ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বাড়ে ডিপ ফ্রিজের বেচা-বিক্রি। কারণ কোরবানির মাংস বিতরণের পর একটা বড় অংশ সংরক্ষণ করার প্রয়োজন পড়ে। তাই ঈদ আসার আগেই হিড়িক পড়ে যায় ডিপ ফ্রিজ কেনার। প্রতিষ্ঠানগুলোও ঈদকে কেন্দ্র এ পণ্যের ক্ষেত্রে স্পেশাল ডিসকাউন্টসহ নানা অফার দেয়।
শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রায় মাংস সতেজ রাখার উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে এ ফ্রিজার। এ চাহিদাকে উদ্দেশ্য করেই নিজেদের সেরা অফারগুলো নিয়ে প্রস্তুতি নেয় দেশের প্রসিদ্ধ ফ্রিজার ব্র্যান্ডগুলো।
তবে সঠিক পণ্যটি কেনার জন্য একজন ক্রেতাকে কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি।
ফ্রিজারের ধরন
সাধারণত দুই ধরনের ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজ বাজারে পাওয়া যায়, চেস্ট ফ্রিজার ও আপরাইট ফ্রিজার।
চেস্ট ফ্রিজার
এ ডিপ ফ্রিজগুলো বেশ চওড়া হয় এবং ওপরের দিক থেকে খোলা হয়। সাধারণত এতে সামগ্রী রাখার জায়গা থাকে অনেক বেশি। বড়, ভারী বা অমসৃণ খাদ্যসামগ্রী রাখার জন্য এগুলো উপযুক্ত। চেস্ট ফ্রিজ অন্যান্য যেকোনো ফ্রিজের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে এ ফ্রিজারগুলোর জন্য সাধারণত বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া ফ্রিজারের ভেতরে একদম নিচের অংশে সামগ্রী রাখা বা বের করা নিয়ে কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হয়।
আপরাইট ফ্রিজার
হুবহু রেফ্রিজারেটরের মতো দেখতে এ ফ্রিজারগুলো খোলা হয় সামনের দিক থেকে। চেস্ট ফ্রিজারে খাবার রাখার জন্য যেখানে সাধারণত শুধু একটি ঝুড়ি থাকে, সেখানে আপরাইট ডিপ ফ্রিজে থাকে একাধিক তাক। এতে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখার পাশাপাশি খাবারগুলো খুব সহজেই ভেতরে রাখা বা বের করা যায়।
তাছাড়া লম্বা হওয়ায় ঘরের ভেতরে এগুলো তুলনামূলকভাবে কম জায়গা নেয়। তবে চেস্ট ফ্রিজারের থেকে এখানে কম খাবার রাখা যায় এবং এগুলোর কর্মদক্ষতা কম হয়ে থাকে।
ধারণক্ষমতা
ডিপ ফ্রিজগুলো সাধারণত ১০০ লিটার থেকে শুরু করে ৭০৮ লিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে ছোটগুলো হয়ে থাকে ১৪২-২৫৫ লিটারের। এগুলো ছোট পরিবার বা মাঝে মাঝে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। মাঝারিগুলো হয় ২৮৪-৫১০ লিটারের। আর ৫৩৮ লিটারের বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফ্রিজার ব্যবহৃত বৃহৎ পরিসরে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য।
এনার্জি এফিসিয়েন্সি
ফ্রিজারের এনার্জি এফিসিয়েন্সি বলতে এর সর্বোত্তম হিমায়িত অবস্থার জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণকে বোঝায়। একটি এনার্জি এফিসিয়েন্ট ফ্রিজার অল্প বিদ্যুৎ খরচ করেই দ্রুত ঠাণ্ডা করে ফেলতে পারে।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক
ফ্রিজারে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে বিভিন্ন ধরনের খাবারের গুণমান ঠিক রাখতে প্রয়োজনমতো তাপমাত্রা বাড়ানো-কমানো যায়। যেমন আইসক্রিমের টেক্সচার বজায় রাখার জন্য সামান্য উষ্ণ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি রোধ করার জন্য মাংসের জন্য দরকার হয় অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশের। বর্তমানে অধিকাংশ মডেলগুলোয় অ্যানালগ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর থাকে।
ম্যানুয়াল/অটো ডিফ্রস্ট
ফ্রিজারে জমে থাকা বরফগুলোর গলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ডিফ্রস্ট বলা হয়। অটো ডিফ্রস্টে দীর্ঘ সময় ধরে জমে ওঠা বরফগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গলে যেয়ে বরফ গলা পানি সিঙ্কহোল দিয়ে অপসারিত হয়। আর ম্যানুয়াল ডিফ্রস্টে ফ্রিজারটি প্রথমে বন্ধ করে খাবারের সঙ্গে জমা বরফগুলো গলতে দিতে হয়। বরফ গলে গেলে খাবারগুলো বের করে পুরো ফ্রিজারের মেঝে ও দেয়ালে জমে থাকা বরফগুলো অপসারণ করতে হয়।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট নির্দেশক
ঘন ঘন লোডশেডিং বা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ লাইনের কোনো ত্রুটির কারণে অনেক সময় ভোল্টেজ কম-বেশি হয়। এতে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য একটি সতর্কীকরণ লাইট ফ্রিজারের ভেতরের তাপমাত্রার ব্যাপারে সতর্ক করে তোলে। অধিকাংশ মডেলে একটি ভিজ্যুয়াল ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যটি যুক্ত করা থাকে।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ডিপ ফ্রিজ কেনার কথা ভাবলে তাই এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে পণ্য ক্রয় করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ঈদ ছাড়া অন্যান্য সময়েও পরিবারে প্রতিদিনের বাজার করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে কিংবা খাদ্যপণ্য মাসের পর মাস সংরক্ষণ করতে ডিপ ফ্রিজই উত্তম সমাধান। কেটে-বেছে সুন্দর করে ডিপ ফ্রিজে গুছিয়ে রাখলে ঘরের কাজ হয়ে যায় অনেক সহজ। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চাইলে ফ্রিজের যত্ন নেয়াও জরুরি। তা নাহলে ডিপ ফ্রিজ নষ্ট হয়ে উল্টো বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। ডিপ ফ্রিজের যত্নে তাই—
ডিপ ফ্রিজ দেয়াল থেকে অন্তত ১০ সেন্টিমিটার দূরে রাখুন।
অতিরিক্ত শব্দ হলে বরফ জমা বা ক্যাপাসিটর পরীক্ষা করুন।
ঠাণ্ডা না হলে পেছনের ধুলো পরিষ্কার করুন ও দরজার এয়ারটাইট অবস্থা দেখুন।
ফ্রিজের ভেতরে পানি জমলে তা পরিষ্কার করুন।
রান্না করা খাবার এয়ারটাইট বক্সে রাখুন—গন্ধ এড়াতে লেবু ব্যবহার করুন।
ফ্রিজারের দরজা ভালোভাবে বন্ধ করুন।





