সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা হতে পারে না। এ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মাধ্যম হিসেবে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করে, সেগুলোকে অনেকেই রাষ্ট্র, সরকার, আইন কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে স্তব্ধ করে দিতে চায়। তাদের এসব প্রয়াসের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতেই গণমাধ্যমকর্মীদের সংঘবদ্ধতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গোটা সমাজের মধ্যেও এ চিন্তার সঞ্চার করা দরকার যে সংবাদপত্র বা অন্যান্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কেবল কয়েক হাজার সাংবাদিকের মনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের হাতিয়ার নয়। বরং গণমাধ্যম যদি সচল বা উচ্চকণ্ঠী হতে না পারে, তবে গোটা সমাজের মধ্যেই নানা ধরনের অধিকার ব্যাহত হতে বাধ্য। ফলে যেকোনো দেশেই গণমাধ্যমের বিকাশ ও সে সমাজের সার্বিক গণতান্ত্রিক বিকাশ একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। পৃথিবীর যেকোনো জায়গার জন্যই এ ঘটনা সত্য, আবার এটাও সত্য যে সবচেয়ে বড় একটা বৈপ্লবিক পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের কণ্ঠস্বরকে বন্ধ করার একটা প্রবণতা থাকে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য এক রূপান্তরকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এমনকি গণমাধ্যম ও রাজনীতিসহ নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যখন লড়াই হচ্ছে, তখন এ প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রান্ত হচ্ছে গণতন্ত্রেরই নামে। যে অদ্ভুত স্লোগানগুলো তারা উত্থাপন করছে, এর মাধ্যমে জুলাইযুদ্ধের চেতনাকে আরো অপমানিত করা হচ্ছে।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা ও আগুন দেয়া কারো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়। বিষয়টা শুধু একটি ভবনের ওপর আক্রমণ নয়; বরং মধ্যযুগীয় বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ। পৃথিবীর সভ্যতা বিকাশের এ পর্যায়ে, কতগুলো সাংবাদিককে ওপরে রেখে, চারদিকে আগুন দিয়ে, দমকল বাহিনীকে বাধা দেয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মধ্যযুগীয় একটা বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ।

গণমাধ্যমের ব্যক্তিদের এ হামলার ঘটনাকে সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই। কারো সমর্থন আছে কি নেই, সেটার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক নেই। বরং এমন পরিস্থিতিতে সব গণমাধ্যম সমানভাবে হুমকির মুখে আছে। আজকে এটার মধ্যে হয়েছে, কালকে আপনারটার মধ্যে হবে। পরশু দিন আরেকটার মধ্যে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, ভিন্ন ভিন্নভাবে মানুষ কথা বলবে। এ বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।