স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কয়েশ বছর আগে থেকেই এ ভূখণ্ডের মানুষ অর্থোপার্জনের আশায় বিদেশ পাড়ি দিতে শুরু করেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে জাহাজে খালাসির সারেংয়ের কাজ নিয়ে বহু মানুষ এদেশ থেকে বিদেশ পাড়ি দেয়, তাদের বেশির ভাগই যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। তারাই উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতেন পরিবারের ভরণপোষণের জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশান্তরী হওয়া অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে উঠলেও পাশ্চাত্যে সস্তা শ্রমিকের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাংলাদেশসহ অনুন্নত বিশ্বের বহু দেশের নাগরিক প্রবাসী হয়ে যায়। তখন যুক্তরাজ্য ছাড়াও আরেকটা জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল বার্মা, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের কাছে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চাঙ্গা হয়ে উঠলে বিদেশীদের জন্য বার্মা আর স্বস্তির গন্তব্য থাকে না। ১৯৬২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিদেশী-বিদ্বেষ চরমে উঠলে বিদেশী কর্মীরা সেখান থেকে গণহারে চলে আসতে শুরু করেন। এর মধ্যে ১৯৭০-এর দশকে তেলসমৃদ্ধ আরববিশ্ব বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরব তাদের ব্যাপক উন্নয়নকাজে অর্ধদক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের সুযোগ করে দেয়। ফলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী এ সুযোগ গ্রহণ করে, যাদের মাধ্যমে আমাদের প্রবাসী আয় আহরণের একটা নতুন দুয়ার খুলে যায়। ১৯৭৪ সালে মালয়েশিয়া সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী নিয়ে যায়, সেটিও ছিল আমাদের প্রবাসী আয়ের আরেকটা উৎস, কারণ এ শ্রেণীর সবাই ছিলেন দক্ষ, ফলে উচ্চ আয়ের কর্মী। সহজলভ্য ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯৭৬ সালে আমাদের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, যার দ্রুত উল্লম্ফন ঘটে ২০০০ সালের পর। ২০২৪ সালে এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ক্রমপরিবর্তনশীল ধারায় বিভিন্ন স্বল্পোন্নত দেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসাবে গড়ে বিশ্বের প্রতি নয়জনের একজন এখন বিদেশী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আরো জানা যায় এ আয়ের অর্ধেক যায় গ্রামাঞ্চলে, যেখানে বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষ বাস করে। উৎসটিকে আন্তর্জাতিক সাহায্যের তুলনায় তিন গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী বলে গণ্য করা হয়। দেখা গেছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে কমপক্ষে সাতটি অর্জন করা যায় প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে। জাতিসংঘের এ মূল্যায়নই বলে দেয় ২০০০-২৩ সাল পর্যন্ত কেন বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়ে গেছে সাত গুণ। অথচ সংস্থাটির হিসাবে অর্থনীতির অতি গুরুত্বপূর্ণ এ আয় পাঠানোর খরচ এখনো যথেষ্ট বেশি, যা গড়ে পাঠানো অর্থের প্রায় ৭ শতাংশ। এ কারণেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একটি লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এ খরচ ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বর্তমানে ৫ শতাংশের ওপর আন্তঃদেশীয় রেমিট্যান্স প্রবাহের খরচ নির্মূল করা।
সর্বশেষ হিসাবে বাংলাদেশের জিডিপির ৫ শতাংশ জোগান দেয় প্রবাসী আয়, অথচ প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রকৃত সংখ্যা নেই সরকারের কাছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেয়া হিসাবে এ সংখ্যা ১ কোটি ৪৯ লাখ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী আবার এ সংখ্যা ৭৫ লাখ। কেবল ১৯৭৬ সালের একটা সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়, অন্ততপক্ষে সরকারি হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশীর সংখ্যা তখন ছিল ৬ হাজার ৭৮ জন। এসব হিসাব প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম নাকি বেশি সেটি জানার কোনো উপায় নেই। তবে বিভিন্ন বিদেশী গবেষণার সূত্রে আমরা জানি রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম স্থানে। প্রথম সাতটি দেশ হচ্ছে ভারত, মেক্সিকো, চীন, ফিলিপাইন, ফ্রান্স, পাকিস্তান ও মিসর।
দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ও অমূল্য অবদান রাখা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রবাসী মানবসম্পদের ব্যাপারে যে যত্ন, উদ্যোগ ও নীতি সমর্থন দেয়া উচিত ছিল, তার কোনোটিই করতে পারিনি আমরা। আমাদের মোট প্রবাসী আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসে আরব দেশ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এসব দেশে মূলত অদক্ষ কর্মীরাই যায় সবচেয়ে বেশি। ফলে অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় তাদের আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হয়। দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকদের মধ্যে এক তুলনামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রবাসী বাংলাদেশী তার পাকিস্তানি সহকর্মীর চেয়ে মাসে ৭২ ডলার কম বেতন পান। জনশক্তি রফতানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ হলেও প্রবাসী আয়ের হিসেবে রয়েছে অষ্টম স্থানে। এ সাধারণ হিসাব থেকেও সহজ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে বিশ্বের শ্রমবাজারে বাংলাদেশী কর্মীরা আয় বৈষম্য ও অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছেন প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে। এমন অবস্থান কেবল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেই নয়, দেশের উন্নয়নে অবিকল্প ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও দেশের ভেতরেও সামাজিক শ্রেণীবৈষম্যের শিকার হতে হয় তাদের। এটি দৃশ্যমান সমস্যা না হলেও বিদেশগামী কর্মী বাহিনীকে আরো দৃশ্যমান বহু বাস্তব সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার মোকাবেলা করতে হয়।
যে সমস্যাটা সবচেয়ে প্রকট হয়ে দেখা যায়, সেটি হচ্ছে বিদেশ যাত্রার উচ্চ ব্যয়, যা পাকিস্তান, ভারত বা ফিলিপাইনের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেশি। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে বিদেশের চাকরি প্রায়ই আর লাভজনক বা আকর্ষণীয় থাকে না। কোনো সরকারি ব্যবস্থাপনা না থাকলে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বিদেশগামীদের থাকে না কোনো সুরক্ষাও, ফলে তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য রাখাও সম্ভব হয় না। যথাযথ পারমিট বা চাকরি ছাড়া বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ক্রীতদাসের জীবনযাপন করার অজস্র উদাহরণ তৈরি হয়েছে এ-যাবৎ। দেশের সরলপ্রাণ প্রায় অশিক্ষিত শ্রমিকদের নিয়ে প্রতারণার ঘটনা অহরহই উঠে আসছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
সরকারি লাইসেন্স নিয়ে গত সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কেবল মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর জন্য সরকারনির্ধারিত খরচ জনপ্রতি ৭৯ হাজার টাকা হলেও এসব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। এ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মালিকানায় ছিলেন মন্ত্রী, এমপি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এ রকম বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ আছে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধেও। অথচ দেশের মোট রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে এমন অসংখ্য এজেন্সি রয়েছে, যাদের কোনো অনুমোদন নেই। এদের বেশির ভাগই অবৈধ বা জাল ভিসা ব্যবসায় জড়িত। চাকরিতে নিয়োগের অনুমতিপত্র, ইমিগ্রেশন, ক্লিয়ারেন্স, বিমান ভাড়া এসব দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছি এজেন্সিগুলো। এ-জাতীয় কারসাজি ও দুর্নীতির হোতাদের বিরুদ্ধে এ-যাবৎ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এ রকম কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে না। কিন্তু এসব সত্ত্বেও বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার শিকার হচ্ছে দেশের হাজার হাজার যুবক। জীবনের মায়া তুচ্ছ করে দালালদের খপ্পরে পড়ে অজানার উদ্দেশে পাড়ি দিয়ে গভীর সমুদ্রে প্রাণ হারাচ্ছে কিংবা বিদেশী সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়ছে অসংখ্য বিদেশগমনেচ্ছু মানুষ। অনেক কষ্টে বিদেশে পৌঁছার পরও এসব অদক্ষ কিংবা স্বল্পশিক্ষিত মানুষ যে অমানুষিক পরিবেশে রোজগার করে, সেটা স্বচক্ষে দেখলে দেশে থাকা আত্মীয় পরিজনেরা তাদের পাঠানো অর্থ খরচ করতে কুণ্ঠা বোধ করতেন।
