রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ২০০৮ সালে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে অধিকাংশ সময়জুড়ে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। সর্বদা গুণমান বজায় রাখার প্রতি কঠোর প্রতিশ্রুতি এবং মানবসম্পদের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের ওপর লক্ষ রেখে রেডিয়েন্ট বাংলাদেশের ফার্মা শিল্পের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রেডিয়েন্ট ফার্মার উৎপাদন ফ্যাসিলিটি গাজীপুরের টঙ্গীতে বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত, যা ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে। ২০০৮ সালে এ কারখানায় ওষুধ উৎপাদন শুরু হয়। ২০০৯ সালে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড সুইজারল্যান্ডের বাসেলের F. Hoffmann-La Roche Ltd. কোম্পানির সঙ্গে লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট চুক্তির অধীনে তাদের আটটি ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন শুরু করে।
পরবর্তী সময়ে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য (ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সাসপেনশনের জন্য পাউডার) উৎপাদন লাইনও স্থাপন করে উৎপাদন শুরু করেছে। রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদন সাইটে চুক্তির অধীনে থাকা সেফালোস্পোরিন ওষুধ এবং নন-বিটা ল্যাকটাম প্যারেন্টেরাল তৈরি করা হয়। কাঁচামাল, প্যাকেজিং উপকরণ, মধ্যবর্তী উপাদান এবং সমাপ্ত পণ্যের সব পরীক্ষা প্লান্টের নিজস্ব মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগারে করা হয়।
রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় বিশুদ্ধ পানির প্লান্টসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ইউটিলিটি ও সার্ভিসিং বিভাগ রয়েছে। ফ্যাসিলিটিটি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, স্বয়ংক্রিয় অগ্নি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষা সুবিধা যেমন এইচভিএসি সিস্টেম, এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) দিয়ে সজ্জিত। নিজস্ব কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ডিপার্টমেন্ট নিয়মিত রেডিয়েন্ট প্লান্টের কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট টুল হিসেবে কাজ করে।
রেডিয়েন্টের ফ্যাসিলিটিতে ডিসপেন্সিং বুথ, গ্রানুলেশন স্যুট, ট্যাবলেট কম্প্রেশন স্যুট, কোটিং, এনক্যাপসুলেশন, পাউডার ফিলিং এবং ক্যাপ সিলিং, ওয়াশিং, পরিষ্কার করার সরঞ্জামের স্টোরেজ, মধ্যবর্তী স্টোরেজ, ব্লিস্টারিং, প্রাথমিক প্যাকেজিং ও সেকেন্ডারি প্যাকেজিং অপারেশন ইত্যাদি বিভাগ রয়েছে। কাঁচামাল এবং প্রাথমিক প্যাকেটজাত পণ্যের গুদাম, তৈরি পণ্যের গুদাম এবং ইউটিলিটি সেবার সেকশনও এ ফ্যাসিলিটির সঙ্গে সংযুক্ত।
রেডিয়েন্টের নিজস্ব সম্পূর্ণ মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি রয়েছে। ল্যাবরেটরিটি উৎপাদন ফ্যাসিলিটি থেকে পৃথক এবং সুসজ্জিত ফিজিক্যাল ল্যাব, রাসায়নিক ল্যাব এবং মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ল্যাব দ্বারা সমন্বিত। নমুনা বিশ্লেষণ এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের কাজে একদল দক্ষ গবেষক নিযুক্ত রয়েছেন।
রেডিয়েন্টের নিজস্ব কাঁচামাল, প্যাকেজিং উপকরণের পাশাপাশি তৈরি পণ্যের গুদাম রয়েছে। কাঁচামাল গুদামের ভেতরে সাইকোট্রপিক ওষুধ এবং বর্জ্যসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য আলাদা কক্ষ রয়েছে। এখানে স্যাম্পলিং বুথ এবং ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাবিশিষ্ট ওয়াক-ইন কোল্ড স্টোরেজও রয়েছে। গুদামটিতে লোডিং ও আনলোডিং জোন, কোয়ারেন্টাইন জোন, অফিস এবং বর্জ্য ও বাতিল মাল সংরক্ষণের আলাদা বিভাগ রয়েছে।
রেডিয়েন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্টটি উৎপাদন, গুণমান নিশ্চিতকরণ, গুণমান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের সম্প্রসারণ, উন্নয়ন ও প্রকৌশল সেবাসংক্রান্ত যোগ্য কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হয়, যাদের বহুজাতিক ও জাতীয় ওষুধ শিল্পে বহু বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের সহযোগিতা করতে সঙ্গে রয়েছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের একটি টিম।
রেডিয়েন্টের নীতি হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জিএমপি নির্দেশিকা এবং ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা মেনে উচ্চ মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করা। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও কাজের আকার বৃদ্ধি করে আসছে রেডিয়েন্ট ফার্মা। নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ১৪০ কোটি টাকায় ওষুধ খাতের কোম্পানি জুলফার বাংলাদেশ লিমিটেডকে কিনে নেয় রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস।
২০০৯ সালে আরএকে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইভেট লিমিটেডকে কিনে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি জুলফার গালফ ফার্মাসিউটিক্যালস। এ দেশে জুলফার বাংলাদেশ লিমিটেড নামে যাত্রা করে তারা। রেডিয়েন্ট জুলফারকে কিনতে বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে অর্থায়ন সহযোগিতা গ্রহণ করে। ব্যাংকটি রেডিয়েন্টকে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে। বাজারে জুলফার বাংলাদেশের অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালস, অ্যান্টি-আলসারেন্টস, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ, ওরাল অ্যান্টিডায়াবেটিকস, অ্যান্টিভাইরাল, অনকোলজি, ডার্মাটোলজিক্যাল ও পুষ্টিকর পরিপূরকসহ ১২০টিরও বেশি পণ্য ছিল। গাজীপুরে ছিল জুলফারের কারখানা। ক্রয় করার ফলে এসব পণ্য এখন রেডিয়েন্টের অধীনে নতুন প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত হচ্ছে। কারখানাটি কিনে নেয়ার ফলে রেডিয়েন্টের নিজস্ব ফ্যাসিলিটির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া ২০২৩ সালে ক্যান্সার, চোখ ও মস্তিষ্কের জটিল রোগের চিকিৎসায় সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে নিজেদের পুরনো ক্লায়েন্ট এফ হফম্যান-লা রোশের সঙ্গে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মাধ্যমে ক্যান্সারের ওষুধ বিপণনে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার জন্য রেডিয়েন্ট ও রোশ ‘যৌথ বিপণন’-এর সূচনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ক্যান্সারের চিকিৎসায় বাংলাদেশের রোগীদের কাছে রোশের উন্নতমানের ওষুধ পৌঁছে দেয়ার জন্য রেডিয়েন্ট কাজ করছে। চুক্তিটির ফলে বাংলাদেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা বৈশ্বিক মানে উন্নীত হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
দেশের বাজারে বর্তমানে ওষুধ বিক্রির পরিমাণ বিবেচনায় শীর্ষ ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রেডিয়েন্ট। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দুই বাজারের জন্যই পণ্য উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬০৯ কোটি টাকা, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮৬১ কোটি টাকায়। নতুন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের বাজারে আরো বড় অংশীদারত্ব অর্জনের বিষয়ে আশাবাদী রেডিয়েন্ট কর্তৃপক্ষ।





