গণমাধ্যম শিল্পে যত দ্রুত আচরণবিধি নিয়ে এসে আমরা অনুসরণ ও প্রয়োগ করতে পারব, তত দ্রুত সাংবাদিকতার মান আমরা বাড়াতে পারব। অন্যথায় সাংবাদিক পরিচয়ের যে অবমূল্যায়ন ঘটছে, তা বন্ধ করা সম্ভব হবে না। এদিকে গুরুত্ব দিতে পারলে একই সঙ্গে আরেকটা বিপদও দূর হবে। সাংবাদিকরা অনেক সময় একাধিক টুপি পরিধান করেন—কখনো খণ্ডকালীন রাজনীতিবিদ, কখনো খণ্ডকালীন ঠিকাদার, কখনো খণ্ডকালীন শিক্ষক, কখনো খণ্ডকালীন উকিল। ফলে সাংবাদিকতা পেশাকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করা হয় না। কোনো সাংবাদিক রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হলে তাকে কি আমরা সাংবাদিক পরিচয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বলে শিরোনাম করব? অবশ্য গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক গ্রেফতারের নিন্দা আমরা সবসময় করব। কারণ গণতন্ত্রে গ্রেফতার কোনো ভাষা হতে পারে না।
গণতন্ত্র হবে যুক্তির কথা, বিতর্কের কথা, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা পথ খুঁজে নেয়ার প্রশ্ন। কিন্তু তিনি কি সাংবাদিক পরিচয়ের জন্য গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি অন্য একাধিক পরিচয়ের কারণে—এ ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাই আমরা। মানুষ বুঝতে পারে না যে একজন সাংবাদিক কেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে, মিছিল করে বা রাস্তায় হাঙ্গামা করার জন্য জেলে যাবে।
সাংবাদিক সুরক্ষার জন্য আমরা একটা সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের সুপারিশ করেছিলাম সংস্কার কমিশন থেকে এবং এ সুরক্ষা আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন সবাই। আমার তো মনে হয় না যে কেউ এ সুরক্ষা আইনের বিরোধিতা করেছেন।
আমি যতটুকু শুনেছি, সম্পাদক পরিষদ, মালিকদের সংগঠন এবং এ শিল্পের বিভিন্ন ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সবাই এ সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।





