সেটিই ছিল তার শেষ ভ্রমণ। দিদা চিন্তিত হয়ে এত দূরে যেতে নিষেধ করলেও দাদু ভাই বলেছিলেন, ‘খোকনের মা, এটাই হয়তো আমার শেষ যাত্রা। আর হয়তো ভ্রমণ করতে পারব না।’

হাওয়াইয়ে গিয়ে একদিন তিনি সবাইকে নিয়ে পলিনেশিয়ান কালচারাল সেন্টার ঘুরে আসতে বললেন আমাকে। শুরুতে বিষয়টি আমার কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় মনে হয়নি। কিন্তু দাদু ভাই বলেছিলেন, ‘তোমাদের অনেক কিছু শেখার আছে, তোমাদের ভালো লাগবে।’

প্রায় ২ ঘণ্টা বাসে গিয়ে সারা দিন সেখানে ঘুরে পলিনেশিয়ান সংস্কৃতি, বিভিন্ন দ্বীপ, সেখানকার মানুষের জীবনযাপন ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছিলাম। তখন বুঝিনি, এখন মনে হয়—দাদু ভাইয়ের কাছে ভ্রমণ মানেই ছিল শেখার সুযোগ।

নতুন প্রযুক্তির প্রতিও তার ছিল প্রবল আগ্রহ। দাদু ভাইয়ের হাতেই আমি প্রথম ব্ল্যাকবেরি দেখি। যখন নতুন কম্পিউটার আসে, দাদু ভাই বাসায় শিক্ষক রেখে মন দিয়ে শিখেছেন। নতুন সিনেমা দেখতে পছন্দ করতেন, ভালো ভালো সিনেমা এলে তিনি খুব উপভোগ করতেন।

[এমসিসিআই ও বণিক বার্তা আয়োজিত গত বছর স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্য থেকে নেয়া]