যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে তার প্রকৃত সক্ষমতার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রমবাজারে কর্মীর চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি। মূল্যস্ফীতির তুলনায় এক বছর ধরে মজুরি দ্রুত বাড়ছে, যা স্থানীয় লেনদেনকে আরো শক্তিশালী করবে। ব্যবসায়িক বিনিয়োগের দৃষ্টিভঙ্গিও এমন পরিবেশে ইতিবাচক।
জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ট্রাম্প এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পাবেন। তবে শপথ নেয়ার পর তিনি দুটি ভিন্ন পথের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে পারেন। যদি তিনি দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং ব্যবসার কর কমানোর দিকে মনোযোগ দেন তবে তা বাজেট ঘাটতি না বাড়িয়ে (যেমন: ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের খরচ কমিয়ে), তাকে আধুনিক যুগের অন্যতম সফল সমৃদ্ধিবান্ধব প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্মরণীয় করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে যদি তিনি করপোরেট কর কমানোর জন্য বাজেট ঘাটতি বাড়ান, আমেরিকার মিত্রদের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন, কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেন এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়ান সেক্ষেত্রে তার অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এ ধরনের নীতিগুলো গৃহ ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বাড়িয়ে দেবে। বাণিজ্য যুদ্ধ এবং উচ্চ সুদ যৌথ উদ্যোগের ব্যবসায়িক বিনিয়োগে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার কিছু বড় খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং মজুরি ও মূল্যের মধ্যে এক অস্থিতিশীল চক্র সৃষ্টি করতে পারে।
তবে ট্রাম্প যদি সমৃদ্ধিবান্ধব নীতির দিকে মনোনিবেশ করেন, তবে তার সমালোচকদের মুখ বন্ধও হয়ে যেতে পারে। ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ ধরনের নীতি গ্রহণ করা সম্ভব। শেয়ারবাজার ও ঋণের পরিস্থিতি ট্রাম্পের বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতিগুলোর সীমা নির্ধারণ করতে পারে। রিপাবলিকানরা মূল্যস্ফীতি কমানোর নীতিমালা বাতিল করতে আগ্রহী, যা বাজেট ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়েই ট্রাম্পকে প্রয়োজনীয় রাজস্ব সরবরাহ করতে পারে। এছাড়া ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের প্রতি ট্রাম্প এরই মধ্যে নিজের মনোভাব আগের চেয়ে নমনীয় করেছেন।
ট্রাম্পের শাসনের প্রথম দিকে তাই দুটি বিষয়ের প্রতি সবার নজর থাকবে: তিনি কোন নীতিগুলো বেছে নেন এবং বিভিন্ন খাতের বাজারগুলো তার অর্থনৈতিক নীতিকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে অনূদিত
মাইকেল আর স্ট্রেইন: ইকোনমিক পলিসি স্টাডিজের পরিচালক