দেশে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিরর্থক। কেবল একটিমাত্র পরিসংখ্যান থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান স্পষ্ট হয়ে যায়। আমাদের দেশে বিদেশী মুদ্রা আয়ের প্রধানতম খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। ২০২৪ সালে এ খাতের মাধ্যমে দেশের রফতানি আয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে একই বছর জনশক্তি রফতানি থেকে দেশে এসেছে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। তৈরি পোশাক রফতানির পেছনে যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানি ব্যয় থাকে, সেটি বাদ দিলে কোনো ধরনের আমদানি ব্যয়হীন জনশক্তি খাত উঠে আসে দেশের সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের উৎস হিসেবে। তৈরি পোশাক খাতের রফতানির বিপরীতে যদি ৫০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়, তাহলে নিট রফতানি আয় দাঁড়ায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এ সহজ হিসাবে জনশক্তি খাতই আমাদের সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের দাবিদার, তৈরি পোশাক খাত নয়। অথচ এ খাত যেভাবে বিভিন্ন নীতিগত সুযোগ-সুবিধা ভোগ বা আদায় করতে পারে, জনশক্তি রফতানি খাত তার ভগ্নাংশ পরিমাণও পায় না। তৈরি পোশাক খাতের অদৃশ্য সুবিধার একটিমাত্র উদাহরণ হতে পারে বিনামূল্যে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের সুযোগ। একটা ডেনিম কিংবা ডায়িং কারখানায় যে পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হয়, তার মূল্য ধরলে দেশীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদানের চেহারা ও হিসাবটা আরো বদলে যাবে।
অতএব এ অবহেলিত জনশক্তি খাতের দিকে স্বতঃপ্রণোদিত নজর দিতে হবে সরকারকেই, কারণ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের বিজিএমইএর মতো শক্তিশালী সংগঠন নেই প্রবাসী কর্মীদের। তাই দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণকারী খাতটির জন্য কিছু দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট শ্রেণীটি তাদের অধিকার ও অবদানের স্বীকৃতি পায়। এসব পদক্ষেপ এ রকম হতে পারে: (১) বৈধ পথে বিদেশী আয় দেশে পাঠানো কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা, যেমন তাদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র, দেশের ভেতর নানা সেবা সহজলভ্য করা ও তাদের প্রাধিকার দেয়া, (২) বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো, যাতে বিদেশে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও বেতন বৃদ্ধি পায় (৩) গন্তব্য দেশের ভাষা (বিশেষ করে আরবি) শেখানোর জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, (৪) রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর কঠোর নজরদারি করা, যাতে তারা বিদেশে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা কিংবা বেশি অর্থ আদায় করতে না পারে, (৫) বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলোকে প্রবাসীবান্ধব করে তোলা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র ও বাজার খোঁজার জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া (৬) বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর পদ্ধতি সহজ করা এবং ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে সক্রিয় করা, যাতে স্বল্পতম সময়ে প্রেরিত অর্থ গন্তব্যে পৌঁছায়। সর্বোপরি মুদ্রা বিনিময় হার প্রতিযোগিতামূলক করে বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে, যাতে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে উৎসাহিত হয় প্রবাসীরা। মনে রাখতে হবে, এ শ্রেণীর মানুষ অর্থোপার্জনের উদ্দেশ্যে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়, দেশের ভেতরে কিছু সম্মান ও মর্যাদা হবে তাদের জন্য এক অমূল্য উপহার, কারণ বিদেশের মাটিতে তারা এ দুটির কোনোটাই পান না।
সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নোনাজল’ গল্পে আমরা দেখতে পাই এক সারেং টাকা কামানোর জন্য তার পুরো জীবন বিদেশে কাটিয়ে সেই রক্ত জল করা টাকা পাঠিয়েছিল ছোট ভাইকে। উদ্দেশ্য, গ্রামে একটা বাড়ি তৈরি করা। কিন্তু একসময় দেশে ফিরে সে বুঝতে পারে আপন ভাই যে বাড়ির স্বপ্ন তাকে দেখিয়েছে এতদিন, সবই ছিল মিথ্যে। বাড়ি না বানিয়ে সব টাকাই উড়িয়ে দিয়েছে সে। তাই অভিমানে আবার সে ফিরে যায় বিদেশে। আবারো টাকা কামিয়ে দেশে ফিরে আসার পথেই মারা যায় সেই সারেং। কোনো উত্তরাধিকারী না থাকায় সে টাকা আবারো চলে যায় ভাইয়ের হাতে। মুজতবা আলী যে সময়ের কথা লিখেছেন, তখন প্রতারক রিক্রুটিং এজেন্সি বা সক্রিয় দালাল চক্র ছিল না। কিন্তু আজকাল বিদেশ যাওয়ার আগেই এদের হাতে প্রতারিত হচ্ছে বহু মানুষ। এসব বিষয়ে একটা কঠোর অবস্থান নিলে রক্ষা পাবে বহু দরিদ্র মানুষের ভিটেমাটি, বিদেশগামী কর্মী বাহিনীও পাবে একটা নিরাপদ রাস্তা। তারা হয়তো সরকারের কাছ থেকে বিশেষ কিছু আশা করেন না, কিন্তু নিরাপত্তাটা তো চাইতে পারেন।
ফারুক মঈনউদ্দীন: ব্যাংকার ও লেখক










