দ্রুত সেখানে যেতে হবে। রবীন্দ্র সরণিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলেও পুলিশ তাদের ওপর হামলা করে। আমি একটি ডিভাইডারের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম, পুলিশ থানার ভেতরে গিয়ে ছাদে উঠে গুলি করছে। কিছুক্ষণ পরই বুঝতে পারলাম আমার ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডার অস্বাভাবিকভাবে ভেজা, হাত দিয়ে মুখ ছুঁয়ে দেখলাম আমার কপাল বেয়ে রক্ত ঝরছে। একই সঙ্গে হাতে ও পেটে ব্যথা অনুভব করছিলাম। ছররা গুলি এসে আমার শরীরে লেগেছিল। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং কিছুদিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়েছে। আঘাতের কারণে আমার দৈনন্দিন কাজকর্ম, চলাফেরা ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। নিয়মিত ওষুধ, ড্রেসিং, ফিজিওথেরাপি ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হয়েছে। শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে লম্বা সময় লেগেছে। এখনো মাঝে মাঝে আঘাতের জায়গাটাতে অস্বস্তি, ব্যথা ও দুর্বলতা অনুভব করি।

শুধু শারীরিক নয়, এ ঘটনার কারণে আমি মানসিকভাবেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দীর্ঘদিন পর্যন্ত আতঙ্ক, উদ্বেগ ও অনিরাপত্তাবোধে ভুগেছি। হঠাৎ কোনো বিকট শব্দ শুনলে বা পুলিশের উপস্থিতি দেখলেই সেই দিনের স্মৃতি বারবার ফিরে আসত এবং অজানা এক ভয় কাজ করত। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতাম না। দুঃস্বপ্ন পিছু ছাড়ত না, ফলে মানসিক অস্থিরতা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরাও আমার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, ফলে তারাও মানসিক চাপে ছিলেন। আমার কর্মস্থল থেকেও সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন, নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন এবং ওই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে বেশ সহযোগিতা করেছেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত কিছুটা শুকিয়েছে কিন্তু স্মৃতিগুলো অমলিন রয়ে গেছে।

এ ঘটনার ফলে আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এখনো সে ঘটনার স্মৃতি আমাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। একজন সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের সহিংস ঘটনার শিকার হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। এ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা আমার শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক স্থিতি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।