বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের পথচলা কখনই খুব সহজ ছিল না। পরিবার, সমাজ ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ পেরিয়েই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হয় তাদের। তেমনই একজন উত্তরা দাস। সামুদ্রিক খাদ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম ইউ সি ফুডস লিমিটেড’-এর কর্ণধার।

উত্তরা দাস পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর জীবনের গতিপথ নিয়েছে নতুন মোড়। তার পারিবারিক শিকড় মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বহু আগে থেকেই। দাদু ও বাবা দুজনেই ছিলেন মাছ ব্যবসায়ী। সেই সূত্রে মাছের জগৎ সম্পর্কে তার আগ্রহ জন্মায় খুব ছোটবেলা থেকেই। তবে ব্যবসায় সরাসরি আসার সুযোগ হয় তার শ্বশুর সুবল চন্দ্র দাসের হাত ধরে। যিনি ১৯৮৫ সালে যশোরে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন এম ইউ সি ফুড লিমিটেড।

শ্বশুরের এ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে নারীদের জন্য কিছু করার সুযোগ হয় উত্তরা দাসের। তিনি চেয়েছেন শুধু লাভের হিসাব নয়, বরং নারীবান্ধব, সামাজিক দায়বদ্ধতাপূর্ণ একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে। উত্তরা দাসের মতে, ‘নারীদের এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

তার এ দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমে। বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন নারী কর্মী এখানে সরাসরি নিয়োজিত আছেন। তাদের বেশির ভাগই গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা। তাদের আবাসনের ব্যবস্থাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানে।

এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে প্রাইম ব্যাংক। উত্তরা দাস বলেন, ‘প্রাইম ব্যাংক ১৫ বছর ধরে আমাদের পাশে আছে। যখনই দ্রুত কোনো অর্থের প্রয়োজন হয়েছে, তারা কখনই মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। বরং আমাদের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হয়ে থেকেছে।’

২০২৩ সালে এম ইউ সি ফুডস বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের সরকারি অনুমোদন পায়। এর মাধ্যমে তারা কাঁচামালের উৎস নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, যা তাদের উৎপাদনে নতুন মাত্রা এনেছে। এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক অর্জন নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন ও রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও বলে মনে করেন উত্তরা দাস।