বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নীরবে বিপ্লব ঘটানো একটি গ্রুপ জেএমআই। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিল্প গোষ্ঠী আজ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম এবং ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সাফল্য, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উচ্চমানের পণ্য উৎপাদনে নিবেদিত মনোভাব—সবকিছুই জেএমআইকে বাংলাদেশের গর্বিত নামগুলোর তালিকায় স্থান করে দিয়েছে। স্বপ্নের শুরুটা হয়েছিল জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেড দিয়ে, ১৯৯৯ সালে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠান শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের একমাত্র অটোডিজেবল (এডি) সিরিঞ্জ উৎপাদক হিসেবে পরিচিত জেএমআই, স্বাস্থ্যসেবা খাতে যা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের এ যাত্রা শুধু পণ্য উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হয়েছে। এ এডি সিরিঞ্জ দিয়ে একদিন থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের নানা ধরনের টিকা দেয়া হয়। সে হিসেবে ২০০৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জন্ম নেয়া দেশের সব শিশুকে যত ধরনের টিকা দেয়া হয় তার পুরোটাই হয়েছে জেএমআইয়ের সিরিঞ্জ দিয়ে। কারণ একবার ব্যবহারের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া এই এডি সিরিঞ্জ তৈরির সক্ষমতা দেশে একমাত্র জেএমআই ছাড়া অন্য কারো নেই। এ কারণেই সরকারি ইপিআই (এক্সপান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনাইজেশন) কর্মসূচি সফল করার ক্ষেত্রে জেএমআইয়ের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

করোনা মহামারীর সময় যখন সারা বিশ্ব সিরিঞ্জ সংকটে ভুগছিল, জাপানের মতো উন্নত দেশ যখন হিমশিম খাচ্ছিল তখনো করোনা মোকাবেলায় বিশ্বদরবারে জেএমআই বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এমন কঠিন সময়ে দেশের মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠে জেএমআই। উৎপাদিত সিরিঞ্জের মান এবং সঠিক সময়ে ডেলিভারি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার জেএমআইকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দিয়েছে অনন্য অবস্থান।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেড, যুক্তরাজ্যের স্টার সিরিঞ্জ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কেএ১ অটোডিজেবল সিরিঞ্জ প্রযুক্তি নিয়ে আসে। এ প্রযুক্তি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে উৎপাদিত এ সিরিঞ্জগুলো সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, স্পেন, পর্তুগালসহ একাধিক দেশে রফতানি হচ্ছে। বর্তমানে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে জেএমআই প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ রয়েছে জাপানের নিপ্রো করপোরেশনেরও। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কারখানাটি প্রতিষ্ঠার সময়ে যেখানে মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো সেভাবে পৌঁছেনি, সেখানে এখন স্থানীয় অর্থনীতির চাকা গতিশীল। এর নেপথ্যে রয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জেস কারখানার অপরিসীম অবদান। এ কারখানায় পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন নারীরা। স্বাবলম্বী হয়ে অবদান রাখছেন পরিবার তথা দেশের অর্থনীতিতে।