পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল পিএলসি (পিপিপিএলসি) ২০০২ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালের আগস্টে পথচলা শুরু করে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস। পপুলার গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এটি। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছে এটি। প্রতিষ্ঠার পর পরই খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী নিজেদের সুপরিচিতি অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানটি জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন, বিপণন, প্রচার ও সরবরাহের কাজ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির আটটি আলাদা ও নিবেদিত উৎপাদন সুবিধাসহ একটি কারখানা রয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন সুবিধার পাশাপাশি নিজেদের পণ্যের পোর্টফোলিও রয়েছে কোম্পানিটির। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ১৮টি শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির জন্য ওষুধ তৈরি করে থাকে।

দেশীয় বাজার হিস্যায় কোম্পানিটি নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। আয়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের শীর্ষ ১০টি কোম্পানির একটি। এছাড়া বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে স্থান পেয়েছে।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে পপুলার ফার্মা উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এর পেছনে রয়েছে প্রধানত এর পণ্যবৈচিত্র্য এবং পণ্য উৎপাদনে অনেক উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী নিয়োজিত আছে। তাদের মাধ্যমে মেডিকো-বিপণন ও প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য অনেক দেশে পপুলার ফার্মা ওষুধ রফতানি করছে। যার কারণে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সরাসরি ও বিদেশী এজেন্টের মাধ্যমে ৩৩টিরও বেশি দেশে পণ্য রফতানি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য দেশের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা, এর মাধ্যমে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা, নিজেদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করা, সন্তোষজনক কাজের পরিবেশ ও ক্যারিয়ার বিকাশের জন্য শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা।

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস গুণগত মান রক্ষায় প্রধান নীতি হলো ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া, পণ্য ও পরিষেবাগুলোকে ক্রমাগত উন্নত করা এবং ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও রোগীদের কাছে সর্বোচ্চ মূল্যের পণ্য সরবরাহ করা। এসবের মাধ্যমে মানবজাতির নিরাময় ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।

প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করে যে তারা পণ্য তৈরি ও বিতরণ করে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান, বিশুদ্ধতা, কার্যকারিতা রয়েছে।

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে এবং তারা ডেডিকেটেড সেফালোস্পোরিন সুবিধায় উৎপাদন শুরু করে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পিপিআই ইনজেকশন তৈরি করে পুপলার ফার্মা। প্রতিষ্ঠানটি সে বছরই ওষুধ রফতানি শুরু করে।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হিউম্যান ইনসুলিন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব পিপি ব্যাগে IV-ফ্লুইড তৈরি করা প্রথম কোম্পানি এটি। বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস ফ্লুইড উৎপাদন শুরু করে তারা।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে পশু স্বাস্থ্যে আত্মপ্রকাশ করে। সে বছর মান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য ISO 9001:2008 সনদ অর্জন করেছে।

২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্ট্রাভেনাস ফ্যাট ইমালশন তৈরি করে।

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্ট্রেপ্টোকিনেস ইনজেকশন তৈরি করে। ২০১১ সালে অত্যাধুনিক ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো লাইওফিলাইজড ফার্টিলিটি হরমোন তৈরি করে।

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির জন্য তৈরি মাস্টারপ্ল্যানটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল কনসালট্যান্ট (এশিয়া প্যাসিফিক কনসালট্যান্ট) মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্লান্টে যেসব সরঞ্জাম আছে তা ইউএস এফডিএ, ইউকে এমএইচআরএ এবং টিজিএ নির্দেশিকাগুলো অনুসরণ করে স্থাপন করা হয়েছে।

বেশির ভাগ সরঞ্জামের সোর্সিং ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে তৈরি করা হয়েছে। যেগুলোর যথাযথ বৈধতা ও ধারাবাহিক কর্মক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতার গ্যারান্টিও দেয়া হয়েছে।