বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে ব্যবসার একটি অবিচ্ছিন্ন অংশ হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি। এর ছোঁয়া রয়েছে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং খাতেও। অর্থনীতি ক্রমেই শক্তিশালী হওয়ায় আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশেও এ রূপান্তরের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। সরকারের ২০২১ রূপকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ডিজিটাল বাংলাদেশ। এ রূপকল্পের আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়টি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বেশকিছু প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। উন্নয়নের গতি বাড়াতে এ রূপান্তরের ভূমিকা কতটুকু? অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন প্রবৃদ্ধি, সমকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবাপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিতে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রভাব রয়েছে কি?— এমন সব প্রশ্নের চেয়েও বড় ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তির এ উত্কর্ষের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি। ক্রমবর্ধমান হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় রয়েছে দেশের আর্থিক খাত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। আইবিএম এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) র্যান্ডি ওয়াকারের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকালে এসব বিষয় সামনে রেখে সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল আইবিএম ও বণিক বার্তা যৌথভাবে আয়োজন করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: ট্রান্সফরমেশন ইন বিজনেস, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা
মাহবুবুর রহমান
প্রেসিডেন্ট
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ
ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়া সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা খাতে কতটা পিছিয়ে রয়েছে, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা ক্রমান্বয়ে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছি। বাংলাদেশ সরকারও তথ্যপ্রযুক্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। ডিজিটাল সেবা নেয়ার আগে এর ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানতে হবে। ডিজিটাল রূপান্তরের আগেই যারা এর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে এবং যারা সেবা দেবে, তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস (আইবিএম) সহায়তা দিতে পারে।
করণ বাজওয়া
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আইবিএম ইন্ডিয়া
প্রাইভেট লিমিটেড
পেছন ফিরে তাকালে দেখা যাবে, প্রযুক্তি খাত নিয়মিতই নতুন নতুন পণ্য আনছে এবং প্রতিবারই আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এ পণ্য আমাদের সমস্যা সমাধান করতে পারবে। তবে আমি বলব, তথ্যের নিরাপত্তায় দুর্বলতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অন্য দুটি। প্রথমত. দক্ষ লোকবল আছে কিনা। দ্বিতীয়ত. আমরা কত দ্রুত শিখছি, বিশেষ করে অন্যদের ভুল থেকে।
তথ্যের নিরাপত্তার জন্য ভারতে বড় ব্যাংকগুলো সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রথমে পুরো পরিবেশটি বোঝার চেষ্টা করছে, তার পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আনা এবং সবশেষে এর প্রয়োগ ও ব্যবহার। এ তিন ধাপের একটিতেও যদি ভুল হয়, তাহলে নিরাপত্তা প্রচেষ্টা বৃথা যেতে পারে।
আইবিএমের অভিজ্ঞতা বলে, যেসব দেশে স্থানীয় মেধার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে, সেসব দেশে আইবিএমের ব্যবসায়িক সাফল্যও বেশি। একটি দেশে যাওয়া এবং সেখানে শুধুই বিক্রি বাড়িয়ে যাওয়া আইবিএমের কর্মপ্রক্রিয়ার অংশ নয়।
এম এইচ সামাদ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)
ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা প্রযুক্তির বিকাশ আমাদের জীবনযাপনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে কয়েক মুহূর্তেই আর্থিক লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর কিছু বিপজ্জনক দিকও রয়েছে। আমরা প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা নিতে চাই। কিন্তু এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন নই। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক হ্যাকিংয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ত্রুটিগুলোর বিষয়ে আগে সতর্ক হতে হবে।
মমিনুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেড
আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ছোট হলেও বর্তমানে এর ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি। অবকাঠামো সেবার পাশাপাশি আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তাও দরকার। আমাদের মতো সব প্রতিষ্ঠানেরই সেটি দরকার এবং এর ব্যয় কোনোভাবেই খুব বেশি হওয়া চলবে না। আশা করব, বাজার বাস্তবতার নিরিখে আইবিএমের মতো সেবাদাতারা বিশেষায়িত ও সুনির্দিষ্ট টেকনোলজি ও সিকিউরিটি সলিউশন নিয়ে আসবে।
র্যান্ডি ওয়াকার
চেয়ারম্যান ও
