২০২৪ সালে প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেকর্ড ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এ বাজারে ইসলামী ব্যাংকের অংশীদারত্ব কেমন ছিল?

ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে প্রবাসী আয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করে আসছে। বরাবরের মতো ২০২৪ সালেও রেমিট্যান্স আহরণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। গত বছর আমরা ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার আহরণ করেছি, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ২২ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংক রেমিট্যান্স সংগ্রহের পাশাপাশি দেশের রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ইসলামী ব্যাংক নিজস্ব আমদানি ব্যয় পরিশোধের পর এ পর্যন্ত সরকারি রিজার্ভে ১৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি যোগ করে অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ ও প্রবাসী সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় দেশী-বিদেশী নানা পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।

একসময় দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের এক-তৃতীয়াংশই ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসত। গত কয়েক বছরে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও এ অংশীদারত্ব কিছুটা কমে এসেছে। এটিকে কীভাবে দেখছেন?

আপাতদৃষ্টিতে আমাদের অংশীদারত্বের অংশ কমেছে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে। এক্ষেত্রে আমি ছোট একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। ২০২২ সালে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ডলার এবং আমাদের শেয়ার ছিল ২২ শতাংশ, ২০২৩ সালে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬০ মিলিয়ন ডলার এবং আমাদের শেয়ার ছিল ২৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৭৩ মিলিয়ন ডলার এবং আমাদের শেয়ার ছিল ২২ শতাংশ। অর্থাৎ আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং চলতি বছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ। দেশে রেমিট্যান্স আহরণের পার্টিসিপেন্ট ও চ্যানেল বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে এখন তুলনামূলক বহু ডিজিটাল চ্যানেল আর ব্যাংকিং আউটলেট এসেছে। গ্রাহক তাদের সুবিধা অনুযায়ী এসব চ্যানেল আর আউটলেট ব্যবহার করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে রেমিট্যান্স আহরণে অংশীদারত্ব কিছুটা কমলেও আমাদের রেমিট্যান্স আহরণের ধারা ঊর্ধ্বমুখীই।

অংশীদারত্ব আরো বাড়ানোর জন্য আপনাদের পরিকল্পনা কী?

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তথা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, জর্ডান ও সিঙ্গাপুরে মোট ২৫ জন ব্যাংকের প্রতিনিধি নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাসীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। বিশ্বের ৬৪টি দেশের ৫৯৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়কে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য ২২ দেশের ১৫৯টি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে ২০০-এর অধিক দেশ থেকে রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীর হিসাবে জমা হয়। যা এককভাবে দেশের সবচেয়ে বেশি। রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য আমাদের একটি গবেষণা সেল রয়েছে, সে মোতাবেক পরিকল্পনা করে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নতুন নতুন এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে চুক্তি, বিদেশী ব্যাংকের সঙ্গে আরএমএ, নতুন বিতরণ চ্যানেল সংযুক্তি ও ন্যূনতম সময়ে রেমিট্যান্স সেবা গ্রাহকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা চলমান রয়েছে।

কোন কোন মানি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে আপনাদের চুক্তি রয়েছে?

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১৫৫টি এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক বিস্তৃত নেটওয়ার্কসমৃদ্ধ এক্সচেঞ্জ হাউজ ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, ড্যান্ডেলিয়ন পেমেন্টস (রিয়া মানি), ট্রান্স-ফাস্ট রেমিট্যান্স এলএলসি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), আল রাজি ব্যাংক (সৌদি আরব), ট্যাপ ট্যাপ সেন্ড ইউকে লিমিটেড (যুক্তরাজ্য), ইনস্ট্যান্ট ক্যাশ (সংযুক্ত আরব আমিরাত), মারচেন্ট্রেড এশিয়া (মালয়েশিয়া), আইফাস্ট গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড (যুক্তরাজ্য), টেরা পেমেন্ট সার্ভিসেস (ইউকে) লিমিটেড (যুক্তরাজ্য) ও ব্যাংক আল বিলাদ (সৌদি আরব) উল্লেখযোগ্য।

কোন কোন দেশের প্রবাসীরা আপনাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স পাঠান?

২০২৪ সালে আমরা ১৬৩টি দেশ থেকে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় রেমিট্যান্স হিসেবে সংগ্রহ ও বিতরণে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তথা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, জর্ডান, কাতার ও কুয়েত; ইউরোপের দেশ তথা যুক্তরাজ্য, ইতালি; এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর উল্লেখযোগ্য।

প্রবাসীদের জন্য আপনার ব্যাংকে কী ধরনের আমানত ও বিনিয়োগ প্রডাক্ট রয়েছে?

