজিদ আল মুস্তফা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার বর্গফুট আয়তনের চারতলা মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বৃহৎ একটি জনপদের পরিকল্পনায় এ ধরনের সামাজিক পরিসর মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্মিলিত জীবনেরও অংশ।
ইউনাইটেড সিটির মহাপরিকল্পনায় রয়েছে ১৩৬টি সড়ক ও ২৭টি পার্ক। আবাসিক প্লটের জন্য প্রায় ৭৫ একর, বাণিজ্যিক প্লটের জন্য ১১ একর ও কনডোমিনিয়াম উন্নয়নের জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারিত। এর সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ। এসব উপাদান বাস্তবায়নের অগ্রগতির সঙ্গে টাউনশিপটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দৃশ্যমান হবে।
এ দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘মানুষ শুধু একটি ফ্লোর প্ল্যানের মধ্যে বাস করে না, তারা একটি কমিউনিটিতে বাস করে। তাদের প্রয়োজন ভালো স্কুল, কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি, সবুজ পার্ক ও নিরাপদ যাতায়াত। একটি ভবনের নির্মাণ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকে, কিন্তু একটি কমিউনিটির যাত্রা কখনো শেষ হয় না।’

বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ দেয়া বক্তব্যে তিনি প্রকল্পের সাফল্য মূল্যায়নে মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিবেচনায় একটি টাউনশিপের নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব থাকে। সেবা ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বাসিন্দাদের পরিবর্তিত প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মেলানোর সামর্থ্যই এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নির্ধারণ করে।
বাণিজ্য ও নগর জীবনের নতুন গন্তব্য
আবাসিক উন্নয়নের পাশাপাশি ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, ধানমন্ডি সেন্টার পয়েন্ট, ইউনিসেন্ট্রাল ও ইউনাইটেড হাউজ। অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পরিসর নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটির কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
খুচরা বাণিজ্য ও ভোক্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প সেন্টারপয়েন্ট। প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের প্রকল্পটি বিমানবন্দর ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের কাছাকাছি অবস্থিত। এখানে বাণিজ্যিক স্থাপনার পাশাপাশি খোলা জায়গা, কেনাকাটা, খাবার ও বিনোদনের সুবিধা রাখা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির পরিকল্পনায় শুধু খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র নয়, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে মানুষের অবসর ও সামাজিক ব্যবহারের জায়গাকেও যুক্ত করা হয়েছে।
এ ধরনের উন্নয়নের অর্থনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। ব্যবসার উপযোগী স্থান, মানুষের সহজ প্রবেশ এবং বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করে। একটি প্রকল্পের নকশা ও ব্যবস্থাপনার মান তাই সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সেবা গ্রহণকারী মানুষের অভিজ্ঞতা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউনাইটেডের আবাসিক ও বাণিজ্যিক কাজকে একসঙ্গে দেখলে নগরজীবনের এ পারস্পরিক সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়।
ভবন পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনা
রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের মূল্যায়নে শুধু নির্মাণ ব্যয় নয়, ভবন ব্যবহারের পুরো সময়ের পরিচালন ব্যয় ও কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার, নিরাপত্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিষয়গুলো নকশার পর্যায়েই বিবেচনায় রাখা হলে ভবন পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
গুলশান সেন্টার পয়েন্টে ব্যবহৃত লো-ইমিসিভিটি বা লো-ই এবং রিফ্লেক্টিভ গ্লাস সূর্যের তাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ভবনটিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে জ্বালানি ও পানি ব্যবহারের দক্ষতাকে ভবনের নকশা ও পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোয় পয়োবর্জ্য পরিশোধনাগার বা এসটিপি এবং পানি শোধনাগার বা ডব্লিউটিপি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের ব্যবহার ও ভবনের সেবামান ধরে রাখার জন্য এ ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
শিল্প ও বাণিজ্যের অবকাঠামোয় নির্মাণ অভিজ্ঞতা
ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের প্রকৌশল সক্ষমতার আরেকটি দিক দেখা যায় আবাসন ও অফিস ভবনের বাইরের প্রকল্পগুলোয়। টেকনাফ স্থলবন্দরে ভূমি উন্নয়ন, গুদাম, সংযোগ সড়ক এবং পণ্য ও যাত্রী জেটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ অভিজ্ঞতা পণ্য পরিবহন ও সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তার কাজের পরিধি তুলে ধরে।
বিদ্যুৎ অবকাঠামোয়ও রয়েছে নির্মাণ অভিজ্ঞতা। ঢাকা ইপিজেডের জন্য ৮৮ মেগাওয়াট ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের জন্য ৭২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ একাধিক কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত হয়েছে। প্রকল্পগুলোর ধরন আলাদা হলেও ভূমি প্রস্তুতি, প্রকৌশল ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনার সমন্বয় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
স্থলবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর এ বৈচিত্র্য প্রতিষ্ঠানটির কাজকে দেশের উৎপাদন, বাণিজ্য এবং সেবার সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া হিসাবে, এর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কর্মসংস্থানের পরিধি ৭৫০ জনের বেশি। ফলে উন্নয়নের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের ধরন ও ব্যবহারও ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের অবস্থান বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
পরবর্তী উন্নয়নে সমন্বয়ের গুরুত্ব
প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বর্গফুটের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের সামনে বড় পরিসরের কাজের সুযোগ তৈরি করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্মাণের মানের পাশাপাশি সেবা ব্যবস্থাপনা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বৃহত্তর নগর অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একটি টাউনশিপের নিজস্ব পরিকল্পনা যত বিস্তৃতই হোক, এর কার্যকারিতা আশপাশের সড়ক, গণপরিবহন, পানি সরবরাহ ও নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একইভাবে আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে দক্ষ নকশা ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং সহায়ক নীতির প্রয়োজন রয়েছে। ফলে বেসরকারি আবাসন ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সাফল্য শুধু প্রকল্পের ভেতরের অবকাঠামোর ওপর নয়, বৃহত্তর নগর পরিকল্পনার সঙ্গে এর সমন্বয়ের ওপরও নির্ভর করবে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট নির্মিত ‘ইউনাইটেড টার্মিনাল কমপ্লেক্স’










