মেসার্স ইলমা ডেইরি ফার্ম নামে ২০১২ সালে গরুর খামারের যাত্রা শুরু করেন তাহমিনা আক্তার মৌ। সে সময় হাতে ছিল সীমিত পুঁজি, অভিজ্ঞতা একেবারেই সামান্য। তিনি জানান, তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা এসেছে একজন নারী থেকেই। তিনি তার শাশুড়ি। তাহমিনার ভাষায়, স্বামী প্রবাসে ছিলেন। তাই চেয়েছিলাম তাকে কিছুটা সাহায্য করতে। সেই ভাবনা থেকেই খামার গড়ার সিদ্ধান্ত নিই।

খুব ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ইলমা ডেইরি ফার্মে প্রায় ২৫০টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারে প্রায় ২০ জন কর্মী সরাসরি কাজ করছেন। শুধু পশুপালন নয়, গোখাদ্য উৎপাদন, গরুর স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুধ সংগ্রহ-বিতরণেও রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা।

তাহমিনা বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, আমার খামার শুধু আমার নয়, এটা যেন এলাকার মানুষের জন্যও একটি সম্ভাবনার জায়গা হয়। যারা কাজ পাচ্ছে না, তাদের যেন কাজের সুযোগ করে দিতে পারি।’

২০২২ সালে তাহমিনা আক্তার প্রাইম ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হন। ব্যাংকটির আর্থিক সহযোগিতা ও পরামর্শ তাকে শুধু মূলধনের জোগান দেয়নি, বরং আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে বড় পরিসরে কাজ করার। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের একটা সীমিত সক্ষমতা ছিল। কিন্তু প্রাইম ব্যাংক আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের সহায়তায় বড় করে কিছু ভাবার সাহস পেয়েছি। এখন ব্যবসাকে আরো সামনে এগিয়ে নিতে চাই।’

তাহমিনার পরিকল্পনায় রয়েছে খামারটির আরো সম্প্রসারণ। ঘাস ও পশুখাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খরচ কমিয়ে আনার চিন্তা করছেন তিনি। এছাড়া দুধ প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের দিকেও নজর দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই, আমার খামার একদিন একটা ব্র্যান্ড হয়ে উঠুক—যেখানে শুধু দুধ নয়, মানুষের আস্থা এবং সম্মানও থাকবে।’