প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাদের পরিশ্রমে অর্জিত রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। প্রবাসীদের আর্থিক চাহিদা এবং সঞ্চয় পূরণের লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত আমানত ও বিনিয়োগ সেবা প্রদান করে। প্রবাসীদের জন্য চমৎকার কিছু অ্যাকাউন্ট রয়েছে যেমন মুদারাবা এক্সপ্যাট্রিয়েট হাউজিং ডিপোজিট স্কিম, মুদারাবা এনআরবি সেভিংস বন্ড, মুদারাবা ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট, মুদারাবা ফরেন কারেন্সি টার্ম ডিপোজিট রিসিট অ্যাকাউন্ট, মুদারাবা ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (ডিপোজিট) ও মুদারাবা ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (টার্ম)। ব্যাংকের পক্ষ থেকেও প্রবাসীদের জন্য নিয়মিত বিনিয়োগের সুবিধা ছাড়াও রয়েছে বিশেষায়িত বিনিয়োগ পদ্ধতি যেমন এনআরবি উদ্যোক্তা বিনিয়োগ স্কিম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিনিয়োগ স্কিম (স্বপ্নযাত্রা)। এসব সঞ্চয়ী হিসাব ও বিনিয়োগ পদ্ধতি বর্তমানে প্রবাসীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।

প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন?

প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি। প্রথমত, বড় পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠালে অতিরিক্ত প্রণোদনার ব্যবস্থা প্রবাসীদের আরো আকৃষ্ট করতে পারে বলে আমি মনে করি। দ্বিতীয়ত, প্রতিবার রেমিট্যান্স পাঠাতে রেমিটারকে সার্ভিস চার্জ গুনতে হয়, যা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোতে নিরুৎসাহের অন্যতম কারণ। তাই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও মানি ট্রান্সফার সেবাদাতাদের সঙ্গে চুক্তি করে ফি কমানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সহজ ও নিরাপদ ডিজিটাল সেবার প্রসার গুরুত্বপূর্ণ, যাতে প্রবাসীরা অনলাইন বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অর্থ পাঠাতে পারেন। পাশাপাশি হুন্ডির ক্ষতিকর প্রভাব এবং বৈধ চ্যানেলের সুবিধা সম্পর্কে প্রচারণা বাড়াতে টিভি, রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো উচিত। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ স্কিম, সঞ্চয় স্কিম বা হাউজিং বিনিয়োগের মতো সুবিধা চালু করাও কার্যকর হতে পারে। রেমিট্যান্স লেনদেন দ্রুত প্রসেস করার জন্য নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এসব উদ্যোগ প্রবাসীদের আস্থা বাড়াবে এবং বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরো সুসংহত করতে সাহায্য করবে। এছাড়া প্রত্যেক বিদেশগামীর জন্য ব্যাংক হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এছাড়া হিসাব খোলার পদ্ধতি আরো সহজ করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে রেমিট্যান্স মার্কেট অস্থিতিশীল হচ্ছে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করছি। এক্ষেত্রে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো একক বিনিময় হার অনুসরণ করা যেতে পারে। বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাঝে রেমিট্যান্স বৈধ উপায়ে পাঠানোর জন্য নিয়মিত প্রচারণা ও মনিটরিং করতে পারে।

ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের অর্থ উত্তোলনে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। রেমিট্যান্স পাঠানো ও উত্তোলন প্রক্রিয়া আরো সহজতর করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে মনে করেন?

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাধ্যমে আগত রেমিট্যান্সের উত্তোলন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। যেকোনো ব্যক্তি ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট আউটলেট থেকে খুব সহজে রেমিট্যান্সের অর্থ উত্তোলন করতে পারে। আমাদের প্রতিটি শাখায় রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য রেমিট্যান্স লাউঞ্জ/ ওয়ান স্টপ সার্ভিস রয়েছে। এছাড়া আমাদের ব্যাংকের নিজস্ব ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবা ‘সেলফিনের’ মাধ্যমেও রেমিট্যান্সের অর্থ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ২৪/৭ রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করে। বিদেশ থেকে কোনো ব্যক্তি রাত ৩টায় টাকা প্রেরণ করলে আমরা রাত ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে জমা করছি। গত বছর আমরা ৭৮ শতাংশ রেমিট্যান্স সরাসরি গ্রাহকের হিসেবে জমা করেছি। তাই আমরা বলব আমাদের রেমিট্যান্স উত্তোলন প্রক্রিয়া অনেক সহজ। তাছাড়া এ প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও সময়োপযোগী করতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার?

হুন্ডি আমাদের দেশের মতো রেমিট্যান্সনির্ভর দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। হুন্ডির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পায় আর অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। এ সমস্যার সমাধানে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, হুন্ডি বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণকে আরো আকর্ষণীয় করতে প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা বৃদ্ধি করতে হবে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ কমানো এবং প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো উচিত। হুন্ডির ক্ষতিকর দিক এবং বৈধ চ্যানেলের সুবিধা নিয়ে বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাস, কমিউনিটি সেন্টার এবং অনলাইন প্লাটফর্মে প্রচার চালানো যেতে পারে। বিদেশে কাজ করা প্রবাসীদের জন্য সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল মানি ট্রান্সফার সেবা চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তারা সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে পারবে। প্রবাসীদের বৈধভাবে অর্জিত অর্থ সঞ্চয়ের জন্য আকর্ষণীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগ স্কিম আমরা চালু করেছি। আমাদের উদ্যোগ হুন্ডির বিকল্প হিসেবে বৈধ চ্যানেলের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।