এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (এসকে+এফ নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা। এটি ট্রান্সকম গ্রুপের একটি অংশ। বর্তমানে সিমিন রহমান কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি স্মিথক্লাইন অ্যান্ড ফ্রেঞ্চ (এসকেএফ) ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরে ট্রান্সকম গ্রুপ ১৯৯০ সালে এ প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে।

এটি ছিল বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো বহুজাতিক কোম্পানি কর্তৃক অধিগ্রহণ করার প্রথম ঘটনা। প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী চেয়ারম্যান ছিলেন লতিফুর রহমান। প্রায় ৩৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এসকেএফ তার বিশ্বব্যাপী উপস্থিতি বাড়াতে থাকলে ২০১৭ সালে এটিকে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামে নতুন নামকরণ করা হয়। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে অনেক দেশে এসকেএফের বৈশ্বিক উপস্থিতি রয়েছে।

২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের বাজারের নেতৃস্থানীয় বায়োটেক কোম্পানির জন্য তাদের বিশেষভাবে তৈরি স্থাপনায় বায়োলজিক্যাল পণ্য তৈরি করছে এসকেএফ। এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি। ফলে গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসের (জিএমপি) মানগুলোর সর্বোচ্চ স্তর বজায় রেখে বিশ্বমানের বায়োটেক পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সরবরাহের চাহিদা পূরণ করতে ভবিষ্যতে উৎপাদন সক্ষমতা আরো সম্প্রসারণ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এখন পর্যন্ত অনেক শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে এসকেএফ। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (ইউএস–এফডিএ), যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জিএমপি, ব্রাজিলের আনভিসা, অস্ট্রেলিয়ার টিজিএ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাহপ্রা। বিশ্বের কঠোর এসব ফার্মাসিউটিক্যাল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে এসকেএফ ওষুধের গুণমান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে এসকেএফ একটি বৈশ্বিক ফার্মা কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।

তাদের চারটি ম্যানুফ্যাকচারিং সাইট আছে। সেগুলো হলো টঙ্গী, রূপগঞ্জ, মিরপুর ও গাজীপুর সাইট। ১৯৯০ সালে এসকায়েফ মিরপুর প্লান্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। ১৯৯০ সালে প্লান্টে প্যালেট প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়, যা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবহার শুরু করে। ২০০৪ সালে টঙ্গীতে উৎপাদন কাজ শুরু করে। ২০০৪ সালে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু করে। ২০১৫ সালে ইউনিসেফের অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালে রূপগঞ্জ প্লান্ট চালু হয়।

এসকেএফ থেরাপিউটিক ওষুধ, বাল্ক পেলেট এবং পশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করে। বছরের পর বছর এটি স্বাস্থ্যসেবায় পেশাদার এবং রোগীদের চোখে সবচেয়ে বিশ্বস্ত, মানসম্মত ও বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বে আস্থা ও দক্ষতার মডেল হিসেবে স্বীকৃত। এটি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা বোঝে এবং সর্বদা বিশ্বব্যাপী ভোক্তাকে পরিষেবা দেয়ার জন্য নতুন ও উদ্ভাবনী পন্থা অনুসন্ধান করে। সারা দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। দেশের বাইরের ছয়টি মহাদেশের প্রায় ৭০টি দেশে এসকেএফের ওষুধ রফতানি হয়। ইউনিসেফ, ইউএনআরডব্লিউএ ও ইউএনওপিএসের নিয়মিত ওষুধ সরবরাহকারী হিসেবেও তালিকাভুক্ত।

২০২২ সালে বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায় বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প খাতের নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানটির ইনজেকটেবল ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি।

এ অনুমোদনের ফলে এসকেএফ তার অত্যাধুনিক কারখানায় উৎপাদিত ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইনজেকটেবল ওষুধ রফতানি শুরুর আগে করোনা মহামারীকালে এসকেএফ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রফতানির সাফল্যধারা বজায় রাখে।

পৃথিবী যখন অধিক কার্যকর একটি করোনার ওষুধের জন্য অপেক্ষা করছিল, তখন বাংলাদেশ তথা বিশ্বের জন্য এসকেএফ নিয়ে এসেছিল প্রথম জেনেরিক রেমডেসিভির রেমিভির, প্রথম জেনেরিক মলনুপিরাভির মনুভির, প্রথম জেনেরিক নির্মাট্রেলভির ও রিটোনাভির ট্যাবলেটের সংমিশ্রণে প্যাক্সোভির। পৃথিবীর ৪৯টি দেশে করোনার এ ওষুধগুলো রফতানি করেছে এসকেএফ।