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আইবিএম, এশিয়া-প্যাসিফিক
বর্তমান প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নামগুলোর সিংহভাগই এক-দুই দশক আগে এসেছে, যেখানে আইবিএম ১০৬ বছরের পুরনো একটি কোম্পানি। এ কারণে আমি বলব, রূপান্তর শব্দটির সঙ্গে আমরা খুব ভালোভাবে পরিচিত। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে আইবিএম।
রূপান্তরের একটি অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসার স্থানীয়করণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি দেশে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও অন্যান্য বাস্তবতা দেখছি আমরা। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশ আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে আমরা নিজেদের উপস্থিতি ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয়, বিশেষ করে গত দুই বছরে আমাদের ব্যবসায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মতো পণ্যগুলোর বাইরে আমরা এখন ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সেবায় গুরুত্ব বাড়াচ্ছি। এগুলো কর্মক্ষেত্রে মানুষকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং তাদের উত্কর্ষ সাধনে সহায়তা করছে।
আমি বিশ্বের নানা প্রান্তের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির মানুষের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি। আইটি একসময় ছিল চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসারদের টপিক। এখন সেটা সিইওদের আলোচনার বিষয়।
আলোচনাটিকে আমি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভাগ করতে পারি। প্রথমেই আসবে নিরাপত্তার কথা। সমস্যার শুরু তখনই, যখন অপরাধীরা সিস্টেমের দুর্বলতাটি ধরে ফেলতে পারে। এজন্য আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও সমন্বিত নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কগনিটিভ ক্যাপাবিলিটি এর অন্যতম উপাদান। পুরো প্রস্তুতিটিই প্রো-অ্যাক্টিভ বেসিসে নেয়া হচ্ছে। উপরন্তু বিশ্বের নানা প্রান্তে যেসব সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তার প্রতিটি থেকেই আমরা শিখছি। এ শিক্ষা সারা জীবন চলবে।
দ্বিতীয়ত. দ্রুত ডিজিটালাইজিং বিশ্বে আমরা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করব এবং খাপ খাইয়ে নেব। এক্ষেত্রে বলতে হবে, নিরাপত্তার জন্য বাইরে থেকে দেয়ালের ওপর দেয়াল গড়লেই চলবে না। ভেতরটা অবশ্যই শক্তিশালী ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
তৃতীয়ত. ব্যবসার কোন কাজটা নিজে করব আর কোনটা অন্যকে দিয়ে করাব। প্রথাগত পণ্য ও সেবার বাইরে বিগ ডাটা, ডাটা লেক, ক্লাউড এগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইবিএমের বিশেষ সেবা।
শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম
ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
চেয়ারম্যান, সাধারণ বীমা করপোরেশন
রাষ্ট্রায়ত্ত পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনের দায়িত্ব নিয়ে আমি প্রথম যে কাজ হাতে নিয়েছি, তা হলো ডিজিটালাইজেশন। সেখানে আমার দ্বিতীয় মিটিংয়েই এর টেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে আমি দেশের প্রথম ডিজিটাল লাইব্রেরি গড়ে তুলেছি। সরকার ডিজিটালাইজেশনের যে ভিশন হাতে নিয়েছে, তাতে সহজেই বলা যায়, আইটিভিত্তিক কার্যক্রম ও ব্যবসা অনেক বাড়বে।
এ বছরের শুরুতে বীমা খাতে যুক্ত হওয়ার পর আমি এ খাতে অবিশ্বাসের বিষয়টি দূর করার চেষ্টা করছি। এজন্য জমে থাকা বীমা দাবিগুলো দ্রুত পরিশোধ করে দেয়া হচ্ছে, যাতে মানুষ বিশ্বাস করে, একটি বীমা করা হলে আপনি ক্ষতিপূরণ পাবেন। তথ্যপ্রযুক্তিতেও একই বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির মানুষকে বিশ্বাস করাতে হবে, এ কোম্পানির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার ও সেবা নিলে ডিজিটাল প্লাটফর্মে আমরা নিরাপদ থাকব। কারণ বিগ ডাটা, ক্লাউড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোয় নতুন। আইবিএমের মতো কোম্পানিগুলোর উচিত হবে, এসব বিষয়ে আলোচনা ও শিক্ষণ-প্রশিক্ষণে প্রচেষ্টা জোরদার করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই এমন উদ্যোগের পাশে থাকবে। বর্তমানে আমরা বিগ ডাটা নিয়ে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করছি।
সৈয়দ মো. কামাল
কান্ট্রি ম্যানেজার
মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ
বাংলাদেশে আর্থিক সেবার বাইরে থাকা মানুষজনকে ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনার একটি ভালো উপায় হতে পারে ডিজিটাল পরিচয়পত্রের বিপরীতে আর্থিক লেনদেন। এক্ষেত্রে নাইজেরিয়ার অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারি। এ পদ্ধতিতে ৯ কোটি মানুষকে আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ আছে।
দেশে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ইউনিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। সক্রিয় এমএফএস অ্যাকাউন্টও আছে দেড় কোটির বেশি। ডিজিটাল লেনদেনের প্রবৃদ্ধি নিয়ে হতাশার জায়গাটি হলো, বর্তমানে দেশে ডিজিটাল প্লাটফর্মে লেনদেন গড়ে ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে, যেটি আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়েও কম। লেনদেন ডিজিটালাইজেশনে আমাদের আরো করণীয় আছে।
সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যের নিরাপত্তা। হ্যাকিং সবার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্ঘটনাটির বাইরেও গেল বছর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডিজিটাল নিরাপত্তায় কিছু সমস্যা আমরা দেখেছি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাপোর্ট দিতে আইবিএম নিজেদের কীভাবে প্রস্তুত করছে, সেটি জানতে আমরা আগ্রহী।
গোলাম হাফিজ আহমেদ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড
ডিজিটালকরণ ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে। কিন্তু নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর্থিক, বাণিজ্যিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুব বেশি বিনিয়োগ করছে না। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থারও নির্দেশনা রয়েছে। ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের কোনো বিকল্প নেই। তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মো. শামস-উল-ইসলাম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড
ষাটের দশকে ঢাকায় হাবিব ব্যাংকে একটি আইবিএম কম্পিউটার ছিল, যেটি দেখতে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকা আসতেন। সময়ের বিবর্তনে সে কম্পিউটার এখন জাদুঘরে চলে গেছে। অগ্রণী ব্যাংক একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, যাদের প্রতিটি শাখাই কোর ব্যাংকিং সলিউশন্সের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অব্যাহত রাখার মতো একটি বিষয়। অগ্রণী ব্যাংক সে চেষ্টাই করে যাচ্ছে। আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন হবে।
এ.কে.এম আফতাব
উল ইসলাম
পর্ষদ সদস্য
বাংলাদেশ ব্যাংক
২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার ভিশন রয়েছে সরকারের। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নটি এ ভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ভিশন অর্জনে ২০০৯ সালে সরকার একটি তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা করে। আমরা জানি, ১৯৬৪ সালে যাত্রার পর ১৯৯২ সালে আইবিএম ও এনসিআর বাংলাদেশের বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ যুক্ত হওয়া এবং এ নিয়ে কাজ এগোতে থাকায় তারা আবারো এ বাজারে ফিরে এসেছে। আশা করছি, বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় তারা যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কামাল কাদীর
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
বিকাশ
দেশের সবচেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজনও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) সুবিধা পাচ্ছেন। নিকটবর্তী ব্যাংকের একটি শাখা পর্যন্ত যেতে-আসতে যেখানে ১০০ টাকা খরচ হয়ে যায়, বিকাশের সাহায্যে সেখানে তার দশ ভাগের এক ভাগ খরচেও মানুষ ছোট ছোট লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন। এখন প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ তাদের দৈনন্দিন লেনদেনে এমএফএস ব্যবহার করছেন। উদ্যোগ, সরকারের নীতি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ইত্যাদি কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।
ষাটের দশকে চাঁদে যাওয়ার জন্য নাসা যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করত, আমি মনে করি, হাজার টাকার মোবাইল ফোন এখন তার চেয়েও শক্তিশালী।
আমি বলব, প্রযুক্তি এখন গণতন্ত্রায়ণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। মোবাইল ফোন, প্লাস্টিক কার্ড এগুলো কোথায় কাদের প্রচেষ্টায় যাত্রা করেছিল, তা হয়তো আমরা জানি না। কিন্তু প্রতিটিরই সুবিধা ভোগ করছে বিশ্বের সব মানুষ।
মো. আতাউর রহমান প্রধান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
রূপালী ব্যাংক লিমিটেড
বাংলাদেশের অন্যতম একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রূপালী ব্যাংক। দেশজুড়ে এর ৬ হাজার ৫৬২টি শাখা রয়েছে। আমরা সম্প্রতি প্রতিটি শাখায় সম্পূর্ণ অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছি। বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের ১ কোটি ৪০ লাখ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সামগ্রিকভাবে সবকিছু ঠিকই চলছে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় হলো, আমাদের স্থাপিত অটোমেশন সিস্টেম কতটুকু নিরাপদ। কীভাবে আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে, আমরা নিরাপদ। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের আগে এর নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
শাহজামান মজুমদার
বীর প্রতীক
উপদেষ্টা
থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড
আমাদের অ্যাডভান্টেজ অব ব্যাকওয়ার্ডনেস বলে একটি বিষয় ছিল। ছয়-সাতদিনের কাজ এখন তাত্ক্ষণিকভাবে করে নেয়া যাচ্ছে। এটি জীবনকে সহজ করেছে। তবে একই সঙ্গে উঠে আসা নিরাপত্তা ঝুঁকিটি নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে। আর্থিক খাত এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের আর্থিক খাতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইন্ডাস্ট্রি ও প্রযুক্তি সেবাদাতাদের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই অ্যাড্রেস করতে হবে
আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন






